প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

গত দুই দশকে ব্রিকসের সম্মেলন থেকে  কী পেল ভারত

deshersamay

Share article:

আগামীকাল শনিবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দুদিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। শনি ও রবিবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবারই নয়াদিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন। শনিবার সকালে পৌঁছবেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাত বছর পর ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট।‌

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের একান্ত বৈঠকে কী কথা হয় তা নিয়ে গোটা বিশ্বে কৌতূহল আছে। ব্রিকসের দিল্লি শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্ব বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং কূটনীতি নিয়ে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখার আসন্ন ঘোষণা নিয়েও তুমুল কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, ব্রিকসের দিল্লি সম্মেলন নিয়ে বাড়তি কৌতূহলের কারণ, ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে তৈরি জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি তুলনায় ব্রিকসের আর্থিক প্রগতি অনেক বেশি।

শুক্রবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে সে কথাই বারে বারে উল্লেখ করেছেন জি-৭ এর সাবেক সদস্য রাষ্ট্র রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। ক্রিমিয়া আক্রমণের জেরে রাশিয়াকে ওই জোট থেকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে জি-৮ এখন‌ জি-৭। পুতিনের কথায় জি-৭-এর এখন‌ আর কোনও গুরুত্ব নেই।  

শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ ব্রিকসভুক্ত দেশগুলিতে বাস করে। প্রতিটি দেশই মজবুত অর্থনীতি। পুতিন ও মোদী স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, জি-৭ ভুক্ত দেশগুলির সামগ্রিক গড় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের তুলনায় ব্রিকসের সমৃদ্ধির হার বেশি।

প্রধান উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক নীতির সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসাবে BRICS-এর গুরুত্ব বেড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রশাসন ও বিশ্ব পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে সদস্য দেশগুলি এই মঞ্চে অভিন্ন অবস্থান নিয়ে চলছে। ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্লোবাল সাউথের বা অনুন্নত বিশ্বের স্বার্থ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে BRICS। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনসম্পর্কের মতো বিভিন্ন বিষয় এর আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

এবার নিয়ে চতুর্থবারের মতো BRICS-এর সভাপতিত্ব করছে ভারত। ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হল ‘স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও সুস্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ’।

বর্তমানে BRICS-এর সদস্য দেশগুলিতে সম্মিলিতভাবে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৯.৫ শতাংশ, আন্তর্জাতিক জিডিপির ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশের অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেশগুলির বিপুল জনসংখ্যাগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে। সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকা পর্যন্ত BRICS-এর ভৌগোলিক পরিসরও বেড়েছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যে রয়েছে বৃহৎ বাজার, প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা।

শুরুতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আরও গণতান্ত্রিক, গ্রহণযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে সুস্থায়ী অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সকলের সমৃদ্ধির উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে এই অগ্রাধিকারগুলি সদস্য দেশগুলির মধ্যে আরও গভীর ও বিস্তৃত সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে।

সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং কৃষি এই আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। শ্রম ও কর্মসংস্থান, টেলিযোগাযোগ, আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়েও BRICS আলোচনা করে। WTO এবং আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থার মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব ও সমতার পক্ষে BRICS অবস্থান নিয়েছে। এর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক প্রশাসনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, কার্যকর এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তোলা।ভারত সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের আন্তর্জাতিক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় BRICS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিনকে নিয়ে রাজনৈতিক সহযোগিতার মঞ্চ হিসেবে BRIC আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলির অভিন্ন লক্ষ্য ছিল আরও প্রতিনিধিত্বমূলক ও সমতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার পর BRIC-এর নাম হয় BRICS। এর ফলে, বিভিন্ন মহাদেশে গোষ্ঠীটির ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের মতো ক্ষেত্রেও BRICS-এর আলোচনার পরিসর বাড়ে।

