দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কের উপর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তিন হিজবুল জঙ্গি সমেত ধরা পড়েছেন কাশ্মীর পুলিশের অফিসার দাভিন্দর সিং। পুলিশ সূত্রে খবর, মাস ছয়েক আগেই সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন দাভিন্দর সিং। এই পুলিশ আধিকারিকের ব্যাপারে এবার সামনে এল আরও ভয়ঙ্কর তথ্য।

পুলিশ সূত্রে খবর, নিজের বাড়িতেই এই দুই জঙ্গিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন দাভিন্দর সিং। গ্রেফতারের পরেই দাভিন্দরের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। আর তারপরেই প্রকাশ্যে আসে এই তথ্য। জানা গিয়েছে, হিজবুলের এই জঙ্গিদের নিজের বাড়িতেই লুকিয়ে রেখেছিলেন দাভিন্দর। শ্রীনগরের বাদামিবাগ ক্যান্টনমেন্টে ছিল দাভিন্দর সিংয়ের কোয়ার্টার। আর সেখানেই এই তিন হিজবুল জঙ্গিকে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। সর্বক্ষণ কড়া নিরাপত্তায় মোড়া থাকত এই কোয়ার্টার। তাহলে কীভাবে সকলের চোখ এড়িয়ে দাভিন্দর এমন কাণ্ড ঘটালেন তাই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

পুলিশ সূত্রে খবর, দুটি পিস্তল এবং একটি একে রাইফেলও উদ্ধার করা হয়েছে ধৃত দাভিন্দর সিংয়ের বাড়ি থেকে। শনিবার তিন হিজবুল জঙ্গির সঙ্গে ধরা পড়েন অনন্তনাগ পুলিশের ডেপুটি সুপার দাভিন্দর সিং। যে গাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় সেখান থেকে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার সকালে প্রথমে জম্মুর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এই চারজন। সেখান থেকে তিন হিজবুল জঙ্গিকে দিল্লি পাঠানোর প্ল্যান ছিল দাভিন্দর সিংয়ের।

প্রায় দু’দশক আগের সংসদ হামলার সময়ে আফজল গুরুও এই পুলিশ অফিসারের নাম উল্লেখ করেছিলেন। ২০০১ সালে সংসদ হামলার পরে অভিযুক্ত আফজল গুরু জেল থেকে তাঁর আইনজীবীকে যে চিঠি লিখেছিলেন, তাতে ডিএসপি দাভিন্দরের নাম ছিল। আফজল দাবি করেছিল, সংসদ হামলায় জড়িত থাকা এক জঙ্গি মহম্মদকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার জন্য আফজলের ওপর জোর খাটিয়েছিলেন দাভিন্দর সিং। তখন তিনি বডগামের হুমহামায় দায়িত্বে ছিলেন।

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, এই তিন হিজবুল জঙ্গিকে দিল্লি পাঠানোর ব্যবস্থা করছিলেন দাভিন্দর। যাতায়াতের জন্য জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়েকেই বেছে নেন তিনি। সেই সময়েই কাশ্মীর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এই তিনজন। সূত্রের খবর, ধৃত জঙ্গিদের মধ্যে একজন কুলগামে বাঙালি শ্রমিক হত্যার মূল অভিযুক্ত নাভিদ বাবু। পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান থেকে শুক্রবার এই জঙ্গিদের নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন দাভিন্দর। নাভিদ বাবু ছাড়াও ইরফান এবং রফি নামের দুই জঙ্গি সেদিন এসেছিল দাভিন্দরের বাড়িতে। শুক্রবার সারারাত সেখানেই ছিল তারা।

সূত্রের খবর, এর আগেও নাভিদ বাবুকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে সাহায্য করেছেন দাভিন্দর। গত বছরই তাকে জম্মু পালাতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। কাশ্মীর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, একজন জঙ্গি হিসেবেই ভাবা হচ্ছে দাভিন্দরকে। এবং গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগের তরফে যৌথ ভাবে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। আর হপ্তা দুই পরেই প্রজাতন্ত্র দিবস। ২৬ জানুয়ারি রাজধানী শহরে কোনও হামলার ছক রয়েছে কিনা কিংবা তিন হিসবুল জঙ্গিকে নিয়ে তার আগেই দাভিন্দরের দিল্লি পৌঁছনোর প্ল্যান ছিল সেতাও জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেই দাভিন্দরের উপর নজর ছিল তাদের। এরপর শনিবার হাতেনাতে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।

কাশ্মীর পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, “ক’দিন আগেই শ্রীনগরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পোস্টিং ছিল দাভিন্দরের। জম্মু-কাশ্মীরে বিদেশি প্রতিনিধিদের যে দল দু’দিনের সফরে এসেছেন তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল দাভিন্দর সিংয়ের উপর। ঘুণাক্ষরেও তখন টের পাওয়া যায়নি যে এই অফিসার এত ভয়ঙ্কর। নিষ্ঠাবান অফিসার হিসেবে যথেষ্ট সুনাম ছিল ওঁর। আমরা ভাবিইনি যে হিজবুল জঙ্গিদের সঙ্গে ওঁকে দেখব। ”

শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ শ্রীনগরের উদ্দেশে রওনা হন এই চারজন। পুলিশ জানিয়েছে শ্রীনগর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে তাদের পাকড়াও করা হয়েছে। তিন জঙ্গির মধ্যে নাভিদ বাবুর গ্রেফতার হওয়া নিঃসন্দেহে একটা বড় লিড বলে মত কাশ্মীর পুলিশের। কারণ ইতিমধ্যেই নাভিদের মাথার দাম ধার্য হয়েছে ২০ লাখ টাকা। অন্যদিকে গত কয়েকবছরে বার পাঁচেক পাকিস্তানে গিয়েছে ইরফান। তবে তার কীর্তিকলাপ সম্পর্কে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ সেভাবে ওয়াকিবহাল নয় বলেই জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here