সংঘর্ষের অষ্টম দিন , আজ রাতেই ইরানে আরও বড় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

0
118

আরবদুনিয়ার সংঘাত শনিবার আটদিনে পড়ল । দিন যত এগোচ্ছে উত্তেজনার পারদ চড়ছে ততই। এরমধ্যেই আমেরিকার তরফে ইরানের জন্য এক বড় হুঁশিয়ারি। শনিবার রাতেই সবচেয়ে বড় বোমা হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী।

এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই হামলার লক্ষ্য হবে ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটি, মিসাইল তৈরির কারখানা এবং সামরিক ঘাঁটি। তাঁর দাবি, এই আঘাতে ইরানের সামরিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক শক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁর কথায়, ইরানের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে । আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। একই সময় ইরান ইজরায়েলের দিকে মিসাইল ছুড়ে পাল্টা হামলা চালায়। ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজতে শুরু করে এবং মানুষকে নিরাপত্তার জন্য ঘর ছেড়ে আশ্রয় শিবিরেও  যেতে দেখা যায়। তবে এই ঘটনায় এখনও কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সংঘাতের পরিধি আরও বাড়তে শুরু করেছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাহরিনে সাইরেন বেজে ওঠে, কারণ সেখানে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা ছিল। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের শায়বা তেলক্ষেত্রের দিকে আসা ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে এবং প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক মিসাইলও প্রতিহত করা হয়েছে।

এর মধ্যেই আমেরিকা ইজরায়েলের  জন্য নতুন করে ১৫১ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করলে কোনও আলোচনায় বসা হবে না।

অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, দেশ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে তেহরান। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট করে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির কাছে পরাজিত। প্রতিবেশীদের কাছে ইরান আত্মসমপর্ণ করেছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে তারা আর আক্রমণ করবে না। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের আক্রমণের কারণেই এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান।’

ট্রাম্পের মন্তব্যের কিছু আগেই ইরানের রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ সম্মত হয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে ইরানের উপরে হামলা না হওয়া পর্যন্ত তাদের উপরে নতুন করে হামলা চালাবে না ইরান। উল্লেখ্য, ইরানের উপরে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী আক্রমণ করার পরেই সৌদি আরব, কাতার, ওমান-সহ একাধিক প্রতিবেশী দেশে আমেরিকার সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইরান।

Previous article৬০ লক্ষ মানুষ বিচারাধীন থাকলে, প্রধানমন্ত্রীও বিচারধীন, ধর্মতলার মঞ্চ থেকে SIR-ক্ষোভ উগড়ে দিলেন অভিষেক
Next articleরাষ্ট্রপতির আক্রমণের পাল্টা মমতার , দ্রৌপদী মুর্মুর পাশে থেকে বাংলায় পোস্ট প্রধানমন্ত্রী মোদীর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here