এক সপ্তাহের মধ্যেই বনগাঁর যশোহর রোডের দু’পাশে ‘মৃত এবং বিপজ্জনক’গাছ কাটার কাজ শুরু হবে: জানালেন খাদ্যমন্ত্রী: দেখুন ভিডিও
deshersamay

দেশের সময় : বনগাঁর যশোহর রোডের দু’পাশে ‘মৃত এবং বিপজ্জনক’ বলে চিহ্নিত মোট ৫০০টি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া জানিয়েছেন, যশোহর রোডের ধারে মোট ১১১টি গাছ কাটার টেন্ডার ডাকার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই সব গাছ কাটার কাজ শুরু হবে। কিছুদিন আগেই যশোহর রোডের বিপজ্জনক গাছের ডাল ভেঙে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। এ দিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে ৪ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন খাদ্যমন্ত্রী।

বনগাঁর যশোহর রোডের দু’ধারেই রয়েছে বড় বড় পুরোনো গাছ। তার কোনওটিরও বয়স একশো বছরের বেশি। তার মধ্যে বহু গাছেরই মৃত্যু হয়েছে। তার ডালপালা ভেঙে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। এই কারণে গত কয়েক বছরে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে জখম হয়েছেন। অনেক বাড়িঘর ও দোকানপাট নষ্ট হয়েছে।

রাস্তার দু’পাশে গাছ থাকার ফলে যশোহর রোডের সম্প্রসারণের কাজও থমকে রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে যশোহর রোড সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও পরিবেশকর্মীদের আপত্তিতে গাছ কাটা সম্ভব হয়নি। তা নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। গত ৫ জুলাই যশোহর রোডের উপর বাইক নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গাছের ডাল ভেঙে মৃত্যু হয় বনগাঁর সিকদারপল্লির যুবক বাপন বিশ্বাসের। সে কথা মাথায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে যশোহর রোডের পাশ থেকে সমস্ত মৃত ও বিপজ্জনক গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। দেখুন ভিডিও

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র বনগাঁ শহরেই যশোহর রোডের ধারে মৃত এবং বিপজ্জনক গাছের সংখ্যা প্রায় ৫০০টি। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, দুটি ভাগে গাছ কাটা হবে। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘গাছ কাটার ক্ষেত্রে পরিবেশ এবং বন দপ্তরের ছা়ডপত্র লাগবে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই এক সপ্তাহের মধ্যেই গাছ কাটার কাজ শুরু হয়ে যাবে।’ বনগাঁর ইছামতী নদীতে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজও দ্রুত শুরু হবে বলে খাদ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। এর জন্য ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থ দপ্তর সবুজ সঙ্কেত দিলেই ইছামতীর কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ শুরু হবে।

বনগাঁর এসডিও শুভম মৌর্য বলেন, ‘যশোহর রোডের পাশে আপাতত ১১১টি গাছ কাটার কাজ শুরু হবে। আরও ৩৮৯টি গাছ চিহ্নিত করা হয়েছে কাটার জন্য।’

