Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

ভবানীপুরেরই বিধায়ক হলেন শুভেন্দু , ‘তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক বলেছেন, তাঁরা স্বাধীনতা পেয়েছেন’, শপথের পর বললেন মুখ্যমন্ত্রী

deshersamay

Share article:

West Bengal Assembly Session 2026 নব নির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ। প্রথমেই শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। বিধানসভায় প্রবেশের পরেই বিআর আম্বেডকরের মূর্তিতে মালা দেন তিনি। এর পরে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। বিধানসভা ভবনের ভিতরে ঢোকার আগে নতজানু হয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু। ভিতরে ঢুকে পুজোও করেন তিনি। ফেসবুকে সে ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন নিজেই।

এ দিন বিধায়ক হিসেবে প্রথমেই শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। এর পরে একে একে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিকরা। শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়।

বুধবার ১৮তম রাজ্য বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক
হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই এক নতুন রাজনৈতিক মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার বিধানসভায় উপস্থিত হন তিনি। আর বিধায়ক হিসেবে শপথগ্রহণ পর্ব মিটতেই নিজের দলের এবং সমবেত বিধায়কদের উদ্দেশে একগুচ্ছ বার্তা দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট কথা, এবার থেকে শাসনব্যবস্থায় কোনও গোপনীয়তা থাকবে না এবং সরকার পরিচালিত হবে সরাসরি জনগণের স্বার্থে। শুভেন্দুর কথায়, ”এবার থেকে বিধানসভায় কোনও কিছু গোপন থাকবে না। জনগণের দ্বারা, জনগণের সরকার দেখবে সাধারণ মানুষ।” পাশাপাশি বিধায়কদের তাঁর বার্তা, ”সবাই নিজের নিজের এলাকায় যান। মানুষ আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

এদিন বিধানসভা ভবনে প্রবেশ করার পর সবথেকে বেশি চমক ছিল মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতি। সৌজন্যের খাতিরে হোক বা অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণে, শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে একে একে প্রবেশ করতে দেখা যায় হরিহরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখ, রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান এবং সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাসের মতো নেতাদের। সেই প্রসঙ্গেই বড় মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তাঁর কথায়, “তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক আমাকে বলেছেন, আমরা স্বাধীনতা পেলাম”। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে এখন এক মুক্ত বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এখন থেকে সরকারি কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই হবে এই নতুন প্রশাসনের প্রধান স্তম্ভ। সাধারণ মানুষ যেভাবে তাঁদের ওপর ভরসা করে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

প্রশাসনিক ব্যয় সঙ্কোচ এবং আড়ম্বরহীন জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর কনভয়ের গাড়ি কমিয়ে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনিও সেই একই পথ অনুসরণ করবেন। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বিলাসিতা নয়, বরং সেই অর্থ মানুষের কাজেই ব্যয় হবে – এই বার্তাই তিনি এদিন দিতে চেয়েছেন।

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হয়ে শপথ নিলেও, নিজের রাজনৈতিক উত্থানের মাটি নন্দীগ্রামকে যে তিনি ভুলে যাননি, তাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০০৫ সালে যখন ফিরোজা বিবি নন্দীগ্রামের বিধায়ক হয়েছিলেন, সেই সময় থেকেই তিনি ওখানকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হিসেবে রয়েছেন বলে জানান। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “আমি ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেও নন্দীগ্রামের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। ওখান থেকে নিশ্চয়ই নতুন কেউ জিতে আসবেন, কিন্তু আমার দায়বদ্ধতা একই থাকবে”।

সব মিলিয়ে, বিধানসভার প্রথম দিনেই শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন যে, তাঁর সরকার কেবল নবান্নের চার দেওয়ালে বন্দি থাকবে না, বরং ‘জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য’ সরকার হিসেবেই কাজ করবে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আর সাধারণ মানুষের পাশে থাকাই যে তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য, এদিনের বক্তব্যে তা আরও একবার দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠল।

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.