Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

Rezwana Choudhury: মধ্যমগ্রামে ওপার বাংলার শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরীর গানের অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি ঘিরে বিতর্ক

deshersamay

Share article:

দেশের সময় , উত্তর ২৪ পরগনা: বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার ও সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের আঁচ কি এ বার এপারের শিল্প জগতেও? প্রশ্নটা উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বাংলাদেশি সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি নিয়ে।

এর আগে শিলিগুড়ির এক ডাক্তার জানিয়েছিলেন, তাঁর চেম্বারের বাইরে ভারতের জাতীয় পতাকা রাখা থাকবে। তা প্রণাম করে তবেই বাংলাদেশি পেশেন্ট ঢুকতে পারবেন।

মানিকতলার এক বেসরকারি হাসপাতাল তো জানিয়েই দিয়েছে, কোনও বাংলাদেশির চিকিৎসা সেখানে হবে না। তবে মধ্যমগ্রাম পুরসভার পুরপ্রধান নিমাই ঘোষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রেজওয়ানার অনুষ্ঠান বাতিলের কোনও প্রশ্নই নেই। শিল্পীদের নিয়ে বিভাজনের রেখা টানতে চান না নিমাই।

২৮ ডিসেম্বর থেকে মধ্যমগ্রামে শুরু হবে পরিবেশ সচেতনতা মেলা। প্রতি বছরই এই মেলার আয়োজন করে মধ্যমগ্রাম পুরসভা। মেলার ক’দিন সন্ধ্যায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। কলকাতা এবং মুম্বইয়ের খ্যাতনামা শিল্পীরা এর আগে এই মেলায় অনুষ্ঠান করে গিয়েছেন। এ বছর উদ্বোধনী সন্ধ্যায় শিল্পীর তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। তাঁর অনুরাগী শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই বিশ্বের যে প্রান্তে বাঙালিরা রয়েছেন, তাঁদের কাছে রেজওয়ানা অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। ফলে এ বারের মেলার স্টার অ্যাট্রাকশন ছিলেন তিনিই। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রেজওয়ানার ‘বাংলাদেশি’ পরিচিতি নিয়ে আপত্তি উঠছে কোনও কোনও মহলে।

মধ্যমগ্রাম নাগরিকবৃন্দ নামে একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। যে পেজের সদস্য সংখ্যা ৮০ হাজার পার করে ফেলেছে। কয়েক দিন আগে সেই পেজে অ্যাডমিনের তরফে একটি পোস্টে লেখা হয়— ‘একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে মধ্যমগ্রাম পুরসভার কাছে আবেদন জানাচ্ছি, আগামী ২৮ ডিসেম্বর মধ্যমগ্রাম পরিবেশ মেলায় বাংলাদেশের শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গান পরিবেশনা অবিলম্বে বাতিল করুন। বাংলাদেশের কোনও শিল্পীকে প্লিজ় কোনও অনুষ্ঠান করতে দেবেন না। আগে দেশ, তার পর সব কিছু।’

পেজের অ্যাডমিন রূপক দে বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার চলছে। ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননা করছে সে দেশের কট্টরপন্থীরা। এই পরিস্থিতিতে ও দেশের শিল্পীরা কোনও প্রতিবাদ করছেন না। আমাদের কাছে জাতীয়তাবোধ আগে। তাই আমরা বাংলাদেশের শিল্পীর অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছি।’

পুরপ্রধান নিমাই ঘোষ সেই আপত্তি উড়িয়ে বলেন, ‘যে কোনও দেশের শিল্পীকেই আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা শিল্পীদের নিয়ে বিভাজনের রেখা টানতে চাই না। এ নিয়ে পুরসভার কাছেও কেউ কোনও আপত্তি তোলেননি।’

এ কথাও ঠিক, ওই ফেসবুক পোস্টের সমর্থনে অনেকে কমেন্ট করলেও রেজওয়ানাকে এ ভাবে ‘ব্যান’ করায় আপত্তি জানিয়েছেন শহরের অনেকেই। যেমন মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা রবিন বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার আমি সমর্থন করি না। কিন্তু এ ভাবে একজন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীর অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি তোলাও ঠিক নয়।’

শুভমিতা দত্ত চৌধুরি বলেন, ‘রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনাটাও সৌভাগ্যের। তাঁর মতো এক জন শিল্পীর অনুষ্ঠান বাতিল কোনও মতেই সমর্থন করি না।’

এ বিষয়ে ‘দেশের সময়’–এর পক্ষ থেকে রেজওয়ানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

Advertisement
Tags: featured

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন