৩১২ নং ন্যাশনাল হাইওয়েতে এবার যুক্ত হতে চলেছে বনগাঁ-বাগদা সড়ক, NH-312 উন্নয়নে সীমান্তে ব্যবসা-পরিবহনে বাড়বে গতি
deshersamay


অবশেষে সংস্কার হতে চলেছে বাগদা সড়ক। ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়কে অন্তর্ভুক্ত হল বনগাঁ-বাগদা সড়ক।

দেশের সময়, বনগাঁ: দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে সংস্কার হতে চলেছে বাগদা সড়ক। ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়কে অন্তর্ভুক্ত হল বনগাঁ-বাগদা সড়ক। প্রথম পর্যায়ের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানান রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। জঙ্গিপুর থেকে বসিরহাট পর্যন্ত ৩১৮ কিমি চার লেনের রাস্তা তৈরি হবে। সীমান্ত সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই রাস্তা। এই প্রকল্পে বনগাঁ-বাগদা সড়ক যুক্ত হওয়ায় খুশি নিত্যযাত্রী থেকে স্থানীয় লোকজন সকলেই। তাঁদের দাবি, এবার মিটবে বেহাল রাস্তার যন্ত্রণা।

বনগাঁ-বাগদা সড়কের বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিনের। ছোটো বড়ো গর্তে ভরা রাস্তা। অতীতে একাধিক ছোটো বড়ো দুর্ঘটনা ঘটেছে এই রাস্তায়। বাগদা সড়কে যাতায়াতকে অনেকে নরকযন্ত্রণার সঙ্গেই তুলনা করেছেন। এই রাস্তা নিয়ে বাসিন্দারা সরব হলেই তাপ্পি মেরে সাময়িক সমাধান করার চেষ্টা করে প্রশাসন। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সমাধান আর মেলে না।


সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া দাবি করেন, চার লেনে সম্প্রসারিত হবে বাগদা সড়ক। এরপরই শুরু হয় প্রশাসনিক তৎপরতা। অবশেষে ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়কের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বনগাঁ-বাগদা সড়ক। এই বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আগে জমিজটে ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়কের কাজ শুরু করা যায়নি। বিজেপি সরকার এসেই দীর্ঘ জমিজট কাটিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে নদীয়ার দত্তপুলিয়া থেকে বসিরহাট পর্যন্ত রাস্তার কাজ দ্রুত শুরু হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই রাস্তা সীমান্ত সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাগদা সড়কের কাজ শুরু হওয়ার খবরে সকলেই খুশি। শিক্ষক তরুণ বিশ্বাস বলেন, কর্মসূত্রে এই রাস্তা দিয়ে নিত্য যাতায়াত আমাদের। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার ভয় থাকে। রাস্তার কাজ শুরু হলে খুবই ভালো হবে ।

পেট্রাপোল স্টাফ এন্ড ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন এর সম্পাদক কাৰ্তিক চক্রবর্তী বলেন, এই রাস্তার উন্নয়ন হলে বসিরহাট ও ঘোজাডাঙা সীমান্তের বাণিজ্যিক গুরুত্বও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। উন্নত সড়ক যোগাযোগের ফলে সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত ও সহজ হবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে আমদানি-রফতানি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে। পাশাপাশি বসিরহাট সীমান্তের সঙ্গে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের সড়ক যোগাযোগ আরও মজবুত হবে, ফলে ওই রাজ্যগুলির সঙ্গে পণ্য পরিবহণ, ব্যবসা- বাণিজ্য এবং আন্তঃরাজ্য যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে।
