প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
•পবিত্র মাটি, অথচ সম্মানে বৈষম্য: দুর্গাপুজোর বিশেষ ফটো সিরিজে সমাজের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হেমশ্রী ভদ্র •সপ্তমীতে সুর চড়িয়ে নাম না করে খাদ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনুর •চোরবাগানের পর আপাতত বন্ধ হয়ে গেল শহরের একের পর এক বড় পুজোর দরজা ,আহতদের দেখতে হাসপাতালে শাহ •চোরবাগানে বিপর্যয়:পুজো কমিটির সম্পাদক সহ গ্রেফতার ৭! ব্যারিকেড নির্মাণ থেকে VIP পাস বিলিতে গাফিলতির অভিযোগ •সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে ১৯ জনের মৃত্যু!  মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, হাইকোর্টের বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্ত, ঘোষণা শুভেন্দুর

তোমাকে বেসেছি ভালো… মলয় গোস্বামী

deshersamay

Share article:
মলয় গোস্বামী:


” রন্ধনশিল্প ও কবিতাশিল্প এ দুইয়ের সঙ্গে যে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে , অচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে এটা বোঝানোই আমার গুরুদায়িত্ব ৷ রান্না যে জিনিসকে করা হত বা সরাসরি আগুনের সঙ্গে যুক্ত থাকত, প্রথম প্রথম এই ছিল রীতি নিয়ম ৷ যেমন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকত কবিতা ৷ অারও সহজ ভাষায় এই একই কথা লিখলে — বেগুন মুরগি ইত্যাদি আগুনের মধ্যে ঢুকিয়ে পোড়ানো হত প্রথম প্রথম ৷ অর্থাৎ আগুনের সঙ্গে যুক্ত থাকত বেগুন মুরগী ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য ৷ তেমনি তখন কবিতাও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকত । কাজ করার সময়ই কবিতা অাপনিই মুখ দিয়ে না বেরিয়ে উপায় ছিল না । মুখ দিয়ে কবিতা রচনা না করে কাজ করাই যেতনা ৷ অর্থাৎ মুখ দিয়ে কবিতা রচনা না করে গাছের গুড়ি টানাই যেত না ৷ এখনও যায়না, কোনদিনযাবে না । অর্থাৎ এমন এমন অবস্থা হয় যে কবিতা রচনা করতেই হয় , যেমন বর্তমান যুগে এমন এমন অবস্থা হয়, যখন ভাত রান্না করতেই হয় । না হলে কবিতা রচনা করতেই হয় ৷

বিনোদিনী কুঠিরে বিনয় মজুমদার-পার্থ সারথি নন্দী৷

” ( `রন্ধন এবং কবিতা ‘ নির্বাচিত প্রবন্ধ … বিনয় মজুমদার ) কবিতা সম্পর্কে ঋষি কবি বিনয় মজুমদার এইরকম বলছেন  । পড়তে গিয়ে আশ্চর্য হতে হয় ৷ঘোর লাগে ৷ মনে হয় এক নিবিড় ঘাসের মধ্যে বসে, চার দিকে গাছপালা, বাংলার সরল গ্রামীণ সৌন্দর্য থৈ থৈ করছে … একজন প্রাজ্ঞ অন্য জগতের সৌন্দর্যে ভরপুর … খুব সহজ সরল করে কবিতার   জন্মরহস্য ফিসফিস করে বোঝাচ্ছেন ৷ ঠিক এইভাবেই বিনয় মজুমদার কবিতার রহস্য নিয়ে থেকেছেন আবার অন্যত্র কবিতা সম্পর্কে লিখছেন ” … আনন্দদায়ক বলেই কবিতা সারাজীবন হুবহু মনে থাকে ৷

একটি ভালো কবিতা পড়লে মনে আনন্দ হয় ৷ কবিতাটি পড়ার পরও অনেকক্ষণ অন্য কাজে মনোনিবেশ করা যায় না ৷ কেবলি ক বিতাটির কথা মনের মধ্যে ঘোরে ৷ এ অবস্থায় এই কবিতা ভিন্ন অন্য কোনো বিষয় আর মনে আসেনা ৷ কেবলই কবিতাটির কথা মনের মধ্যে ঘোরে — অর্থাৎ পাঠকের মন ভাবে বিভোর হয়ে থাকে ৷ কবিতা পড়ার পর কতক্ষণ মন ভাবে বিভোর হয়ে থাকে তার ওপরে নির্ভর করছে কবিতাটি কেমন । একটি কবিতা পড়ে একজন পাঠকের মন পাঁচ মিনিট ভাবে বিভোর হয়ে থাকল, আর একটি কবিতা পড়ে এই পাঠকেরি মন দশ মিনিট ভাবে বিভোর হয়ে থাকল । তাহলে প্রথম কবিতাটি অপেক্ষা দ্বিতীয় কবিতাটি ভালো । শুধু এই উপায়ে কবিতা কত ভালো তা বোঝা যায় । ”

