‘অনেক জেলায় তৃণমূল খাতা খুলবে না ,৫০ বছরে বাংলায় এমন শান্ত ভোট হয়নি’, জোড়া সভা থেকে তীব্র আক্রমণ মোদীর

0
2

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার হাইভোল্টেজ ভোটগ্রহণের দিনেই কৃষ্ণনগর ও মথুরাপুরে জোড়া জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী । রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনে হিংসা কম হওয়া এবং মানুষের নির্ভয়ে ভোট দেওয়া নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

কৃষ্ণনগরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমার ৫০ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, বাংলায় এই প্রথম এমন নির্বাচন হচ্ছে যেখানে সবচেয়ে কম হিংসার ঘটনা ঘটছে।’’ অতীতে রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তৃণমূলকে বিঁধে বলেন, ‘‘আগে তো লোককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বলা হতো আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু এবার আমি দেখতে পাচ্ছি মানুষের মধ্য থেকে ভয় দূর হচ্ছে। ভয় থেকে মুক্তি পেতেই পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিচ্ছেন।’’

রাজ্যের জেলাগুলি ঘুরে মানুষের মেজাজ বুঝে প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী-বিধায়কদের কাজে মানুষ অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলের জঙ্গলরাজের বিরুদ্ধে এবার জনতা শঙ্খে ফুঁ দিচ্ছে। অনেক জেলায় এবার তৃণমূল খাতা খুলতে পারবে না। এবার বিজেপি লড়ছে না, এই ভোট লড়ছে বাংলার সাধারণ মানুষ।’’ সরকারি কর্মচারী, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং শিক্ষকদের ভয়মুক্ত ভবিষ্যতের জন্য ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, মথুরাপুরের সভায় মোদী কেন্দ্রের ১১ বছরের শাসনের সঙ্গে রাজ্যের ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের তুলনা টানেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিদ্যুৎ, আবাস যোজনা, ১২ কোটি শৌচালয় এবং ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র থেকে বের করে এনেছি। ৩ কোটি মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ বানিয়েছি। কিন্তু তৃণমূল এত বছরে কী দিয়েছে? শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি।’’ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং মেগা ফুড পার্কের ঘোষণা রূপায়িত না হওয়া নিয়ে মথুরাপুরের মানুষকে সতর্ক করেন তিনি।

রাজ্যের নতুন প্রজন্মের ভোটারদের উদ্দেশে মোদীর বার্তা, ‘‘ভরসার পক্ষে ভোট দিন। পশ্চিমবঙ্গ পরিবর্তনের ঝড় চলছে। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি – ভয় হারছে, ভরসা জিতছে।’’ প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ৪ মে ফল প্রকাশের পরই বাংলার রাজনীতিতে নতুন সূর্যোদয় ঘটবে এবং তৃণমূলের শাসনের অবসান হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দফার ভোটের দিনই মোদীর এই ‘হিংসামুক্ত’ নির্বাচনের সার্টিফিকেট এবং নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা আসলে রাজ্যের ভোটারদের বুথমুখী করার এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি সুকৌশলী পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে ‘জঙ্গলরাজ’ ও ‘ভয়’ শব্দগুলি ব্যবহার করে তিনি সরাসরি তৃণমূলের মেরুদণ্ডে আঘাত করতে চেয়েছেন। এখন মোদীর এই ‘ভয়মুক্ত’ ভোটদানের দাবি ইভিএমে কতটা প্রতিফলিত হয়, তা জানা যাবে ৪ মে।

Previous articleকপ্টার-বিভ্রাট? প্রায় পাঁচ ঘন্টা অপেক্ষার পর “দেব’ দর্শন বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ! দেখুন ভিডিও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here