‘সকল শরণার্থী পরিবারের দায়িত্ব আমাদের’, মোদীর ‘গ্যারান্টি’ ঠাকুরনগরে

0
4

অর্পিতা বনিক , দেশের সময়

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে ভোটের প্রচারের একেবারে শেষ পর্যায়ে, রবিবার ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়ির আঙিনায় জনসভা করলেন মোদী। 

SIR-এর পর মতুয়াগড়ে প্রচারে ঝড় তুললেন এদিন। মতুয়াদের উদ্দেশে তিনি বলেন ভারতের সকল নাগরিক যে অধিকার পান, মতুয়ারাও সেই অধিকার পাবেন। তাঁদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। স্থায়ী ঠিকানা, কাগজ সব পাবেন তাঁরা। ঠাকুরনগরের জনসভা থেকে এই গ্যারান্টিই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সঙ্গে ‘তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ’ থেকে উৎখাতের প্রতিশ্রুতিও দিলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উদ্ধৃত করে মোদী বললেন, ‘আপনারা আমাদের ভোট দিন, আমরা তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ থেকে স্বাধীনতা দেব।’

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে একই জায়গায় সভা করেছিলেন তিনি। সেই সময়ে তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের ‘বড়মা,’ প্রয়াত বীণাপাণি ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নেন এবং মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকর হয়। কিন্তু তার পরেও মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ ঠিকমতো শুরুই করা যায়নি বলেই দাবি অনেকের। এ নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ ছিলই। এসআইআর-এর পরে বহু মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে যাওয়ায় তা আরও বেড়েছে। মতুয়াদের সেই ক্ষোভ প্রশমিত করতেই তাঁদের গ্যারান্টি দিলেন মোদী।

বিজেপি যাঁকে আদর্শ মনে করে, সেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে মতুয়াদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, ‘দেশভাগ থেকে আজ পর্যন্ত সব শরণার্থীরা আমাদের দায়িত্ব। তাঁদের চিন্তা করা ভারতের ঐতিহাসিক দায়িত্ব। সে জন্য সিএএ আনা হয়েছে। এর আগে সেই কাজ কেন হয়নি? মতুয়া, নমশূদ্রদের বলব, আপানদের নাগরিকত্ব, স্থায়ী ঠিকানা, কাগজ দেওয়া হবে, সব অধিকার দেওয়া হবে, যা ভারতের সব নাগরিকেরা পান। এটা মোদীর গ্যারান্টি।’ প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতাও শুরু করেছিলেন মতুয়া-স্মৃতি উস্কে দিয়ে। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের ওরাকান্দিতে গিয়ে মতুয়াদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলেন তিনি। ‘বড়মা’র সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘বড়মার আশীর্বাদ যখন নিতে গেছিলাম, তার মমতা বিভোর করেছিল। এই আত্মীয়তা ভুলব না।’

দুর্নীতি, জঙ্গলরাজের অভিযোগ তুলে আবার তৃণমূলকে বিঁধেছেন মোদী। বলেন, ‘জঙ্গলরাজে পীড়িত হয়েছেন বোনেরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে তাঁদের চোখে। সন্দেশখালিতে বোনদের নির্যাতন করেছে গুন্ডারা। তাদের সমর্থন করেছে তৃণমূল। বোনদের গালিগালাজ করা হয়। এটা ভুলবেন না। ৪ মে-র পরে গুন্ডা, ধর্ষকদের হিসাব করবে বিজেপির সরকার।’

প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, বাংলাও দেশের এক নম্বর রাজ্য হতে পারে। কিন্তু তার জন্য তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করতে হবে। মোদী বলেন, ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আহ্বান মনে রাখবেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা আমার রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। দেশের মানুষ সব উজার করে দিয়েছিলেন তাঁকে। আমাদেরও আপনারা আশীর্বাদ দিন, ভোট দিন। আমরাও তৃণমূল থেকে মুক্তি দেব। জঙ্গলরাজ, ভয়, দুর্নীতি, মহিলা নির্যাতন, বেকারত্ব, অনুপ্রবেশকারী থেকে মুক্তি দেব।’’

অনুপ্রবেশকারীদেরও হুমকি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল মিথ্যাপ্রচার থেকে সাবধান হতে হবে। এরা প্রকাশ্যে সিএএ-র বিরোধিতা করে। বনগাঁ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিচ্ছি, যাঁরা অবৈধ ভাবে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা ২৯ এপ্রিলের আগে বাংলা, ভারত ছেড়ে দিন। নয়তো, ৪ মের পরে সব অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বার করা হবে। তৃণমূল কাউকে বাঁচাতে পারবে না।’

বাংলার ছেলেমেয়েদের তৈরি রিল, ভিডিয়ো এবং সমাজমাধ্যমের নানা কনটেন্ট দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তরুণদের এই নতুন ভাবনা ও সৃষ্টিশীলতাকে অনেকেই গুরুত্ব দিতে চান না। তবে কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে বাংলার নতুন শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে বিজেপির আমলে।

Previous articleঅসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বনগাঁ উত্তরের বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া , দেখতে গেলেন তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here