প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

সরকারি নিয়মে বড় বদল, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র আর ইস্যু করবেন না পঞ্চায়েত-পুর প্রধানরা!বনগাঁ পুরসভা ও ধর্মপুকুরিয়া পঞ্চায়েতে পুলিশি অভিযান

deshersamay

Share article:

সরকারি নিয়মে বড় বদল নবান্নের । জন্ম-মৃত্যুর জাল শংসাপত্র নিয়ে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। মুখ্যসচিবের নির্দেশের পরই জেলায় জেলায় নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। এরই মধ্যে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। এবার থেকে পঞ্চায়েত ও পুর প্রধানরা আর জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবেন না। সরকারি আধিকারিকরাই একমাত্র শংসাপত্র দিতে পারবেন। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানিয়ে মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল ।

রাজ্য সরকারের বিশেষ নির্দেশিকাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যজুড়ে পুরসভা এবং গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়গুলি থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধীকরণের সমস্ত পুরোনো খাতা ও শংসাপত্র সংরক্ষণের উদ্যোগ নিল রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী বনগাঁ পুরসভা এবং বনগাঁ ব্লকের ধর্মপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে পুলিশের টিম পৌঁছে জন্ম ও মৃত্যুর যাবতীয় রেজিস্ট্রেশন খাতা পরিদর্শন ও তা নিজেদের হেফাজতে নিল।

বনগাঁ পুরসভা সূত্রে খবর, এদিন বনগাঁ থানার পুলিশ বাহিনী প্রশাসনিক কর্তাদের উপস্থিতিতে পুরসভায় এসে পৌঁছায়। গত ১৫ থেকে ১৬ বছরের জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও শংসাপত্র খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করে এবং তা সংগ্রহ করে। এ বিষয়ে বনগাঁ পুরসভার প্রধান দিলীপ মজুমদার জানান, উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনেই পুলিশ প্রশাসন পুরসভায় এসেছিল। তারা গত ১৫-১৬ বছরের জন্ম এবং মৃত্যুর যাবতীয় সার্টিফিকেট ও রেজিস্টার ভালো করে যাচাই এবং সংগ্রহ করতে চায়। পুরসভার তরফে পুলিশকে এই কাজে সম্পূর্ণভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করা হয়েছে।

একই ছবি ধরা পড়েছে বনগাঁ ব্লকের ধর্মপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতেও। ব্লক প্রশাসন তথা বিডিও কার্যালয়ের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী পঞ্চায়েত অফিসে হাজির হন পুলিশ আধিকারিকেরা। সেখানে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নথিভুক্ত থাকা জন্ম ও মৃত্যুর সমস্ত সরকারি নিবন্ধীকরণ খাতা নিজেদের সংরক্ষণে নেওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এই অভিযান সম্পর্কে ধর্মপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তাপস মণ্ডল জানান, পুলিশ যে পঞ্চায়েতে এসে জন্ম ও মৃত্যুর রেজিস্ট্রার পরিদর্শন করবে এবং প্রয়োজনে তা সিজ (বাজেয়াপ্ত) করবে, সে বিষয়ে বিডিও অফিস থেকে তাঁদের আগেই অবহিত করা হয়েছিল। সেই সরকারি নির্দেশ মেনেই ১৯৯৮ সাল থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত সমস্ত খাতা পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

হঠাৎ কেন এই দীর্ঘ সময়কালের জন্ম-মৃত্যুর নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এ নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হলেও প্রশাসনিক সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই অভিযানের সঙ্গে এনআরসি-র কোনো যোগসূত্র নেই। মূলত সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা এবং জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র সংক্রান্ত তথ্যে কোনো অস্বচ্ছতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই রাজ্য সরকারের নির্দেশে পুলিশের এই বিশেষ পদক্ষেপ।‌

কেন সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের?
নবান্নের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রে একমাত্র সরকারি আধিকারিকদের সইয়ের ক্ষমতা থাকবে। কেন সিদ্ধান্ত সেই বিষয়ে কারণও ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল। এসআইআরের কাজ চলাকালীন দেখা গিয়েছে, প্রচুর ভুয়ো শংসাপত্র পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে এই ধরনের শংসাপত্রের অভিযোগ বেশি পাওয়া গিয়েছে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরে। এই বার্থ সার্টিফিকেটের উপর নির্ভর করে আধার কার্ড-সহ অন্যান্য পরিচয়পত্র বানানোর কাজ। তাই,বার্থ সার্টিফিকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে, পুরো বিষয়টাই বেআইনি হয়ে যাবে। জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রে যাতে কোনও রকম ভুল না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কী বলছেন সুকান্ত ভট্টাচার্য?
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “যদি পঞ্চায়েত প্রধান ও মিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যানের হাতে যদি এই দায়িত্ব থাকে, স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁরা এই কাজটা করেছেন। আর সেক্ষেত্রে দায়িত্ব নেওয়া বিষয়ে পরবর্তীকালে যদি কোনও ভুল বেরোয়, যেহেতু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেক্ষেত্রে তাঁদের পালানোর জায়গা থাকে। সরকারি আধিকারিকদের হাতে যদি দায়িত্ব থাকে, তাহলে তাঁদের চাকরির কথা মাথায় রেখে সবসময় ঠিকঠাক শংসাপাত্র দেওয়ার চেষ্টা করবেন। বাংলাদেশের অনেক নাগরিক বার্থ সার্টিফিকেট জাল করে এই দেশের নাগরিক হয়েছেন। এটা তো আর আমরা চলতে দেব না।”

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন