Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

রাষ্ট্রপতির আক্রমণের পাল্টা মমতার , দ্রৌপদী মুর্মুর পাশে থেকে বাংলায় পোস্ট প্রধানমন্ত্রী মোদীর

deshersamay

Share article:

রাষ্ট্রপতির বঙ্গ সফর এরাজ্যের রাজনীতির অধ্যায়ে আরও এক বিতর্কিত ইস্যু হয়ে উঠছে। সভাস্থল বদল থেকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে স্বাগত জানাতেও মুদ্রমন্ত্রীর
অনুপস্থিতি, বাংলার জনজাতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্বেগ, একের পর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারদ চড়ছে। এবার এই প্রসঙ্গে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন।

শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনুযোগের সুর শোনা গিয়েছিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মুখে। সন্ধ্যায় ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বললেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠিয়েছে বিজেপি, ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন উনি।’ শিলিগুড়ি আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে গিয়ে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় উষ্মাপ্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি।

পাল্টা মমতা বলেন, ‘বছরে একবার আসুন আমি রিসিভ করব। কিন্তু বছরে পঞ্চাশ বার আসলে, আমার কি সময় আছে? আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে SIR-এর নিয়ে ধর্নায় আছি, আপনার মিটিংয়ে যাব কী করে? কোনটা আমার প্রায়োরিটি? আপনার কাছে বিজেপি প্রায়োরিটি, আমার কাছে মানুষ প্রায়োরিটি।’ অন্য দিকে, রাষ্ট্রপতির অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শনিবারের অনুষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, ‘আমার দেখে মনে হচ্ছে না, সাঁওতাল সমাজ বা আদিবাসী সমাজের মানুষের সরকারি কোনও সুযোগ সুবিধা পান। আদৌ সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা তাঁরা পান কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে৷’ পাল্টা মমতা ধর্নামঞ্চ থেকে বলেন, ‘মণিপুরে যখন আদিবাসীদের উপর অত্যাচার হচ্ছিল, তখন চুপ ছিলেন কেন? তখন কেন প্রতিবাদ করেন না? দেশের অন্য রাজ্যে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার হলে চুপ থাকেন। বাংলাকে শুধু নিশানা।’ বক্তব্যের মাঝেই রাজ্য সরকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য কী কী করেছে, সে ব্যাপারে পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মমতা।

অন্য দিকে, সকালের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন। সেখানে মোদী লেখেন, ‘জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী।’

অন্য দিকে, সকালের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন। সেখানে মোদী লেখেন, ‘জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতির বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী।’ 

প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, ‘এটিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতো হালকা ভাবে দেখছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’

আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য কাজ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘আপনি আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন হবে না। কিন্তু SIR নিয়ে তো কিছু বললেন না। কত আদিবাসীদের নাম SIR-এ বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটা জানেন? ওদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। একবার দয়া করে খোঁজ নিন। সাঁওতালদের নিয়ে আমরা কী করি সেটাও খোঁজ নিয়ে নিন।’ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর থেকে সময় চেয়ে নিয়ে রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা রাজ্য সরকারের খতিয়ান পত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতর।

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন