

ধনধান্য অডিটোরিয়ামের মঞ্চ থেকে ফের একবার বাংলার বদলে যাওয়া ছবি তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বৃহস্পতিবার শিল্পমঞ্চ থেকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কিছু মানুষ পরিকল্পিত ভাবে বাংলাকে বদনাম করেন, কিন্তু বাস্তবতা তাঁদের জানা নেই।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি ক্ষমতায় এসে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, বাংলার ভাবমূর্তি বদলাবই। আজ সেই পরিবর্তন চোখে পড়ছে।”
বিভিন্ন রাজনৈতির কুৎসা, নেতিবাচক অপপ্রচারের মোকাবিলা করে রাজ্যের শিল্পের চাকাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে তৃণমূল সরকার। ১৮ ডিসেম্বর ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে শিল্প ও বাণিজ্য সম্মেলন থেকে এ দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের জন্য তাঁর সরকার কী কী কাজ গত কয়েক বছরে নিরলস ভাবে করে গিয়েছে তার খতিয়ানও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে আগামী দিনে রাজ্যকে দেশের শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নতুন প্রোজেক্টের উদ্বোধনও করেছেন।

ক্ষমতায় এসে প্রো-বিজ়নেস পরিস্থিতি তৈরির জন্য কী কী পদক্ষেপ তৃণমূল সরকার করেছে তা তুলে ধরেছেন তিনি। তবে সেই খতিয়ান দেওয়ার আগে মমতা বলেছেন, ‘আগে যখন বাইরে গিয়েছিলাম, তখন শুনতাম, বাংলায় আরও কিছুই হবে না। তখনই মনে মনে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম।
বাংলার শিল্পকে সবার থেকে উপরে নিয়ে যেতে হবে।’ এর পরেই নিজের সরকারের কাজের তালিকায় দিয়েছেন। রাজ্যে লজিস্টিক হাব গড়ে তোলা, ল্যান্ড ব্যাঙ্ক গড়ে তোলা, শিল্প স্থাপনের জন্য নিয়মের জটিলতা কমানোর মতো একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। এর পাশাপাশি তার কথায় বারবার উঠে রাজ্যের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আইটি সেক্টর, লেদারের মতো সেক্টরে গত কয়েক বছরে কত টাকার বিনিয়োগ হয়েছে সে কথাও উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে।

তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পের কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার কথা উঠে আসে। তখন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই সাইকেল দেওয়ার জন্য বাইরে থেকে কিনতে হয়। চার জন্য বেশি খরচ পড়ে। এখানে অনেক জমি আছে। কেউ চাইলে ফ্যাক্টরি গড়তে পারেন।’
রাজ্যে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গ তুলেই বাংলাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারের সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, ‘এক দল বাংলার নামে নেতিবাচক আবহ তৈরি করতে চায়। কিন্তু তার মোকাবিলা করেই আমরা বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।‘ জিএসটি চালু হওয়ার পরে রাজ্যের ক্ষতি হয়েছে বলেও এ দিন অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে মানসিক শান্তির কথাও উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ব্রেনে শান্তি থাকলে ইনোভেটিভ আইডিয়া তৈরি হয়।’

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন—
৬৬০ মেগাওয়াটের সুপার ক্রিটিক্যাল থার্মাল ইউনিট তৈরি হবে সাগরদিঘিতে। এর জেরে রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়বে। আসানসোল এবং বাঁকুড়ায় দু’টি WBSIDCL পার্ক তৈরি করা হবে।
এমএসএমই ফেসিলিয়েশন সেন্টার হবে পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার এবং মালদায়।

উৎসধারা প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যারাকপুরের গান্ধীঘাটের সৌন্দর্যায়ন। বেঙ্গল ডেয়ারির জন্য হরিণঘাটায় নতুন প্ল্যান্ট তৈরি করা হবে। এর জন্য খরচ হবে ৬ হাজার ৫৫৮ লক্ষ টাকা। এখান থেকে প্রতিদিন ১ থেকে ২ লক্ষ লিটার দুধ তৈরি হবে।
পর্যটনেও বাংলার উত্থানের কথা বলেন তিনি। চাল উৎপাদনে দেশজুড়ে দ্বিতীয় ও সবজি উৎপাদনে প্রথম স্থানে বাংলার অবস্থান বলেও জানান। শেষে তাঁর বার্তা— “যারা বদনাম করছে, তারা অনেক সত্য জানে না। চুপ থাকা আমাদের আসল অস্ত্র। জেলাসির কোনও ওষুধ নেই।”




