স্বাধীনতা দিবসে হামলার ছক ফাঁস! ধৃত পাক চরের কাছে মিলল ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি-ম্যাপ, তদন্তে সেনাও
deshersamay

দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে গোপনে বসবাস করে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে চরবৃত্তি! সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার শেষ মুহূর্তে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) জালে ধরা পড়ল এক পাক এজেন্ট ও তার সহযোগী । মঙ্গলবার মধ্যরাতে হাবড়ার চোংদা মোড় থেকে গ্রেফতার করা হয় রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলম এবং তার অন্যতম সহযোগী মহম্মদ ইজাজকে। ধৃতের কাছ থেকে সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতর ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাপ উদ্ধার হওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এসটিএফ সূত্রের খবর, ধৃতদের মূল বাড়ি পাকিস্তানের ফয়সলাবাদ জেলার হাফিজাবাদ গ্রামে। ২০১২ সালে নেপালের কাঠমান্ডু ও রকসোল সীমান্ত হয়ে তারা এ রাজ্যে প্রবেশ করে এবং কলকাতার তপসিয়ায় থাকতে শুরু করে। সেখানে ইজাজের সহায়তায় রানা ‘ওয়াহাব আলম’ নাম নিয়ে ভুয়ো আধার ও ভোটার কার্ড তৈরি করে ফেলে। পরে অবশ্য ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তার নাম বাদ যায়।

দীর্ঘদিন ধরে এ দেশে থেকে ভারতীয় সেনার গতিবিধি, সামরিক পরিকাঠামো এবং রেল ব্যবস্থার সংবেদনশীল তথ্য আইএসআই-এর কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান কাজ। এমনকি পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙা সীমান্তে সেনার গতিবিধির ওপরও তারা নজর রাখছিল।

বিশেষ সূত্র মারফৎ খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ যশোর রোড ধরে বাংলাদেশ যাওয়ার পথে তাদের আটক করে এসটিএফ। ধৃতদের কাছ থেকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের একাধিক ফোন নম্বর, দুটি সিম কার্ড, মেসেজ মুছে ফেলা কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ফোন নম্বর লেখা নোটবুক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের আগে তাদের বড় কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সেনা গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এসটিএফ। অতীতে পাক-যোগের অভিযোগে ধৃত হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার ও আদিত্য সিংয়ের সঙ্গেও এদের সরাসরি যোগাযোগ মিলছে। ১৪ বছর ধরে কার আশ্রয়ে থেকে কীভাবে তারা ভুয়ো নথি বানাল এবং সেনার গোপন তথ্য বাইরে পাঠাল, তা বের করতে তদন্তকারীরা দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন।