( কবিতা ও আনন্দ ) পরম পান্ডিত্য এবং সারল্যের মিশেলে উদ্ভাসিত এই কবিকে আমি ভালবেসে ফেলেছিলাম সেই প্রথম যৌবনেই । শুধু মনে করতাম করে তাঁর সঙ্গে যে দেখা হবে ! কবে ঠাকুরনগরে যাব তাঁর সামনে ! তিনি লেখেন —- অমাবস্যা পূর্ণিমায় সব / মানুষের বাত বাড়ে ৷ আমারি তো বাড়ে / মন্দিরের দেবতা গো , কথাটা কি সত্যি নাকি বলো ৷ / মন্দিরের দেবতার জবাবের জন্য আমি অপেক্ষায় আছি ৷ / মন্দিরের দেবতা তো জবাব দিল না ৷ ”   এই সরলতা বিভূতিভূষণের মধ্যে পেয়েছি আমরা ।   যে কবির সঙ্গে দেখা করতে মন উতলা হয়ে উঠছিল তখন তিনি লিখেছেন, ” রসাত্মক বাক্য লেখা কবে যে আয়ত্ব হবে , ভাবি কবোষ্ণ প্রভাতবেলা উজ্জ্বল শব্দের দিকে চেয়ে অনুশোচনায় ভরে হৃদয় …” ৷ 

আমার বারবার মনে হয় সমস্ত জগৎযন্ত্রণাকেই যেন তিনি নারীপুরুষের বিচ্ছেদছবির মধ্যে দিয়ে জানাতে চেয়েছেন । তাঁর একটা কবিতা — ” বৃক্ষ ও প্রাণীরা মিলে বায়ুমন্ডলকে সুস্থ, স্বাস্থ্যকর রাখে ৷ / এই সত্য জানি, তবু হে সমুদ্র , এ অরণ্যে কান পেতে শোনো / ঝিঁঝিঁ পোকাদের রব — যদিও এ্খানে মন সকল সময় / এ বিষয়ে সচেতন থাকেনা, তবুও এই কান্না চিরদিন / এইভাবে রয়ে যায় . তরু মর্মরের মধ্যে অথবা আড়ালে ৷ ”  

ঠাকুরনগর প্লাটফর্মে বিনয় মজুমদার৷

১৯৭৯ সাল । আমি গোবরডাঙা কলেজে বি.এড পড়ছি ৷ সেই সময় একদিন ক্লাস শেষের পরে , বাড়ি ফেরার সময় গোবরডাঙা স্টেশনের ১নং প্ল্যাটফর্মে ঘোরাঘুরি করছি সহপাঠীদের সঙ্গে ৷ ট্রেন আসার দেরি । ২ নং-এ ট্রেন এলে বনগাঁর দিকে যাব ৷ সেই সময় দেখি ১নং প্ল্যাটফর্মের ছোট্ট বুক স্টলটির সামনে দাঁড়িয়ে বিনয় মজুমদার । হাতে একটা ছাতা । আমি কাছে গিযে ‘ তাঁকে দেখলাম । প্রণাম করলাম ৷ তিনি অবাক হয়ে আমাকে দেখতে লাগলেন ৷আমি রোমাঞ্চিত । তখন যেন মনে হচেছ ___ ” তুমি এসে ছিন্ন ছিন্ন চিঠির মতন তুলে দিয়ে কৌতূহলে এক ক’রে একবার পড়ে চলে যাও / যেন কোনো নিরুদ্দেশে ইটের মতন ফেলে রেখে ৷ ” 

এরপর অনেক গল্প ৷ সে অন্য কোথাও বলব ৷ সেই প্রথম ঋষি দর্শন । তারপর একবার দুবার বারবার । সে সব যেন স্বপ্নমাখা ঘটনাবলী । আজ এখানে এক পরম বৈদগ্ধ্যের ভেতরে সারাজীবন বাস করা একজন অমিতসরল কবির লেখার সঙ্গে কিছু সময় কাটানো যাক ।        ” কী উৎফুল্ল আশা নিয়ে সকালে জেগেছি সবিনয়ে ।কৌটোর মাংসর মতো সুরক্ষিত তোমার প্রতিভাউদ্ভাসিত করেছিল ভবিষ্যৎ, দিক চক্রবাল ৷ সভয়ে ভেবেছিলাম সম্মিলিত চায়ের ভাবনা বায়ুসেবনেব কথা, চিরন্তন শিখরের বায়ু ৷ ” 
” হে আলেখ্য, অপচয় চিরকাল পৃথিবীতে আছে ৷এই যে অমেয় জল — মেঘেমেঘে তনুভূত জল –এর কতটুকু আর ফসলের দেহে আসে বলো ? ফসলের ঋতুতেও অধিকাংশ শুষে নেয় মাটি । তবু কী আশ্চর্য দ্যাখো উপবিষ্ট মশা উড়ে গেলেতার এই উড়ে যাওয়া ঈষৎ সঙ্গীতময় মনে হয় । “

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন