দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ গত তিন চার দিন ধরে বৃষ্টিতে বিরাম নেই। কখনও মাঝারি কখনও ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ছে শহর কলকাতার একাধিক এলাকা। এর মাঝেই আশঙ্কা সত্যি করে জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল দুজনের। খাস কলকাতায় এমন ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পাটুলি এবং হরিদেবপুরে জমে থাকা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন দুজন ব্যক্তি। সূত্রের খবর, জলে মাছ ধরতে নেমেছিলেন পাটুলির যুবক তরুণ মণ্ডল। জলেই পড়ে যান তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁরাই ইলেকট্রিক শক খান।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান শহর কলকাতার আরও এক নাগরিক। হরিদেবপুরে এক বাইক চালকের গায়ে এসে পড়ে বিদ্যুতের ছেঁড়া তার। রাত ১১টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। জানাগিয়েছে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গে আজও বৃষ্টি চলবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে।গতকাল রাত থেকেই বৃষ্টির বেগ বেড়েছে । কলকাতার নাগরিক জীবনের জলযন্ত্রণার ছবিটা আরও একবার সামনে উঠে এসেছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, জলমগ্ন শহরের অলিগলি।

আবাহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন অঞ্চলে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। আর তার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প ঢুকছে। আর এই কারণেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি।

অর্থাৎ আজ শনিবার কলকাতার আকাশ থাকবে মেঘলা। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কলকাতা পুরসভা ইয়াস বিপর্যয়ের আগে থেকেই বর্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল। জল যাতে না জমে তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনে যে হারে বৃষ্টি হয়েছে তাতে দেখা গেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। জমা জল নামেনি পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে উঠেছে।


এদিকে, আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর,আরও আজ শনিবার দক্ষিণবঙ্গে এবং উত্তরবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯ তারিখ অর্থাৎ আজ শনিবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি আরও বাড়বে।


এবং দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূমে তা বাড়বে। ১১ তারিখ বর্ষা দক্ষিণবঙ্গে ঢুকেছে। ইতিমধ্যে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে মানা করে দেওয়া হয়েছে।


আগামী বুধবার পর্যন্ত কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, দুই মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এইক অবস্থা থাকতে পারে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টি শুরু হয়েছিল বুধবার রাত থেকে। আর তা চলল রাতভর। ফলে যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা-ই হল। জলবন্দি কলকাতা। তবে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর জেরে সমস্যা আরও বাড়তে পারে মানুষের।

এই পরিস্থিতিতে গতকাল পুরসভায় উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মূলত শহরের আদিগঙ্গা ও তার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়। ফিরহাদ আগেই বলেছিলেন, পুরসভা প্রস্তুত ছিল। তবে প্রকৃতির উপর কারও হাত নেই। পুরসভার কাছে কোনও জাদুকাঠিও নেই।

জানা গেছে, টালি নালার সংস্কারের কাজের জন্য যে টেন্ডার ডাকা হয়েছিল, তাতে একটিমাত্র সাড়া মিলেছে। বিশ্বব্যাংকের কাছে অনুমোদনের জন্য চিঠিও গিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ওয়ার্ক অর্ডার বেরোতে পারে। গড়িয়া থেকে দই ঘাট সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নালা পরিষ্কার করার জন্য ৪০৭ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে। সময় লাগবে ৩০ মাস।


আবহাওয়া দফতর পরামর্শ দিয়েছে, বাড়িতেই থাকুন। কলকাতার বিভিন্ন এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছিল। কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড, লাউডন স্ট্রিট, সাদার্ন অ্যাভিনিউ, কসবা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, ঠনঠনিয়া, কসবা, বেহালা, টালিগঞ্জের মতো জায়গায় জল জমে যায়।
জল জমে থাকা নিয়ে বেজায় নাজেহাল হয়েছিলেন কলকাতার মানুষ। এর পাশাপাশি একই ছবি বিভিন্ন জেলায়। বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির ফলে জল জমে গিয়েছে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।


এর কারণ আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনিতে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে রয়েছে। এর পর টানা বৃষ্টি হলে তা আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এদিন সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত কলকাতায় ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তার আশপাশের এলাকায় তৈরি হয়েছে ঘূর্ণাবর্ত। আর এর জেরেই এই অবস্থা। কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টি।
মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে মাঝ ধরতে না-যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আগামী কয়েকদিন বর্জবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় মানুষকে বাড়ির বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় জল জমে থাকায় আবার বিদ্যুৎ পরিষেবাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু মানুষের প্রশ্ন একটাই, কবে বৃষ্টি থামবে, কবেই বা জল নামবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here