বিজ্ঞাপন

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানায় বিরোধীদের অন্যতম অভিযোগ ছিল, পুলিশ রাজ চলছে। পুলিশকে দলীয় ক্যাডারে পরিণত করেছে তৃণমূল। বাম, কংগ্রেস, বিজেপি সমস্ত কর্মসূচিতে স্লোগান দিত—পুলিশ তুমি উর্দি ছাড়ো, তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরো। কিন্তু তিন দফা ভোট হয়ে যাওয়ার পর সেই পুলিশের বিরুদ্ধেই গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার কোচবিহারের সভা থেকে মমতা বলেন, “ইলেকশন এলে পুলিশ সব বিজেপি হয়ে যায়। এটা অনেক জায়গায় আমি দেখেছি। ছোট পুলিশদের কোনও দোষ নেই। পুলিশের নেতারা এটা করে।” এখানেই থামেননি মমতা। তিনি বলেন, “পুলিশের অনেকে আন্ডারস্ট্যান্ডিং করে বসে আছে। আমি কাল আরামবাগের ওসির রোল দেখে নিয়েছি।” কার্যত হুঁশিয়ারির সুরেই মমতা বলেন, “আমরাও লক্ষ্য রাখব কে কী করছেন।”


এদিন কথা প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের ইভিএম পাহারা দেওয়ার কথা বলছিলেন দিদি। কী কৌশলে তা পাহারা দিতে হবে তা বোঝাচ্ছিলেন তিনি। সে কথা বলতে বলতেই তৃণমূলনেত্রী বলেন, “পুলিশ যদি বলে আপনারা চলে যান আমরা দেখে নেব, একদম বিশ্বাস করবেন না।” সেইসঙ্গে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যে বিজেপির টাকা খেয়ে পালিয়ে আসবে তাকে আমরা ধরে নেব।

এ ব্যাপারে বিজেপি নেতা সব্যসাচী দত্ত বলেন, “উনি পুলিশের পদবি পাল্টে দিয়েছিলেন। দলদাস করে রেখেছিলেন পুলিশকে। এখন পুলিশ তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে বা করার চেষ্টা করছে। তাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পেয়েছেন।”


রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর এই কথা শুনে বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়তো বুঝতে পারছেন প্রশাসন আর তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। তাঁদের মতে মমতার কথায় দুটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে, এক প্রশাসনের রাস সত্যিই এখন কমিশনের হাতে। যা গত কয়েকটা ভোটে দেখা যায়নি। এবং দুই, নিচু তলায় দলের অবস্থাও ফোঁপড়া হয়ে গেছে। নইলে কেন একজন শাসকদলের নেত্রীকে বকেন লতে হবে, এজেন্ট না পেলে কন্যাশ্রীর মেয়েদের এজেন্ট করুন।
এদিনও মমতা সিআরপিএফের বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন। দলের মহিলা ব্রিগেডের উদ্দেশে বলেছেন, প্রয়োজনে ঘেরাও করে রাখুন।

চতুর্থ দফা ভোটের আগে কোচবিহারে নির্বাচনী সভায় গিয়ে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি এদিন বলেন, ‘সিআরপিএফ-কে ঘেরাও করে ভোট দিতে যান।  কেন্দ্রীয় বাহিনী অশান্তির পাকানোর চেষ্টা করলে মহিলারা তাঁদের ঘেরাও করুন।’

প্রসঙ্গত, তৃতীয় দফা নির্বাচনের সকালেই মমতা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সরব হন। টুইট করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। এদিন ফের একবার কোচবিহারের জনসভা থেকে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘একদিনের অতিথি’ বলে তোপ দাগেন। তাঁর আরও সংযোজন, ‘তাঁরা তো ভোট মিটে গেলেই চলে যাবেন। তারপর তো আমরা থাকব।’ এছাডা়ও এদিন মমতা নন্দীগ্রামের কথার পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই বাংলায় আধাসেনা অশান্তি করছে, ভোটারদের প্রভাবিত করছে।’

আধাসেনাকে সামলাতে কোচবিহারে মমতার এই দাওয়াই ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি করেছে রাজ্য-রাজনীতিতে। বক্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যত এই ধরণের মন্তব্য করবেন ততই বিজেপি-র ভোট বাড়বে।’ শমীকের আরও মন্তব্য, ‘২০১১ সালের আগে তিনি নিজেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে চাইতেন। আট দফা নির্বাচন চাইতেন। তাহলে এখন কেন এমনটা বলছেন?’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই বঙ্গ সফরে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ক্ষোভ প্রসঙ্গে সরব হন মোদী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.