সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ দিতেই প্রকাশ্যে সুমিত, অবশেষে ভবানী ভবনে গেলেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক
deshersamay

সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিতেই প্রকাশ্যে এলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। রক্ষাকবচের শর্ত মেনে শনিবার সকাল ১০টার কিছু আগে ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন তিনি।

শালবনিতে জমি দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই সুমিতের খোঁজ করছিল সিআইডি। কিন্তু তাঁর হদিশ মেলেনি। তবে সিআইডি তাঁর খোঁজ শুরু করতেই আগাম জামিন চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিত। শেষমেশ শীর্ষ আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়ার পরেও তদন্তকারীদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের আপ্তসহায়ক।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, সুমিতকে এখনই গ্রেপ্তার করা যাবে না। তবে এই রক্ষাকবচের মেয়াদ ১৪ অগস্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, তদন্তকারী অফিসারকে সন্তুষ্ট করে বন্ডে জামিন নিলেও তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থানায় হাজির থাকতে হবে। তাঁর সঙ্গে কোনও আইনজীবী বা অন্য কেউ থাকতে পারবেন না।

সুমিতের বিরুদ্ধে শালবনি থানায় জমি-দুর্নীতি ও ডেবরা থানায় টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগের মামলা হয়েছিল। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট চাকরির প্রতারণার মামলায় আগাম জামিন দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু শালবনির জমি-প্রতারণা মামলায় আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়। গত জুন মাসে শালবনির পুলিশ সুমিতের খোঁজে অভিষেকের বাড়িতে তালা ভেঙে ঢুকেছিল। খবর পেয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেখানে হাজির হয়েছিলেন। পুলিশের দাবি ছিল, সুমিতের মোবাইলের ‘শেষ লোকেশন’ দেখে অভিষেকের বাড়িতে হানা দেওয়া হয়।

সিআইডি দফতরে হাজিরা দিলেও আইনি জট কিন্তু পুরোপুরি কাটেনি সুমিত রায়ের। তাঁর বিরুদ্ধে এখনও অতিরিক্ত দুটি পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সেই জোড়া মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে এবং আগাম রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। দ্রুত শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছিল সুমিতের আইনজীবীদের তরফে। তবে শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সেই জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নির্দিষ্ট কাজের তালিকা মেনেই মামলার নিয়মমাফিক শুনানি গ্রহণ করা হবে।

