

২০১৪ সালে দিল্লির মসনদ দখল করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’! অর্থাৎ, তিনি নিজে ঘুষ খাবেন না। কাউকে খেতেও দেবেন না। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকারে খাদ্য দপ্তরের মন্ত্রী হয়ে সেই হুঁশিয়ারিই দিলেন অশোক কীর্তনিয়া। তৃণমূল জমানায় দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছিল রাজ্যের খাদ্য দপ্তর। জেলে গিয়েছিলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও। সেই দপ্তরের দায়িত্ব পেয়ে এ বার দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিলেন অশোক। সাত দিন সময় চেয়ে মন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা হবে। তাঁর হাতে থাকা খাদ্য এবং সমবায় দপ্তরে কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি দুর্নীতি হতে দেবেন না।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন অশোক। তার পর মঙ্গলে প্রথমবার খাদ্য দপ্তরে যান তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে এক সপ্তাহ সময় দিন। যারা এই দুর্নীতি করেছে, আগে তাঁদের ব্যবস্থা করি। আমার উপর বিশ্বাস আছে বলেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাকে সেই দপ্তরই দিয়েছেন, যে দপ্তরে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে।’ নিজেকে ‘মাটির মানুষ’ বলে বর্ণনা করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনে কোনও দিন গায়ে কাদা লাগাতে দিইনি। রেশনে কোনও দুর্নীতি করতে দেব না।

খাদ্যভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা আমাকে মাত্র এক সপ্তাহ সময় দিন। যাঁদের মাধ্যমে এই দুর্নীতি হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেব।” তিনি স্পষ্ট জানান, মে মাসে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকলেও জুন মাস থেকে উপভোক্তারা রেশনে উৎকৃষ্ট মানের খাদ্যসামগ্রী পাবেন।

তৃণমূল জমানায় খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালু। তাঁর সময়েই খাদ্য দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরে তার তদন্তভার যায় ইডির হাতে। দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার হন বালু। পরে অবশ্য তিনি জামিনে মুক্তি পান। এর পরে তৃণমূল সরকারের খাদ্যমন্ত্রী হন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। ঘটনাচক্রে, অশোকও বালু এবং রথীনের মতো উত্তর ২৪ পরগনারই বাসিন্দা। তিনি বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক। অশোকের দাবি, খাদ্য দপ্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই দপ্তরের অনেক কিছুই এ বার বদলে যাবে। যাঁরা ভারতের নাগরিক নন, তাঁরা সরকারি সুযোগ সুবিধা পাবেন না। না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা।’

প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গেও অশোক বলেন, ‘আরও অনেকে গ্রেপ্তার হবেন। দেখুন না কী হয়!’




