

সীমান্ত শহরে ইতিমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূলের তরুণ তুর্কী ঋতুপর্ণা আঢ্যর নাম।
ঋতুপর্ণা রাজনীতিবিদ। তবে তাঁর আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারও। ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকে সক্রিয়। আবার ‘বিজনেস ওম্যান’-ও।

বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা অব্যাহত। তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহ বাড়ছে ভোটারদের মধ্যে।
অতীত বিতর্ক এবং বর্তমান প্রার্থীপদ—এই দুই মিলিয়ে ঋতুপর্ণা আঢ্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ঋতুপর্ণার বেড়ে ওঠা বনগাঁতেই। তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১৯৯৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর। বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক। বাবা শঙ্কর আঢ্য এবং মা জ্যোৎস্না আঢ্য উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে পরিচত মুখ। দু’জনেই বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যানও হয়েছেন।

স্বাভাবিক ভাবে রাজনৈতিক পরিবেশেই বড় হয়েছেন ঋতুপর্ণা। চোখের সামনে দেখেছেন এর চলন-বলন। তবে রাজনীতির ময়দানে হাত শিবিরের হাত ধরেই হাতেখড়ি হয় তাঁর। কংগ্রেসের হয়ে জীবনের প্রথম পুরসভা নির্বাচনে লড়েন তিনি। সহজে জেতেনও। পরে তৃণমূলে যোগ দেন।
তবে অতীতে বিতর্কেও জড়িয়েছেন ঋতুপর্ণা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একাধিক মামলায় তাঁর বাবা শঙ্কর আঢ্যর নাম জড়িয়েছে। জেল হেফাজতেও ছিলেন। রেশন দুর্নীতি মামলায় আবার ঋতুপর্ণাকে নজরদারির আওতায় রেখেছিলেন তদন্তকারীরা। একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর মা জ্যোৎস্নার বিরুদ্ধে। এই মামলায় ঋতুপর্ণাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
ঋতুপর্ণা এখন বনগাঁ পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার পরেই বিজেপিকে হারানোর শপথ নিয়েছেন তিনি। বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে জিতে একটি হাসপাতাল গড়ার স্বপ্ন দেখেন ঋতুপর্ণা। তাঁর মতে, এতে গাইঘাটা, গোপালনগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় মানুষের সুরাহা হবে। নিজের কাজের প্রতি তাঁর বিশ্বাস অটুট। বিজেপিকে নিয়ে ভাবছেনই না তিনি।
এবার প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর তাঁর জমা দেওয়া হলফনামা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। দেখুন ভিডিও
হলফনামা অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক পাশ ঋতুপর্ণা আঢ্য বর্তমানে কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮২ লক্ষ ৭৫ হাজার ৩৭০ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৩২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
ব্যাঙ্কে জমার নিরিখে দেখা যাচ্ছে, ঋতুপর্ণার মোট ছ’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১১ লক্ষ ৮৪ হাজার ২৯৬ টাকা। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও পোস্ট অফিসে ছড়িয়ে রয়েছে এই অর্থ। এর মধ্যে পোস্ট অফিসেই জমা রয়েছে ১০ লক্ষের বেশি টাকা।

মনোনয়ন জমার সময় তাঁর হাতে নগদ ছিল ৯১ হাজার ৬৬ টাকা। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই এই প্রার্থী। একটি সংস্থার পার্টনারশিপে তাঁর বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৪ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬১২ টাকা। পাশাপাশি একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ রয়েছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। সম্পদের তালিকায় রয়েছে একটি গাড়ি, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। তবে এই গাড়ির জন্য তাঁর ঋণ রয়েছে ১৩ লক্ষ টাকার কিছু বেশি।
তাঁর কাছে রয়েছে ১৫০ গ্রাম সোনা, যার আনুমানিক মূল্য ২২ লক্ষ ৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে দুটি কৃষিজমি এবং দুটি বসতবাড়ি। সব মিলিয়ে তার এই সম্পত্তির পরিমাণ ও বাবা মার সঙ্গে মেয়ের অতীতের বিতর্ক এখন বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বিরোধীদের প্রচারের।
তবে রাজনীতি, সমাজসেবার বাইরেও ঋতুপর্ণার আরও একটি পরিচয় রয়েছে। সেটা হলো তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ইনস্টাগ্রামে তিনি সক্রিয়। ফলোয়ার্সও ভালোই। ইশ্বরের প্রতি তাঁর ভক্তি-শ্রদ্ধাও খুব। একাধিক মন্দিরে পুজো দেওয়ার ছবি, ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন তিনি।

ফেসবুক বায়োতে বিজনেস ওম্যান বলেও নিজের পরিচয় দিয়েছেন। এখন বনগাঁ ঋতুপর্ণাকে জিতিয়ে আনে কি না, সেটাই দেখার। তবে শেষ হাসি কে হাসে তার জন্য অপেক্ষা ভোটের ফলাফলের।
ফেসবুক বায়োতে বিজনেস ওম্যান বলেও নিজের পরিচয় দিয়েছেন ঋতুপর্ণা।
এখন বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় কিনা , তার জন্য অপেক্ষা ভোটের ফলাফলের।



