সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর সরকারের! ৬ মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ
deshersamay

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তার পরেই রাজ্যে গঠিত হলো সপ্তম পে কমিশন। বেতন-ভাতা, DA ও পেনশন খতিয়ে দেখতে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং ছয় মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর। বহুল প্রতীক্ষিত
সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বড় পদক্ষেপ। এই ক্ষেত্রে কমিশন গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এই বিষয়ে গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি।
সপ্তম বেতন কমিশনের কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএস অতনু চক্রবর্তীকে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র গবেষক ডক্টর পার্থ মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি সদস্য করা হয়েছে আইআইএম কলকাতার অর্থনীতির অধ্যাপক ডক্টর পার্থ প্রতিম পালকে। এ ছাড়া কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইএএস তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের সচিব দেবী প্রসাদ করণম।

বস্তুত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে বাংলায় এসে এই সপ্তম বেতন কমিশন চালুর বিষয়ে বারংবার জোরালো সওয়াল করেছিল কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এ রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে যে সমস্ত ‘গ্যারেন্টি’র কথা ঘোষণা করেছিলেন, তার মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই সপ্তম বেতন কমিশন গঠন ছিল অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে পদ্ম শিবির ক্ষমতায় আসার ঠিক ৪৫ দিনের মধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে।

এক নজরে
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তার পরেই গঠিত হলো সপ্তম পে কমিশন।
বেতন-ভাতা, DA ও পেনশন খতিয়ে দেখতে কমিশন গঠন।
ছয় মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অতনু চক্রবর্তী।
সদস্য ড. পার্থ মুখোপাধ্যায় ও ড. পার্থ প্রতিম পাল, মেম্বার সেক্রেটারি দেবীপ্রসাদ করনম।
কেন্দ্রীয় সরকার ও অন্য রাজ্যের বেতন কাঠামো, রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় রাখতে পারবে কমিশন।
বেতন কাঠামো, DA, ভাতা, পদোন্নতি নীতি ও পেনশন সংক্রান্ত সুপারিশ করবে কমিশন।

গত মে মাসেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে এই সপ্তম পে কমিশন চালু হওয়ার ফলে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) থেকে শুরু করে বাড়ি ভাড়া ভাতা-সহ অন্যান্য সমস্ত ধরনের আনুষঙ্গিক ভাতা এবং মূল বেতনের গঠন সম্পূর্ণ নতুন নিয়মে নির্ধারিত হতে চলেছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘমেয়াদে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার এক বিপুল ও অভূতপূর্ব উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পশ্চিমবঙ্গে এই সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্যই হল রাজ্য সরকারি কর্মচারী, স্বশাসিত সংস্থার কর্মী, পেনশনভোগী এবং অন্যান্য অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন, ভাতা, অবসরকালীন পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলোর পুনর্বিন্যাস বা সময়োপযোগী সংশোধন করা।

