দেশের সময়ওয়েবডেস্কঃ বিদেশ পড়তে যাওয়া দেশ তথা রাজ্যের বহু পড়ুয়াই টিকা নিয়ে রীতিমতো আটকে পড়েছেন। চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। কারণ করোনা টিকা হিসেবে ভারতের দেশীয় কোভ্যাকসিনকে কার্যত গ্রাহ্যই করছে না বেশ কয়েকটি দেশ। বুধবারই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবেদন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে। আর বৃহস্পতিবার সরাসরি মোদিকে চিঠিই পাঠালেন মমতা।

জানুয়ারি মাস থেকে দেশ জুড়ে চলছে করোনার বিরুদ্ধে টিকাকরণ প্রক্রিয়া। পুণের সিরাম ইনস্টিটিউট নির্মিত কোভিশিল্ড এবং ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাকসিন- এই দুই ভ্যাকসিনই দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কিন্তু ভারতে তৈরি কোভ্যাকসিনকে এখনও মান্যতা দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। এদিন তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ট্যুইটারে সেই চিঠি তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’-এর কাছ থেকে কোভ্যাকসিন নিয়ে যাতে শীঘ্রই অনুমোদন নেওয়া হয়, সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছি।’

হু-এর মান্যতা না থাকার ফলে কোভ্যাকসিনকে নিয়ে বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। যেহেতু হু-এর স্বীকৃতি এখনও পায়নি ভারত বায়োটেকের ভ্যাকসিন, তাই এই ভ্যাকসিন যাঁরা নিয়েছেন তাঁদের বিদেশযাত্রায় সমস্যা হবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। কেন্দ্র সরকার যাতে এই বিষয়টির দিকে নজর দেয় তার অনুরোধ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘এ রাজ্যে ইতিমধ্যে ২ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়ে গেছে। টিকাকরণ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই আমরা কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে দুটি ভ্যাকসিন পাচ্ছি। কোভিশিল্ড আর কোভ্যাকসিন। বেসরকারি সংস্থাও তাই পেয়েছে।’

চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে, ‘কিন্তু কোভ্যাকসিনকে এখনও মান্যতা দেয়নি হু। আর হু-এর মান্যতা ছাড়া ভ্যাকসিন নিয়ে বিদেশযাত্রা সম্ভব নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পড়ুয়া প্রতি বছর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যান। এঁদের মধ্যে অনেকেই কোভ্যাকসিন নিয়েছেন। টিকা নিয়ে নেওয়ার পর তাঁরা জানতে পেরেছেন এই ভ্যাকসিন হু-এর মান্যতা পায়নি। এই পড়ুয়ারা বিপদে পড়েছেন।

অবিলম্বে যাতে ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাকসিনকে মান্যতা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, তার ব্যবস্থা করতে হবে কেন্দ্র সরকারকে। চিঠিতে এই দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু পড়ুয়ারাই নন এর সঙ্গে ব্যবসায়ী, চাকুরে-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে বলেও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা দাবি করেছিলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ২০০ কোটি ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে ভারতে। বিজেপি সভাপতির সেই বক্তব্য নিয়েও সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘আমি বুঝি না কেন নাড্ডা এসব বলছেন। উনি কি ফ্যাক্ট জানেন না? ছয়/আট মাস তাঁরা কী করল?’ বলাই বাহুল্য নির্বাচনের দিনগুলির দিকেই আঙুল তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কোভ্যাকসিন নিয়েও রীতিমতো সুর চড়ানো শুরু করলেন তিনি।

এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী কোনও পদক্ষেপ করেন কিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here