Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের ৯১ বছরের পুজো ঘিরে বড় ঘোষণা সজল ঘোষের! হয়ে গেল খুঁটিপুজো, এবার থিম কী?

deshersamay

Share article:

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে সেজে উঠছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার তথা নেবুতলা পার্কের দুর্গাপূজা। সমস্ত বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে, এক বুক উদ্দীপনা নিয়ে রবিবার সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এই ঐতিহ্যবাহী পুজো কমিটির খুঁটিপূজো। ৯১ বছরে পদার্পণ করা এই পুজোর বোধন-পর্বকে ঘিরে আজ সকাল থেকেই নেবুতলা পার্কে ছিল চাঁদের হাট।

জগন্নাথ দেবের পুজো এবং বৈদিক হোম-যজ্ঞের মাধ্যমে এ দিন খুঁটিপূজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুজো কমিটির প্রধান কান্ডারী তথা বিধায়ক সজল ঘোষ, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং বিশিষ্ট মৃৎশিল্পী মিন্টু পাল সহ সমাজের বহু গুণীজন।
১৯৩৬ সালে ‘নেবুতলা পার্কের পুজো’ নামে যে শারদোৎসবের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ বিশ্বখ্যাত। তবে এই নামকরণের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে এক রক্তঝরা ইতিহাস।

১৯০০ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া স্বাধীনতা সংগ্রামী সন্তোষ কুমার মিত্র ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে ১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্পে (যা বর্তমানের আইআইটি খড়গপুর) ইংরেজ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। দেশের জন্য তাঁর এই চরম আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই পরবর্তীতে এই পার্ক ও পুজোর নামকরণ করা হয় ‘সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার’। কলকাতার বহু রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সাক্ষী এই প্রাঙ্গণ।

গত কয়েক বছর ধরেই সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো মানেই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় আর চোখধাঁধানো থিমের কোলাজ। তবে এবারের পুজো কমিটির মূল সুর- ‘বন্দী দশা থেকে মুক্তি ও নতুন সূর্যোদয়’।

বিগত ১১ বছর ধরে এই মণ্ডপের প্রতিমা শিল্পী মিন্টু পাল। এদিন তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “এবারের পুজো সব দিক থেকেই স্পেশাল। নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে এক মুক্ত বাতাসে এবার মায়ের আরাধনা হবে। আনন্দ-উন্মাদনাও তাই অনেক বেশি। এবারের পুজো বিশ্বসেরা হবে এটুকু বলতে পারি। তবে থিমটা কী, তা এখনই ভাঙছি না। সজলদাই সময়মতো সেটা জানাবেন।”

পুজোর অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা তথা বিধায়ক সজল ঘোষের গলাতেও আত্মবিশ্বাসের সুর। বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অন্যান্য বছর পুজোকে ঘিরে একটা রাজনৈতিক বাধা থাকত, পুলিশের একটা অসহযোগিতা থাকত। এবার আর সেই চেনা ছবি দেখা যাবে না। এবার পুজো হবে সম্পূর্ণ অন্য রকম।”

একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের জন্য এক বড় সুখবর দিয়ে সজলবাবু জানান, এবার আর মণ্ডপে ঢোকার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই দর্শনার্থীরা অনায়াসে পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখে চলে যেতে পারবেন।
থিম নিয়ে এখনই খোলসা না করলেও, পুজো উদ্যোক্তাদের এই আত্মবিশ্বাস এবং ‘মুক্তির’ বার্তা যে এবার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে নতুন কোনও চমক আনতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই শহরের পুজোপ্রেমীদের।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন