World Cup 2026: বিশ্বকাপের মঞ্চে রেকর্ড ছুঁয়েও কান্না মেসির!
deshersamay
মাঠের ভেতর যখন গোলের পর কান্নায় ভেঙে পড়ছেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi), তখন ফুটবল দুনিয়া জুড়ে তৈরি হয়েছিল এক বড়সড় প্রশ্ন। অবশেষে বৃহস্পতিবার ফুটবল আইকনের পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হলো সেই আবেগের আসল কারণ। মেসি-পরিবার জানিয়েছে, লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি বর্তমানে একটি শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং তিনি চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর এই যে, তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার ইতিবাচক উন্নতি হচ্ছে।
গত বুধবার আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার চলতি ফিফা বিশ্বকাপ অভিযানের প্রথম ম্যাচে গোল করার পর মেসিকে মাঠের মধ্যেই অশ্রুসজল চোখে দেখা গিয়েছিল। ম্যাচের পর মেসি নিজেই খোলসা করেন যে, তাঁর এই কান্না খেলার সাথে সম্পর্কিত নয়। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে খেলাধুলার বাইরের একটি বিষয় ছিল। আমি কিছু অত্যন্ত কঠিন ও জটিল দিন পার করেছি। আমি পুরো দলের প্রতিনিধি দল এবং আমার সমস্ত সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ তাঁরা সবসময় আমার পাশে থেকেছেন এবং আমাকে প্রচুর শক্তি জুগিয়েছেন।”
ফুটবল বিষয়ক জনপ্রিয় মাধ্যম ‘৪৩৩’-এ প্রকাশিত মেসির পরিবারের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জর্জ মেসি চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে সুস্থতার দিকেই এগোচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর অসুস্থতা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নানাবিধ গুজব ও জল্পনা-কল্পনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মেসির পরিবার।
বিবৃতিতে বলা হয়, “গত কয়েক ঘণ্টায় যে ধরণের খবর ও জল্পনা ছড়ানো হয়েছে, তাতে এই পারিবারিক ও একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়টির প্রতি কিছু মানুষের সংবেদনশীলতা, সম্মান এবং বিচক্ষণতার অভাব দেখে পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত।” পরিবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জর্জ মেসির শারীরিক অবস্থার সঠিক ও নিখুঁত তথ্য কেবল তাঁর নিকটাত্মীয়দের কাছেই রয়েছে।
তাই পরিবারের অফিসিয়াল মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো সূত্র থেকে আসা তথ্যকে বৈধ বা সত্য বলে গণ্য না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে এই কঠিন সময়ে সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের কাছে দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছে মেসির পরিবার।
পারিবারিক এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝেই মাঠের ভেতর এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন আধুনিক ফুটবলের এই জাদুকর। ঠিক ২০ বছর আগে ১৬ জুন তারিখে বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির অভিষেক হয়েছিল। আর ঠিক সেই দিনটিতেই (১৬ জুন) নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করেন তিনি। এই হ্যাটট্রিকের ওপর ভর করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোজের (১৬টি গোল) রেকর্ডে ভাগ বসালেন মেসি। এর পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার ঐতিহাসিক মাইলফলকও স্পর্শ করলেন এলএম১০ (LM10)। আগামী ২২ জুন টেক্সাসে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা।

Leave a Reply