প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
•‘যাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই, সেই বামেরাই বন্ধু মমতার’, সিপিআইএম-এর সঙ্গে হাত মেলাতেই কটাক্ষ শুভেন্দুর •‘আপনারা বাংলা নিয়েছেন, আমরা দিল্লি নেব’,জ্ঞানেশ-ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মমতার! বুধে থাকবেন ইন্ডিয়া বৈঠকে •বৃষ্টি কি এ বার পিছু ছাড়বে না?  কী বলছে হাওয়া অফিস? নিম্নচাপ কেটে গেলেও স্বস্তি নেই! ছাতা ছাড়া বেরলেই বিপদ, আজও কলকাতায় ভারী বর্ষণ, জেলায় জেলায় বাড়তি সতর্কতা জারি •ব্যাপক রদবদল, পুরভোটের আগে সংগঠনের খোলনলচে বদলে ফেলল বিজেপি , সরানো হলো শর্বরীকে, বাদ অগ্নিমিত্রা- জগন্নাথ, কে কোন পদে এলেন? •‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত বাতিলের আর্জি, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা

ধারাবাহিক উপন্যাস …. কত শীতবসন্ত চলে যায়

deshersamay

Share article:
মলয়  গোস্বামী


          (প্রথম পর্ব)

সকাল হয়েছে । পাখি সব এই থিয়েটার রোডের এই বাড়িতে এখনও কলরব করে । সেই ছোট্ট বেলায় হালিশহরের চৌধুরী পাড়ায় , আমাদের গাছপালা ঘেরা বাড়িতে যেমনভাবে পাখিরা ডাকত, ঠিক তেমনই রয়েছে পাখিদের গলা ।     উপুড় হয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম , মানুষের গলার সুর কিন্তু পাল্টে গেছে । তাহলে পাখিরা ধরে রাখলো কী করে ? ওরা কোনো রকম অস্ত্র বানাতে শেখেনি তাই ? আমার এই বাড়িতে যে পাখিরা আসে , তার কারণ , ছোট উঠোনে পোঁতা বেশ কয়েকটি আম কাঁঠাল গাছ , ফুলবাগান আছে , তা ছোট্ট কেয়ারি মতন । রিনি করেছে । রিনি আমার মেয়ে । বিয়ে হয়ে গিয়েছে তার । শিলং-এ । ও বছরে দু’বার আসবেই । এসে ফুল গাছ করবে ।

রিনির মা শ্রীতমা , এই বাড়ির জমি যখন কেনা হয়েছিল , তখনই কোনো প্ল্যান করবার আগেই নিজের হাতে লাগিয়েছিল এইসব আম জাম কাঁঠালের গাছ । বাড়ির পেছন দিকে তিনটি সুপারি আর দুটো নারকেল গাছও , তার হাতে লাগানো । এখন কত বড় ! ওরা মেঘের সাথে কথা বলতে চায় ।  আমার বাড়ির চারদিকে পেল্লায় সব বাড়ি । যাকে বলে স্কাইস্ক্র্যাপার । এ হলো মহানগরের আইকার্ড । 

বেশ বুঝতে পারছি রোদ্দুর পায়ের কাছের জানলা দিয়ে এসে আমার পা-য়ে প’ড়ে ডাকছে — ওঠো । সকাল তো বেশ হলো । ওদিকে তোমার বৌ কত সকালে উঠে ঘরের কাজকর্ম করছে । রান্নার মেয়েটি — শ্যামা এসে গেছে । তুমি কি এখনও উঠবেনা ? উঠে তোমায় লিখতে হবে তো ? পুজোর লেখা এখনও শেষ করোনি । ” এই দিনকাল ” কাগজের শারদীয়ার উপন্যাসের শেষটুকু তো আজই নিতে আসবে । আর কতো ফেরাবে ? 
আমি রোদ্দুরকে দিয়ে কথা বলাই । আসলে আমার মনের ভেতরে সত্যি কথাটা বলানোর প্রক্রিয়া আমি এইভাবে তৈরি করেছি ।       মানুষের ভেতরের সত্ত্বাকে সামনের চেয়ারে বসিয়ে কথা বলালে এ জীবন কিছুটা পরিস্কার হয় । পাখিদের দিয়ে কথা বলাই । আমাদের এই গাছগুলিতে হরেকরকম পাখি থাকে । এটা ওদের বাড়ি । শ্রীতমার বাবা পন্ডিত মানুষ ছিলেন । পরম ভক্ত । সেই বাবার কিছু চরিত্র শ্রীতমার মধ্যে প্রবেশ করেছে । আমার শ্বশুর মশাই যেহেতু বলতেন , সেহেতু শ্রীতমার কথা হলো —– খাবার পাতে অল্পকটি ভাত রেখে উঠবে । ওইগুলো খাবে পোকামাকড় , পিঁপড়ে টিপড়ে  । আর গাছ পুঁতবে । কারণ পাখিদের জমিতো ওই গাছপালাই ।  শুনে আমি যৌবনে হাসতাম । ” হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ– তমা , নিউইয়র্ক সিটিতে একটুকরো জমি পেলে যদি তুমি গাছপালা লাগাও , তাহলে থাকবে কি বাস টার্মিনাসে ? এখন বয়স হয়েছে । উপলব্ধিটা অন্যরকম ‌শুয়ে শুয়ে এইসব ভাবি আর উপন্যাসের প্লট তৈরি করি । উপন্যাসতো আর লিখতে হয়না । যে কোনো জীবনকে লিখলেই তো উপন্যাস হয়ে যায় । আমি সবাইকে বলি , পৃথিবীতে যত কোটি মানুষ আছে , তত কোটি উপন্যাস । কোনো দিন সব লেখা হবেনা । 

উঠে আড়ামোড়া ছাড়লাম । ফ্রেশ হয়ে বারান্দার চেয়ারে বসি । সামনে তাকিয়ে দেখি ——- মহানগর । এত ভোরেও দূরের আকাশে ধোঁয়া । শিল্পের মতন রং । শ্রীতমা চা নিয়ে আসে । ওর  স্নান সারা । অসাধারণ সুন্দরী ছিল সে একসময়। তার রেশ এখনও লেগে আছে সমগ্র শরীরে ।  সামনের চেয়ারে বসলো ও । ” আচ্ছা তমা … “।  জানি শ্রীতমা এবার কিছু বলবেই । ও জানে যখন আমি ওর নাম ধরে ডাকি , তখনই আমি যৌবনের শ্রীতমাকে দেখতে পাই । ও কখনো রেগে যায় , আবার কখনও কেমন অবশ হয়ে পড়ে । 
                ( আগামী সংখ্যায় )

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন