

মঙ্গলবার রাজ্যের একাধিক আদালতে বোমাতঙ্ক। এ দিন সিটি সিভিল কোর্ট (City Civil Court), আসানসোল জেলা আদালত, দুর্গাপুর মহকুমা আদালত, মুর্শিদাবাদ জেলা জজ অফিসে বোমা রাখার হুমকি দেওয়া হয়।

ফের শহরে বোমাতঙ্ক। এবার সিটি সিভিল কোর্টের প্রধান বিচারকের ফোনে পাঠানো হল হুমকি মেল (judge receives threat mail)। দ্রুত খবর দেওয়া হয় বম্ব স্কোয়াডে। আদালত চত্বরজুড়ে তল্লাশি চলছে । পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে পাঠানো ওই হুমকি ইমেলে দাবি করা হয়, সিটি সিভিল কোর্ট বা নগর দায়রা আদালতে বোমা রাখা হয়েছে। এরপরই দ্রুত গোটা বিল্ডিং খালি করে দেওয়া হয়। বম্ব স্কোয়াড তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি, স্নিফার ডগও আনা হয়েছে । যদিও এখনও পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
এর নেপথ্যে কোনও চক্রান্ত আছে নাকি নিছক মজার ছলে এই মেল পাঠানো হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

পাশাপাশি এ দিন বেলা ১২টা নাগাদ জেলা জজের মোবাইলে একটি ফোন আসে। সেখানে দাবি করা হয় আদালত চত্বরে বোমা রাখা রয়েছে। এর পরেই তড়িঘড়ি আদালত খালি করে দেওয়া হয়। শুরু হয় তল্লাশি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই দুর্গাপুর মহকুমা আদালতেও বোমা রাখা রয়েছে, এই দাবি করে একটি মেল করা হয়। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সেখানেও চলছে তল্লাশি।

এ দিনই মুর্শিদাবাদ জেলা জজ অফিসে হুমকি মেইল আসে। SIR নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা জজ ও জেলার অতিরিক্ত দায়রা বিচারকরা যাতে কোনও রকম হস্তক্ষেপ না করে, সেই বিষয়ে হুমকি দিয়ে একটি মেল করা হয়। সেখানে আদালতে বিস্ফোরণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে, জানান মুর্শিদাবাদ জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু বাক্কার সিদ্দিকি। তিনি জানান, স্নিফার ডগ দিয়ে গোটা আদালত চত্বরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

কিছুদিন আগে কলকাতা থেকে শিলংগামী একটি ফ্লাইটেও বোমা রাখা আছে বলে চিরকুট মিলেছিল। তাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানের শৌচাগারে ওই চিরকুট রাখা হয়েছিল। তাতে লেখা ছিল, বিমানে বোমা রাখা হয়েছে। তারফলে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। বিমানের ক্রু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে সুরক্ষিত ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে বিমানে তল্লাশি করা হয়েছিল। যদিও সেখান থেকেও সন্দেহজনক কিছু উদ্ধার হয়নি। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই দিল্লির বিভিন্ন স্কুলগুলিতে বিস্ফোরণের ভুয়ো হুমকি দিয়ে আসছিল উড়ো মেল। সেই মেলগুলির নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে, তা জানার জন্য তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। এ বার খাস কলকাতার সিটি সিভিল কোর্টে বোমাতঙ্ক।




