গীতাপাঠ শুনতে ব্রিগেডের পিছনে মাটিতে গিয়ে বসলেন শুভেন্দু , অনুষ্ঠানে গিয়ে মমতার তুলোধনা করলেন সুকান্ত

0
101

গীতাপাঠ শুরুর আগে ব্রিগেডের  মাটিতে বেজে উঠেছে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও কীর্তনের সুর। দুপুর বারোটার কিছু পরে মূল গীতাপাঠ পর্বের শুভারম্ভ হয়। আয়োজকদের প্রাথমিক বার্তা, প্রথম, নবম ও অষ্টাদশ অধ্যায় মিলিয়েই এ দিনের বিশেষ পাঠের আয়োজন ।

সকাল থেকেই মাঠে ভিড় জমতে শুরু করেছে। আয়োজনকারী ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’ দাবি করছে— এ বারে পাঁচ লক্ষ মানুষ একযোগে গীতা পাঠে অংশ নেবেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একই সংগঠনের উদ্যোগে ব্রিগেডেই হয়েছিল গীতাপাঠ, সেবারে লক্ষ্য ছিল এক লক্ষ অংশগ্রহণকারী।

এ দিনের জমায়েতে দুপুরের আগে প্রায় একই সময়ে মাঠে পৌঁছন সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ ঘোষ। কিছু পরে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে নির্দিষ্ট প্রথম সারির আসনে তাঁকে দেখা গেল না। বরং মাঠের একেবারে পিছন দিকে, মাটিতে আসন পেতে বসতে দেখা গেল তাঁকে। পাশেই ছিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়।

গত লোকসভা ভোটের আগেও ব্রিগেডে  হয়েছিল ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’। কয়েক মাস বাদেই বিধানসভা নির্বাচন। সেই প্রেক্ষিতে রবিবারের আয়োজনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে অনুষ্ঠান, দুপুর ২টো পর্যন্ত চলবে গীতাপাঠ। শুরুতেই ছিল বেদপাঠ।

তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে মঞ্চ—
মূল মঞ্চ ‘পার্থসারথি’, যেখানে বসছেন দেড়শোর বেশি সাধু-সন্ত।

বাঁ দিকে চৈতন্য মহাপ্রভু মঞ্চ।
ডান দিকে শঙ্করাচার্য মঞ্চ।
প্রবেশ ও প্রস্থান মিলিয়ে ২৫টি গেট।

ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আগত ভক্তদের অংশগ্রহণের দাবি উদ্যোক্তাদের। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মতুয়া-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের।

ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান কার্তিক মহারাজ জানান, নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। গীতাপাঠে যোগ দেবেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। আমন্ত্রণ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনও সাড়া মেলেনি— যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব বিজেপি।

সনাতন সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহাসমারোহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, এমনকি বাংলাদেশ এবং নেপাল থেকেও বহু মানুষ যোগ দিতে এসেছেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে, চলবে দুপুর ২টো পর্যন্ত।

প্রসঙ্গত ,৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় মহাসমারোহে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ফেলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভোটমুখী বাংলায় নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। নতুন দল ঘোষণার কথাও বলেছেন। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ব্রিগেডে হচ্ছে ৫ লক্ষ কণ্টে গীতা পাঠের অনুষ্ঠান। কার্তিক মহারাজ থেকে সাধ্বী ঋতম্ভরা, রামদেবরা যেমন থাকছেন তেমনই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদাররাও থাকছেন। গীতপাঠ নিয়েও রাজনীতির আঙিনায় চড়ছে পারদ। এবার গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে গিয়ে হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। 

সুকান্তর সাফ কথা, “আমরা গতকাল যা দেখেছি, তাতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে হিন্দু ভোটকে ভাগ করা এবং মুসলিম ভোটকে এক করার চক্রান্ত চলছে। যা হচ্ছে তার জন্য দায়ী হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তিকে তোল্লা দিয়ে উপরে তুলেছে। একুশের ভোটে তো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে সিংহভাগ হিন্দু ভোট দেয়নি। হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করে না।”  

ফলে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মতোই গীতপাঠ নিয়েও চড়ছে রাজনীতির পারদ। যদিও সুকান্ত বলছেন, “নির্বাচনের সঙ্গে গীতাপাঠের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। গীতাপাঠ হিন্দুদের অনুষ্ঠন। রাজনীতি রাজনীতির মতো থাকবে, গীতা তো শ্বাশ্বত।”  

Previous articleAuxilium Convent School, Dum Dum hosted its Annual Sports Meet – Auxi Grande Specttacolo – on 2025
Next articleবনগাঁ পুরসভায় অচলাবস্থা, আস্থা বৈঠকের ডাক গোপাল শেঠ বিরোধীদের

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here