BRICS-এর সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শুরু হয় ২০২৪-এর জানুয়ারিতে। মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। ২০২৫ সালে ১১ তম সদস্য হিসাবে যোগ দেয় ইন্দোনেশিয়া। এর ফলে BRICS-এর ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একইসঙ্গে তৈরি হয়েছে Partner Country বা অংশীদার দেশ-এর নতুন শ্রেণি। ২০২৫ সালে এই কাঠামোর অধীনে ১০টি দেশ যোগ দেয়। দেশগুলি হল বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম। এই নতুন ব্যবস্থায় BRICS-এর সঙ্গে কাঠামোবদ্ধভাবে সহযোগিতার আরও একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

BRICS-এর বিবর্তন দেখায়, চার দেশের অর্থনৈতিক সংলাপ থেকে এটি এখন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতার একটি বিস্তৃত কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। সম্প্রসারণের ফলে এর জনসংখ্যাগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্র। উদীয়মান অর্থনীতিগুলির পরিবর্তিত অগ্রাধিকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে BRICS-এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও বিকশিত হয়েছে।

BRICS-এর সংক্ষিপ্ত নামের অক্ষরগুলির ক্রম অনুযায়ী প্রতি বছর সভাপতিত্বের দায়িত্ব পরিবর্তিত হয়। প্রতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশের সভাপতিত্ব থাকে। যে দেশ সভাপতিত্ব করে, সেই দেশ ওই বছরের আলোচ্যসূচির অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে।

ভারত এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে BRICS-এর সভাপতিত্ব করেছে। প্রতিটি সভাপতিত্বের সময় সংশ্লিষ্ট সময়ের অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বারবার BRICS-এর নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে এই গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়েছে। একইসঙ্গে গঠনমূলক বহুপাক্ষিকতা এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির অগ্রাধিকারের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারও প্রতিফলিত হয়েছে।

২০১২-র ২৯ মার্চ নয়াদিল্লিতে চতুর্থ BRICS শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে ভারত। “BRICS Partnership for Global Stability, Security and Prosperity” বা “আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য BRICS অংশীদারিত্ব” ছিল সম্মেলনের মূল ভাবনা। আন্তর্জাতিক প্রশাসনের সংস্কার, সুস্থায়ী উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে BRICS সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে দিল্লি ঘোষণা এবং একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়। এর ফলে,পরিকাঠামো ও সুস্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ জোগানের জন্য নতুন একটি উন্নয়ন ব্যাঙ্ক গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্থির হয় প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি BRICS-এর পাশাপাশি, অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলিকেও সহায়তা করার জন্য কাজ করবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে বিদ্যমান বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির পরিপূরক হিসাবে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল এই প্রতিষ্ঠানের।

পরিকাঠামো ও সুস্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ জোগানের জন্য নতুন একটি উন্নয়ন ব্যাঙ্ক গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্থির হয় প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি BRICS-এর পাশাপাশি, অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলিকেও সহায়তা করার জন্য কাজ করবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে বিদ্যমান বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির পরিপূরক হিসাবে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল এই প্রতিষ্ঠানের।

