Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

CAA Notificationসিএএ নিয়ে মমতাকে বিঁধলেন শাহ, ‘মিথ্যা রাজনীতি’ না করার আর্জি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

deshersamay

Share article:

সিএএ-এর সমর্থনে ফের সওয়াল করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ জানান, সিএএ-তে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার সংস্থান নেই।

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ বিভ্রান্তি এবং বিতর্কের মধ্যেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA ) নিয়ে রাজনীতি করার জন্য তৃণমূল নেত্রী ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে তফাত বুঝতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে শাহ জানান, সিএএ-তে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার সংস্থান নেই। এই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য বিরোধী নেতানেত্রীদেরও তোপ দেগেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ বলেন, “হাতজোড় করে বলছি, রাজনীতি করবেন না। বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের সঙ্গে অবিচার করবেন না।” পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ‘শরণার্থী এবং অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে পার্থক্য বোঝেন না’ বলেও কটাক্ষ করেন শাহ।

বৃহস্পতিবার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে মমতা বলেছেন, অসমের মতো বাংলায় তিনি ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেবেন না। সিএএ-র সঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) সম্পর্ক আছে। মমতার বক্তব্য খণ্ডন করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারী এক নয়, উনি এটার ফারাক ধরতে পারছেন না।

অন্য দিকে, সিএএ-র বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো অব্যাহত রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাও। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি সিএএ-র বিরুদ্ধে সরব হয়ে বলেছিলেন, “এটা বাংলাকে আবার ভাগ করার খেলা। মুসলিম, নমঃশূদ্র, বাঙালিদের তাড়ানোর খেলা এটা। আমরা এটা করতে দিচ্ছি না। দেব না। আমরা সবাই নাগরিক। সিএএ করলে যাঁরা নাগরিক, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী হয়ে যাবে।’’ বুধবার শিলিগুড়িতেও মমতার আক্রমণের সেই সুর বজায় থেকেছে।


একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ আরও বলেন, সেদিন আর দূরে নয়, যেদিন বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসবে আর অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। মমতা এবং তাঁর দল যদি জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে এরকম রাজনীতি করেন, তাহলে দেশের মানুষ তাঁদের সঙ্গ দেবেন না। শাহের কথায়, তোষণের রাজনীতি করে আপনারা অনুপ্রবেশ বন্ধ করছেন না। শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান আটকে দিলে দেশের মানুষ আপনাদের সঙ্গে থাকবে না।

শাহ আরও বলেন, রাজনীতি করার অনেক রাস্তা আছে। কিন্তু, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, সেই বাঙালি হিন্দুদের ক্ষতি করবেন না। আপনি নিজেও তো একজন বাঙালি। মমতাকে চ্যালেঞ্জ ঠুকে শাহ বলেন, সিএএ-র একটি অংশকে দেখান তো যেখানে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সিএএ নিয়ে রাজনীতি না করে বাংলা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ রোধের দিকে মন দেওয়ার পরামর্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করছেন। অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পের কথা না তুলে সে রাজ্যের মতো অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করার ব্যবস্থা করুন মমতা। আমি খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলছি, সিএএ-তে একজনেরও নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে সেটা আমাকে দেখান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সিএএ নিয়ে আমরা কখনও আপস করব না। এই আইন ফিরিয়ে নেওয়াও হবে না।

ইন্ডি জোটকে আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, বিরোধীদের কোনও কাজ নেই। ওরা জানে এবারেও ওদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই। ওরা একসময় এক কথা বলে, পরক্ষণে অন্য কথা বলে, ইতিহাস তার সাক্ষী আছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। মোদীর দেওয়া সমস্ত গ্যারান্টি পূর্ণ করা হয়েছে। সিএএ নিয়ে বিরোধীদের বক্তব্যের জবাবে শাহ বলেন, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যার রাজনীতি করছেন। ফলে কোন সময়ে আইন কার্যকর হল সে প্রশ্ন ওঠেই না।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে ভারতীয় নাগরিকত্ব সুরক্ষিত রাখা আমাদের সার্বভৌম অধিকার। আমরা তার সঙ্গে আপস করব না। সিএএ কখনও প্রত্যাহার করা হবে না।” সিএএ নিয়ে দেশ জুড়ে কেন্দ্র সচেতনতামূলক প্রচার করবে বলেও জানান তিনি। ২০১৯ সালে আইনে পরিণত হয়ে গেলেও কোভিড অতিমারির জন্য দেশে সিএএ কার্যকর করা যায়নি বলে বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন শাহ। তিনি জানান, ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির ইস্তাহারে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এই সূত্রেই শাহের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কথা দিয়ে তা রাখেন।

নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানানোর কোনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি বলেও আশ্বস্ত করেছেন শাহ। জানিয়েছেন, আসল নথি নিয়ে যেতে হবে ইন্টারভিউয়ের জন্য। ধীরেসুস্থে আবেদন করলেও চলবে। শাহের কথায়, “আপনার সময় মতো ভারত সরকার ইন্টারভিউর জন্য ডাকবে। যাঁদের নথি নেই, তাঁদের বিষয়টি পরে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement
Tags: featured

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন