

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেল। রবিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ঘোষণা করেন, ২০২৬-এ বাংলায় দু’দফায় ভোট হবে। ২৩ এপ্রিল ও ২৬ এপ্রিল রাজ্যে নির্বাচন হবে। ফল ঘোষণা আগামী ৪ মে।
সব বদলে দিলেও, তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন হবে। আবারও নবান্নে তৃণমূলেরই সরকার আসছে— সোমবার ধর্মতলার সভা থেকে হুঙ্কার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এ দিন কলেজ স্কোয়্যার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করে তৃণমূল। রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে হঠকারী সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে কলেজ স্কোয়্যার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিলের পরে ধর্মতলায় সভা করেন মমতা। সেখান থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, কলকাতার সিপি, রাজ্য পুলিশের ডিজি বদল নিয়েও সরব হন তিনি।

রবিবার ভোট ঘোষণার পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মিনাকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। সোমবার সকালে সরানো হয় কলকাতার সিপি সুপ্রতিম সরকার ও রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে।

মমতার কথায়, ‘আপনারা রাত সাড়ে ১২টার পরে নন্দিনী চক্রবর্তীকে বের করে দিলেন। বিজেপির দালালি করতে গিয়ে রাজ্যকে জিজ্ঞাসা করার দরকার মনে করলেন না। ধিক আপনাদের। হোম সেক্রেটারিও বাদ। তিনি তো নন বেঙ্গলি, কেন বাদ হলেন? ভারপ্রাপ্ত ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, বিনীত গোয়েল তো নন বেঙ্গলি ছিলেন। তার মানে নন বেঙ্গলি এফিশিয়েন্টদেরও বাদ দিয়েছেন। আসলে বিজেপির কথায় কারা কাজ করবেন, দেখে দেখে চয়েস করছেন। এটা বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ। জেনে রাখুন, যে অফিসারই পাঠান, তাঁরা সবাই আমাদের হয়েই কাজ করবেন, মানুষের হয়ে, বাংলার হয়ে কাজ করবেন। বিজেপির কথায় আইসি চেঞ্জ করবেন, ডিএম চেঞ্জ করবেন দেড় মাসের জন্য। মনুষ্যত্ব বদলাতে পারবেন না।’

রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনা নিয়ে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর প্রশ্ন, এ বার কি তাঁর বাড়িতে হামলা হবে? কালীঘাটে হামলা হবে? মমতার কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী মিটিংয়ে বলছেন, চুন চুনকে মারেঙ্গে। আমি ওঁকে বলি দেশকে কী ভাবে রক্ষা করবেন? আপনার মুখে এটা শোভা পায় না। মানুষ আর কত লাইন দেবে? নোটবন্দি, আধার কার্ডের লাইন, SIR-এর লাইন, এখন আবার গ্যাসের জন্য লাইন। মানুষকে লাইন দেওয়াতে দেওয়াতে নিজেরাই বেলাইন হয়ে যাবেন। দেশের সর্বনাশ করে দিচ্ছেন।’

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরের দিনই আবার রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক কর্মসূচি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যদিও এই কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত। তবে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পরের দিন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের শীর্ষস্তরের আমলা থেকে পুলিশ আধিকারিকদের বদলি হয়েছে।

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে ফের রাজপথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দেশ তথা বাংলাজুড়ে গ্যাস সঙ্কটএবং গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির (LPG Gas Crisis) প্রতিবাদে সোমবার মিছিল করছেন তিনি। গত সপ্তাহেই এসআইআর ইস্যুতে টানা পাঁচ দিন ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচি করেছিলেন মমতা। আর ভোট ঘোষণার ঠিক পরের দিনই ফের রাস্তায় তিনি।
সোমবার দুপুরে এই মিছিল শুরু হয় কলেজ স্কোয়ার থেকে। একেবারে সামনেই ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর ঠিক পিছনেই তৃণমূলের ‘মহিলা ব্রিগেড’। মাথায় গ্যাস সিলিন্ডারের প্রতীকী গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে মিছিলে ছিলেন অনেকে।
গ্যাস সরবরাহের সংকট মোকাবিলায় আগেই নবান্নে জরুরি বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Called For Meeting At Nabanna)। রান্নার গ্যাস নিয়ে যে আচমকা সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করতে ডিলারদের রাজ্যের মজুত গ্যাস বাইরে না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে গ্যাস সঙ্কট মোকাবিলায় চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন, গড়া হয়েছে নতুন কমিটিও।

ইস্যুটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারকেই তুলোধনা করেন। অভিযোগের সুরে বলেন, কোনও প্রস্তুতি বা বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়াই গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ২৫ দিনের নতুন নিয়ম চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে দাবি তাঁর। মমতার কথায়, গ্যাসের সরবরাহ যেন কোনওভাবেই বন্ধ না হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ শুধু বাড়ির রান্না নয়, অটোচালক, আইসিডিএস পরিষেবা, মধ্যাহ্নভোজন প্রকল্প কিংবা ছোট ছোট খাবারের দোকান – সব ক্ষেত্রেই গ্যাসের উপর নির্ভরশীলতা রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত এই পরিষেবাগুলিকে সচল রাখতে হলে কেন্দ্রীয় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে।
গ্যাস সংকটের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্ককেও সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মানুষের অধিকার ও প্রয়োজনের দিকে নজর দেওয়ার বদলে অন্য ইস্যুতে সময় নষ্ট করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিকল্প ব্যবস্থা ভাবার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ”এসআইআর-এর নাম কাটার দিকে না তাকিয়ে, মানুষের অধিকার না কেড়ে গ্যাসের সমস্যা মেটান। মানুষের স্বার্থে বিকল্প কিছু ভাবতে হবে।”

মমতা মনে করিয়ে দেন, রান্নার গ্যাস সরবরাহের দায়িত্ব রাজ্যের হাতে নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ভুল নীতির ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মমতার অভিযোগ, বিজেপি রাজ্যে সরকারে এলে মাছ, মাংস বন্ধ করে দেবে। বাজার বন্ধ করে দেবে।পাশাপাশি এসআইআর-এ যাদের নাম বাদ যাবে তাঁরা যেন আবেদন করেন এবং এই বিষয়ে তাঁর দলের পক্ষ থেকে বিনা পয়সায় আইনি সাহায্য দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। মমতার কথায়, “আগামী দিনে সব পরিবর্তন করুন। কিন্তু বাংলায় সরকার পরিবর্তন হবে না।”

বক্তব্যের একেবারে শেষে মমতার হুঙ্কার, এ বার আরও বেশি আসন নিয়ে তৃণমূল সরকারে ফিরবে। বিজেপি রসাতলে যাবে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, ‘আবার দেখা হবে, নবান্নে দেখা হবে।’