  • সদস্য দেশগুলি স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা এবং BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে Master Agreement on Extending Credit Facility in Local Currency-তে স্বাক্ষর করে।
  • BRICS-এর সদস্য দেশগুলির জন্য আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসাবে Contingent Reserve Arrangement (CRA) তৈরির ভিত্তিও এই সম্মেলনে গড়ে ওঠে। এর লক্ষ্য ছিল স্বল্পমেয়াদী সহায়তা দেওয়া এবং আর্থিক অস্থিরতা মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলিকে সহায়তা করা।
  • কৃষি, স্বাস্থ্য এবং বিজ্ঞান ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতার জন্য নতুন যৌথ উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় ভারত।
    ২০১৬: গোয়া সম্মেলনে BRICS-এর পরিসর আরও বাড়ল
    ২০১৬ সালের অক্টোবরে গোয়ায় অষ্টম BRICS শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে ভারত। ‘Building Responsive, Inclusive and Collective Solutions’ বা ‘দায়বদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও যৌথ সমাধান গড়ে তোলা’ ছিল সম্মেলনের মূল ভাবনা। ভারতের সভাপতিত্বে BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি, বাইরের দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য, উদ্ভাবন এবং বহুপাক্ষিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া হয়। গোয়া সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উদীয়মান চ্যালেঞ্জ এবং বাস্তব সহযোগিতার উপর BRICS-এর গুরুত্ব আরও জোরালো হয়। যেমন,
  • নবগঠিত New Development Bank (NDB)-এর কার্যক্রম আরও সুসংহত হয়। প্রথম দফার ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে এর কাজ আরও এগিয়ে যায়। এই ঋণের বড় অংশ পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে দেওয়া হয়।
  • পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির সুযোগ বাড়ানো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে যৌথ অগ্রাধিকার হিসাবে তুলে ধরা হয়।
  • HIV ও যক্ষ্মা মোকাবিলায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
  • সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় BRICS-এর ঘোষণায় আরও জোরালো অবস্থান নিশ্চিত করে ভারত। একইসঙ্গে FATF (Financial Action Task Force)-এর মানদণ্ড মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
  • Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation (BIMSTEC)-এর আউটরিচ সম্মেলনের মাধ্যমে BRICS এবং বৃহত্তর বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ, পরিবেশ, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়।
  • BRICS Agriculture Research Platform, BRICS Railway Research Network, BRICS Sports Council এবং যুবসমাজকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সহযোগিতার মঞ্চ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়।
    করোনার কারণে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ভার্চুয়াল মাধ্যমে ১৩তম BRICS শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে ভারত। BRICS-এর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বছরেই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘BRICS@15: Intra-BRICS Cooperation for Continuity, Consolidation and Consensus’ ছিল সম্মেলনের মূল ভাবনা। প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেয় ভারত। স্বাস্থ্য, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং সুস্থায়ী উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া হয়। ভারত BRICS Counter-Terrorism Action Plan গ্রহণে নেতৃত্ব দেয়। ভারতের সভাপতিত্বে প্রথমবারের মতো BRICS Digital Health Summit অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান ও ভবিষ্যতের অতিমারি মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের লক্ষ্যে BRICS Vaccine Research and Development Center গড়ে তোলা হয়। BRICS Remote Sensing Satellite Constellation নিয়ে সহযোগিতার চুক্তি হয়। এর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পর্যবেক্ষণের জন্য সদস্য দেশগুলি দূর অনুধাবন প্রযুক্তির তথ্য ভাগ করে নিতে পারে। সুস্থায়ী সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ভারত নতুন মন্ত্রী পর্যায়ের সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে ছিল BRICS Alliance for Green Tourism এবং প্রথম BRICS Water Ministers Meeting।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পরপর BRICS-এর সভাপতিত্ব করার মাধ্যমে এর প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকরী বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ভারত। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতের অগ্রাধিকারগুলিও বদলেছে। একইসঙ্গে বাস্তব সহযোগিতার উপর গুরুত্ব বজায় রয়েছে।
ভারতে ২০২৬ সালের BRICS সভাপতিত্ব এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা অর্থনৈতিক বিভাজন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও সম্পদের উপর চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত এই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংলাপ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় BRICS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্প্রসারিত সদস্যপদ বড় বড় উদীয়মান অর্থনীতির বিভিন্ন মতামতকে এক মঞ্চে নিয়ে এসেছে। উন্নয়ন, জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে BRICS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার নিয়েও আলোচনায় অবদান রাখতে পারে এই গোষ্ঠী।

ভারতের কাছে লক্ষ্য শুধু BRICS-এর পরিসর বাড়ানো নয়। আরও বেশি প্রতিনিধিত্বকে কার্যকর সহযোগিতা ও বাস্তব ফলাফলে পরিণত করাই মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন সদস্য দেশের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার পাশাপাশি, বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলির কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর উপর ভারতের সভাপতিত্বে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গঠনমূলক শক্তি হিসাবে BRICS-কে আরও শক্তিশালী করতে চায় ভারত।

Tags: দেশ

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন