প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

প্রয়াত নানা পাটেকর !প্রবীণ অভিনেতার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

deshersamay

Share article:

প্রয়াত প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার বাড়িতে গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দেওয়া হয়েছিল। সকাল ৫টা ২০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মণিপাল হাসপাতালের অঙ্কোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকর জানিয়েছেন, টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর দেওয়ার পরেও অভিনেতাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনায় মেডিকো-লিগ্যাল কেস নথিভুক্ত হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হবে।

বর্ষীয়ান অভিনেতার প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট করে এই কিংবদন্তি শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি।

নিজের পোস্টে শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, “কিংবদন্তি অভিনেতা শ্রী নানা পাটেকরজির আকস্মিক প্রয়াণের খবর শুনে দিনটা শুরু হওয়া চরম ধাক্কার। এটা একটা হৃদয়বিদারক অনুভূতি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, নানা পাটেকর শুধুমাত্র কোনও সাধারণ অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ক্যামেরার সামনে শুধু সংলাপ বলাই নয়, নিজের প্রতিটি চরিত্রের মধ্যে দিয়ে সমাজের রূঢ় বাস্তবকে তিনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতেন।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে সিনেমায় পা রাখেন নানা পাটেকর। হিন্দি ও মারাঠি—দুই ভাষার ছবিতেই নিজের অভিনয়ের আলাদা জায়গা তৈরি করেন। ‘পরিন্দা’, ‘অঙ্গার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘শক্তি’, ‘অপহরণ’, ‘রাজনীতি’—একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

‘পরিন্দা’ ছবির জন্য ১৯৯০ সালে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। ‘ক্রান্তিবীর’-এর জন্য ১৯৯৫ সালে সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার এবং ‘অগ্নিসাক্ষী’-র জন্য ১৯৯৭ সালে ফের সেরা পার্শ্ব অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার পান। তাঁর ঝুলিতে ছিল চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও।

মারাঠি থিয়েটার ও সিনেমার সঙ্গেও গভীর যোগ ছিল তাঁর। ‘নটসম্রাট’-এ গণপতরাও বেলওয়ালকরের চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। অন্যদিকে ‘ওয়েলকাম’ ছবিতে উদয় শেট্টির চরিত্রে অভিনয় করে কমেডিতেও নিজের দাপট দেখিয়েছিলেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও লেখালিখিতে যুক্ত ছিলেন নানা। ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবিটি পরিচালনা করেন দক্ষভাবে। ২০১৩ সালে পান ‘পদ্মশ্রী’।
১৯৭৮ সালে নীলকান্তী পাটেকরকে বিয়ে করেছিলেন নানা। পরবর্তীতে দু’জনে আলাদা থাকতেন। তাঁদের ছেলে মালহার পাটেকর বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে অভিনেতাকে। শৈশবেই তাঁর বড় ছেলে দুর্বাসের মৃত্যু হয়। বাবাকে হারিয়েছিলেন মাত্র ২৮ বছরে। পরবর্তী সময়ে নানা একাধিক সাক্ষাৎকারে তাঁর পরিবার এবং জীবনে নীলকান্তীর অবদানের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।

পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর কখনও তীব্র, কখনও সংবেদনশীল, কখনও বা সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজের চরিত্রে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে হিন্দি ও মারাঠি—দুই চলচ্চিত্র জগতেই বড় শূন্যতা তৈরি হল।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন