প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

কলকাতার ধর্মতলায় শহিদ মিনার, সংস্কারের অভাবে রং চটেছে,স্মৃতি সৌধটির বিস্ময়কর তথ্য জানুন

deshersamay

Share article:
হীয়া রায়

ব্রিটিশ আমলের অক্টারলোনি মনুমেন্ট থেকে স্বাধীন ভারতের শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ। কলকাতার ময়দানের উত্তর-পূর্ব কোণে আকাশছোঁয়া এক স্মৃতিস্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে। তার নাম শহিদ মিনার। এটি কেবল একটি স্থাপত্য নয়, ইতিহাসের সাক্ষী। একসময় এর নাম ছিল অক্টারলোনি মনুমেন্ট।

দীর্ঘ বছরের সংস্কারের অভাবে রং চটে গেছে শহীদ মিনারের……দেবাশিস রায় ।

১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে এই সৌধটি নির্মিত হয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কম্যান্ডার স্যার ডেভিড অক্টারলোনির স্মৃতিতে। তিনি ১৮০৪ সালে দিল্লিতে মারাঠাদের বিরুদ্ধে এবং পরে ইঙ্গ-নেপাল যুদ্ধে গোর্খাদের বিরুদ্ধে কোম্পানির বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে বিজয় অর্জন করেছিলেন। তাঁর এই কৃতিত্বের স্মরণেই অক্টারলোনি মনুমেন্ট নির্মাণ করা হয়।

সৌধটির নকশা করেন জেপি পার্কার। নির্মাণের দায়িত্বে ছিল Barn & Company। সরকারি অর্থে এর নির্মাণব্যয় ছিল প্রায় ৩৫,০০০ টাকা। যা সে সময়ের জন্য বিশাল অঙ্ক।

শহিদ মিনার ৪৮ মিটার (প্রায় ১৫৭ ফুট) উঁচু। এর নীচের অংশ তৈরি মিশরীয় শৈলীতে, মধ্যভাগ ক্ল্যাসিকাল ফ্লুটেড কলামের ধাঁচে, আর ওপরের গম্বুজ তুর্কি স্থাপত্যে নির্মিত। এই বহুজাতিক স্থাপত্যের সংমিশ্রণই একে করে তুলেছে অনন্য। মিনারের শীর্ষে উঠতে হলে রয়েছে ২২৩টি কুণ্ডলী-আকারের সিঁড়ি।

১৯৬৯ সালের আগস্ট মাসে যুক্তফ্রন্ট সরকার এই মনুমেন্টকে উৎসর্গ করে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে, এবং এর নামকরণ করে ‘শহিদ মিনার’। এরপর থেকেই এটি স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই মিনারের দক্ষিণে অবস্থিত শহিদ মিনার ময়দান। সেখানে বহু ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সভা হয়েছে। ১৯৩১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই মাঠে সভা করেছিলেন হিজলি জেলে তরুণ বন্দিদের হত্যার প্রতিবাদে। আজও এই মাঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৯৭ সালে এক পর্যটকের আত্মহত্যার পর থেকে মিনারে ওঠার অনুমতি বন্ধ হয়। বর্তমানে ওপরে উঠতে হলে লালবাজার পুলিশ সদর দফতর থেকে অনুমতি নিতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ফটো আইডি, পর্যটকদের হোটেলের প্রমাণপত্র, বিদেশিদের পাসপোর্টের অনুলিপি জমা দিতে হয়। এই সৌধের শীর্ষভাগে শেষবার উঠেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী ও তাঁর পরিবারের লোকজন।

২০১১ সালে রাজ্য সরকার শহিদ মিনারের সংস্কার কাজ শুরু করেছিল। প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে ২০১২ সালের ১৫ জুন। খরচ পড়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। এরপর মিনারটির ভেতর ও বাইরে আলোকিত করা হয় এবং নতুন রঙে রাঙানো হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে পাদদেশে অস্থায়ী মঞ্চ ও স্মারক দোকান স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আজ শহিদ মিনার শুধু ঐতিহাসিক কোনও স্থাপত্য নয়, এটি কলকাতার গৌরব ও স্বাধীনতার প্রতীক। রাতে আলোকিত হয়ে এটি শহরের আকাশরেখায় অনন্য শোভা যোগ করে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য এটি কলকাতা ভ্রমণের অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

শহিদ মিনারের পাদদেশে রয়েছে বাসস্ট্যান্ড। যেখান থেকে কাছাকাছি দূরত্বের এবং দূরপাল্লার বহু বাস ছাড়ে। আর, এই মিনার এমন এক জায়গায়, অর্থাৎ শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায়, কলকাতা শহরে যাতায়াত করা লোকজন প্রতিদিন এই মিনারটি দেখতে পান।

শহিদ মিনারের মত এমন মিনার পশ্চিমবাংলা তো বটেই গোটা ভারতে বিরল। ঐতিহ্যের কারণে এই মিনারকে দিল্লির কুতুব মিনারের সঙ্গে অনেকেই তুলনা করেন। যদিও কুতুব মিনার অনেক বেশি প্রাচীন।

সম্প্রতি কলকাতার ধর্মতলায় শহিদ মিনার এর রঙ চটে গিয়েছে ছবিতে দেখা যাচ্ছে এবং প্লাস্টার খসে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তবে হেরিটেজ নিয়ম মেনে সাধারণত প্রশাসন বা কলকাতার পুরসভার ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি দ্রুত এর সংস্কার ও নতুন করে রং করার দ্রুত উদ্যোগ ন্যায় কি না সেটাই দেখার ।

এই প্রতিবেদনটি ঐতিহাসিক দলিল ও সরকারি সূত্রের ওপর ভিত্তি করে লেখা। তথ্যের যথাসম্ভব নির্ভুলতা বজায় রাখা হয়েছে, তবে সরকারি পরিবর্তনের কারণে কিছু তথ্য সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। (Disclaimer)

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন