

বাংলায় এবারের মতো ভোট প্রচার মিটেছে ২৭ এপ্রিল। কিন্তু যাওয়ার আগে বাংলার প্রতিটি ভোটারের মনের দুয়ারে কড়া নাড়তে এক অভিনব মাধ্যম বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের প্রতিটি স্তরের মানুষের উদ্দেশে বাংলায় একটি দীর্ঘ এবং অত্যন্ত আবেগঘন খোলা চিঠি লিখলেন তিনি ।

সমাজমাধ্যম এক্স-এ (X) সেই চিঠির বক্তব্য শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলার অলিগলিতে প্রচারের সময় যে ভালবাসা তিনি পেয়েছেন, তা তাঁকে নতুন শক্তিতে ভরিয়ে দিয়েছে।
চিঠির শুরুতে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, ২০২৪-এর জানুয়ারিতে অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার আগে তিনি যে ১১ দিনের কঠোর অনুধ্যান বা অনুষ্ঠান করেছিলেন, বাংলার এই নির্বাচনী প্রচারে তিনি ঠিক একইরকম আধ্যাত্মিক স্পন্দন অনুভব করেছেন। মোদীর কথায়, “বাংলার প্রতিটি জনসভা ও রোড-শো-তে আমি সেই আধ্যাত্মিক টান অনুভব করেছি, যা দেবী মন্দিরে প্রার্থনার সময় পাওয়া যায়।”

চিঠিতে ব্যক্তিগত স্পর্শ যোগ করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রচারের ব্যস্ততা শেষে গভীর রাতে তিনি যখন সময় পান, তখন শান্ত মনে বাংলার মানুষের পাঠানো অসংখ্য ছবি, চিঠি এবং বার্তাগুলি পড়েন।
তিনি লিখেছেন, “জনসভা বা রোড-শো-র শেষে গভীর রাতে আমি আপনাদের পাঠানো ছবি ও বার্তাগুলো নিয়ে বসি। যুবক থেকে শুরু করে প্রবীণ, সব বয়সের মানুষের যে বিপুল ভালবাসা আমি পেয়েছি, তাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির দিকেও আঙুল তুলেছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, বাংলার যুবসমাজ আজ জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সমান সুযোগ ও উন্মুক্ত মাঠ চায়। বাংলার মেয়েরা চায় নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র আবরণ এবং মুক্ত আকাশ। রাজ্যের কৃষক থেকে শ্রমিক, প্রত্যেকেই এখন পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছেন।
https://x.com/i/status/2048724022859272248
মোদীর সাফ কথা, “যথেষ্ট ভয় দেখানো হয়েছে, এবার প্রয়োজন বিশ্বাসের। আর সেই বিশ্বাসের নাম বিজেপি।”
চিঠির শেষ অংশে এক বড় অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, “বাংলার সেবা করা এবং বাংলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার পবিত্র কর্তব্য। বাংলার সামনে থাকা প্রতিটি প্রতিকূলতাকে সুযোগে রূপান্তর করা আমার দায়িত্ব এবং ভবিতব্য। এই দায়িত্ব থেকে আমি কখনও এক চুলও সরব না।”

চিঠির একদম শেষে বাংলার বিজেপি কর্মীদের মনোবল তুঙ্গে তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বড় আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বঙ্গবাসীকে আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই সকলে মিলে বাংলায় বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উদযাপন করবেন।
প্রচারের শেষ দিনে মোদীর এই বাংলা ভাষায় লেখা চিঠি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং বাঙালির ‘আবেগের নাড়ি’ ধরার এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




