Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

শপথের পরই অ্যাকশন মোডে নতুন মুখ্যমন্ত্রী! ‘এটা বিজেপি নয়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার হবে’, শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর স্পষ্ট করলেন শমীক

deshersamay

Share article:

সোমবার সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই প্রশাসনিক রাশ শক্ত করতে কোমর বেঁধে নামলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন দলের সংকল্পপত্র বাস্তবায়িত করতে রাজ্য বিজেপি সভাপতির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারলেন, অন্যদিকে তেমনই আজ বিকেলে নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের নিয়ে করবেন এক
হাইভোল্টেজ বৈঠক।

দায়িত্ব নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে শুভেন্দুর এই সক্রিয়তা প্রশাসনের অন্দরে কৌতূহল তৈরি করেছে।

এদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বাড়িতে। সেখান থেকে সরাসরি যান সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে। শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে মূলত বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয় তাঁর। বৈঠক শেষে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দেন নতুন সরকারের নীতি। তিনি বলেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে, আর দল দলের মতো। এটি কোনও ‘বিজেপি সরকার’ নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।” আয়ুষ্মান ভারত, মহিলা ও বেকার ভাতা, ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশনের মতো প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে দ্রুত কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে দল সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, এদিন বিকেল ৫টায় নবান্ন সভাঘরে শুরু হতে চলেছে সেই বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক। যেখানে রাজ্যের ডিজি, এডিজি এবং অন্যান্য শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের মুখোমুখি হবেন মুখ্যমন্ত্রী।

সূত্রের খবর, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বর্তমান হাল খতিয়ে দেখাই এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য। ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ – বিজেপির দেওয়া এই স্লোগানকে বাস্তবায়িত করতে পুলিশ প্রশাসনকে ঠিক কী কী কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে, তার নীল নকশা আজই তৈরি হতে পারে।

বাংলায় নতুন সরকার গঠনের রেশ কাটতে না কাটতেই
পরিস্থিতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছেন নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী । আজ, সোমবার বিকেল ৫টায় নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে একটি অত্যন্ত জরুরি ও বিশেষ বৈঠক ডাকলেন তিনি।

পুলিশ সদর দফতর থেকে জারি করা এক বার্তায় জানানো হয়েছে, রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা (Law & Order) পরিস্থিতি এবং সেই সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে। নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং রাজ্যের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-র পক্ষ থেকে পাঠানো এই বার্তায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে: রাজ্যের সমস্ত অতিরিক্ত পুলিশ মহানির্দেশক অর্থাৎ এডিজি, রাজ্যের সমস্ত পুলিশ মহানির্দেশক তথা ডিজি, সরকারের উচ্চপদস্থ সচিব ও ওওসডিদের।

বৈঠকের গুরুত্ব বোঝাতে একে ‘মোস্ট আর্জেন্ট’ বা অত্যন্ত জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের জন্য নির্দিষ্ট ‘সামার মাস্টার প্যারেড ড্রেস’ (Summer Master Parade Dress) পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই বৈঠকে পৌরোহিত্য করবেন এবং আধিকারিকদের বিশেষ দিশানির্দেশ দেবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর নবান্নের অলিন্দে নিজের আধিপত্য কায়েম করতে এবং পুলিশি তৎপরতা বাড়াতে প্রথম দিন থেকেই ‘ব্যটিং’ শুরু করে দিয়েছেন শুভেন্দু। গত জমানায় পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে যে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি, আজ সেই পুলিশ কর্তাদেরই পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার কড়া বার্তা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।

ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বদলির নির্দেশিকা জারি হওয়ায় প্রশাসনের অন্দরে এক ধরণের অস্থিরতা রয়েছে। আজকের এই বৈঠক থেকে শুভেন্দু আধিকারিকদের অভয় দেন নাকি আরও কঠোর কোনও নির্দেশের দেওয়ার পথে হাঁটেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য। বিশেষ করে আরজি কর ও সন্দেশখালির মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলির তদন্তে পুলিশকে তিনি নতুন করে কী নির্দেশ দেন, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.