Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

উড়ন্ত শিখের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ,কোভিডের কাছেই হার মানলেন কিংবদন্তি অ্যাথলিট মিলখা সিং

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওযেবডেস্কঃ কেউ বলছেন মিলখা সিংহ সশরীরে না থাকলেও তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করা সম্ভব নয়, কেউ মনে করছেন সারা ভারতের হৃদয় ভাঙল।  জীবনের দৌড় থামল মিলখা সিংয়ের। করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে বাড়িও ফিরেছিলেন। এরপর তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কম হওয়ায় মিলখা সিংকে আবার মোহালির এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শারীরিক অবস্থা ক্রমেই তাঁর খারাপ হতে থাকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, তাঁর অবস্থা গুরুতর, জ্বর এসেছে ভালই, অক্সিজেন স্তরও কমছে। সেইসময়ই বোঝা গিয়েছিল, তিনি শেষ ল্যাপের দৌড় দিচ্ছেন! ৯১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ। পরে যদিও তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে আবার দিন পাঁচেক আগেই মিলখা-পত্নী নির্মল কৌরও প্রয়াত হয়েছিলেন। এদিন এই কিংবদন্তি ভারতীয় অ্যাথলিট সকলের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেলেন। এশিয়ান গেমসে চারবারের স্বর্ণপদক বিজয়ী এই বিখ্যাত অ্যাথলিটের বাড়ির পরিচারক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রথমে।

এদিন মিলখা সিংয়ের মৃত্যুর খবর পরিবারের তরফে নিশ্চিত করে করতেই গভীর শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্টজনেরা।

এরপর বাড়ির সবাইকেই কোভিড টেস্ট করানো হয়। কেবলমাত্র মিলখা সিংয়েরই পজিটিভ রিপোর্ট এসেছিল প্রথমে। পুত্র জীব মিলখা সিংহ ছাড়াও মিলখা রেখে গেলেন তিন মেয়ে মোনা সিংহ, আলিজা গ্রোভার এবং সোনিয়া সানওয়ালকাকে। এদিন রাতে পুত্র জিব মিলখাই প্রথম বাবার জীবনাবসানের খবর জানান।


১৯২৯ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম মিলখার পাকিস্তানের গোবিন্দপুরায়। দেশ ভাগের সময় দাঙ্গায় পরিবারের অনেকেই মারা যান। পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসেন দিদির কাছে। উদ্বাস্তু শিবিরে থাকেন বেশ কিছুদিন। সেনাবাহিনীতে চাকরির চেষ্টা করতে করতে অ্যাথলিট হয়ে ওঠা তাঁর‍। সেনাবাহিনীরই কোচের নজরে পড়ে যান। ১৯৫৯ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হয় তাঁকে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাতেই টুইট করে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন ও তাঁর পরিবারকে এই শোকের দিনে সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি টুইটে লেখেন, ‘‘মিলখা সিংহের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ। তিনি একজন কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ ছিলেন। তিনি সব সময় আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। তাঁর পরিবার, প্রিয়জন ও অনুরাগীদের সমবেদনা জানাই।’’

মিলখা সিংহের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। টুইটারে তাঁর শোক বার্তায় মিলখাকে ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ বলেছেন সৌরভ।

টুইটারে সৌরভ লিখেছেন, ‘খবরটা পেয়ে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ। আপনি ভারতের তরুণদের খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আপনাকে খুব কাছ থেকে জানার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।’

ভারতের হয়ে এশিয়ান গেমসে একাধিক সোনাজয়ী দৌড়বিদের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রীড়াজগত। সচিন তেন্ডুলকর টুইট করে লেখেন, ‘শান্তিতে থাকুন উড়ন্ত শিখ মিলখা সিংহ। আপনার মৃত্যু প্রত্যেক ভারতবাসীর মনে ছাপ রেখে গেল। তবে আগামী অনেকগুলো প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবেন আপনি।’ ইংল্যান্ডে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে যাওয়া যশপ্রীত বুমরা লেখেন, ‘একজন হিরো, একজন অনুপ্রেরণা, আগামী প্রজন্মও বুঝতে পারবে তাঁর অস্তিত্ব। ভাল থাকবেন মিলখা সিংহ।’

১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিকে মিলখা অংশ নিলেও ব্যর্থই হয়েছিলেন। দু’বছরের মধ্যে নিজেকে তৈরি করে ফেলেন কঠোর প্রস্তুতির মাধ্যমে। ১৯৫৮ সালে কার্ডিফ কমনওয়েলথ গেমসে হইচই ফেলে দেন মিলখা ৪৪০ মিটার ইভেন্টে সোনা জিতে। সেটাই ছিল স্বাধীন ভারতে কোনও ভারতীয় অ্যাথলিটের প্রথম সোনা জয়।

অলিম্পিকে সোনা জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন সেবারই। ১৯৫৮ সালেই টোকিও এশিয়ান গেমসে ২০০ ও ৪০০ মিটারে সোনা জিতেছিলেন। ১৯৬২ সালের জাকার্তা এশিয়াডেও ছিল জোড়া সোনা।


মিলখাকে ভারত তো বটেই, সারা বিশ্ব মনে রেখেছে ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকের জন্য। ৪০০ মিটার রেসের ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। ওটিস ডেভিস, কার্ল কফম্যানদের পাশে সমান উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়েছিলেন ফেভারিট মিলখা। তবে ভারতীয় অ্যাথলিটকে সে দিন চিনে নিযেছিল সারা বিশ্ব। ৪৫.৭৩ সেকেন্ডে মিলখার ওই দৌড় অনেক দিন জাতীয় রেকর্ড হিসেবে অক্ষুন্ন ছিল।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন