Rahul Arunoday Banerjee: শেষবার বাড়ি ফিরল বাবিন , ময়নাতদন্তে ভয়াবহ ছবি ,রাহুলের ফুসফুসে বালি ,কলকাতায় আনা হল দেহ

0
81

দীর্ঘ অপেক্ষা। রবিবার সন্ধ্যায় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunodoy Banerjee Death) প্রয়াণের খবর সামনে আসার পর থেকেই শোকে পাথর গোটা বাংলা। গত ২৪ ঘণ্টা আগেও তিনি (Rahul Arunodoy Banerjee News) ছিলেন। শুটিং করছিলেন। আচমকাই এক অঘটন। তাতেই সব শেষ। সেই থেকেই রাহুলের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। শত শত অনুরাগীরা, ইন্ডাস্ট্রির সদস্যরা।

রবিবার রাত থেকেই রাহুলের বাড়িতে সকলের আনাগোনা শুরু হয়। সোমবার সকাল থেকে যে ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। কথা ছিল এদিন সকাল ১০টায় ময়নাতদন্ত হবে অভিনেতার। সেইমতো তমলুক মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় মরদেহ। ময়নাতদন্ত শেষ হতেই কলকাতার পথে রাহুলের মরদেহ নিয়ে রওনা হন তাঁর বন্ধুরা। অবশেষে বাড়ি ফিরল সকলের প্রিয় বাবিন।

সকলেই ভিড় জমিয়ে অপেক্ষা করছিলেন সকাল থেকে। সেখানেই একে একে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে থাকেন তাঁরা। অভিনেতা থেকে শুরু করে শুটিং সেটের বিভিন্ন কলাকুশলিরা এদিন অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর। শ্রদ্ধা জানালেন স্বরূপ বিশ্বাস। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত হয়েছেন বন্ধু-পরিজনেরা। রয়েছেন পাড়া প্রতিবেশীরাও। এখান থেকেই তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হবে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে।

প্রসঙ্গত, অভিনেতার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রথম থেকেই অভিনেতার মৃত্যুর তদন্ত দাবি করেছিলেন বিভিন্ন শিল্পীরা।

কী উঠে আসে প্রাথমিক রিপোর্টে? 

রাহুলের ময়নাতদন্ত (Rahul Banerjee Postmortem) শেষ হওয়ার পরই আরও স্পষ্ট মৃত্যুর ভয়াবহতার ছবি (Rahul Banerjee Death Mystery)। প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে একাধিক আশঙ্কাজনক তথ্য, যা নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাহুলের শরীরের ভেতরে যে ছবি পাওয়া গিয়েছে, তা কোনও সাধারণ ডুবে যাওয়ার ঘটনা নয়। তাঁর ফুসফুসে জমে ছিল অস্বাভাবিক পরিমাণ বালি ও নোনা জল এতটাই, যে ফুসফুসের আকার ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, খাদ্যনালিতেও মিলেছে বালি ও সমুদ্রের জল। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বক্তব্য, অল্প সময় জলে থাকলে এমনটা হয় না। অর্থাৎ, রাহুল অনেকক্ষণ জলের নীচে ছিলেন। সম্ভবত এক ঘণ্টারও বেশি।

চিকিৎসক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের শারীরিক অবস্থা ইঙ্গিত দেয় যে, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকার ফলেই শরীরের বিভিন্ন অংশে নোনাজল প্রবেশ করে এমন পরিস্থিতির হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এই তথ্যটাই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ, ঘটনাস্থলের একাধিক বয়ান বলছে, দুর্ঘটনার পর খুব দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু ময়নাতদন্ত যেন সেই দাবি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। যদি সত্যিই দ্রুত উদ্ধার করা হয়ে থাকে, তবে শরীরে এত বিপুল পরিমাণ জল ও বালি এল কীভাবে?

এখানেই খুলছে নতুন প্রশ্নের দরজা। উদ্ধার করতে দেরি হয়েছিল? নাকি তাঁকে খুঁজে পেতেই অনেকটা সময় লেগে যায়? প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘ সময় তাঁকে দেখা যায়নি। আবার প্রোডাকশন টিমের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। এই দ্বন্দ্বই এখন তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় ধাঁধা।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, রাহুলের শরীর থেকে ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। তা পাঠানো হয়েছে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য। তাঁর শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ছিল কি না, সেটাও এখন পরীক্ষাধীন। যদিও প্রাথমিক রিপোর্টে সেই বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি, তবু তদন্তকারীরা কোনও সম্ভাবনাকেই এখনই উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

সব মিলিয়ে, রাহুলের এই মৃত্যুর ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনার গল্প নয়। এটা সময়ের হিসাব মেলানোর, উদ্ধার প্রক্রিয়ার প্রশ্নের গল্প, আর একের পর এক অসঙ্গতির জটিল সমীকরণ। যতই তথ্য সামনে আসছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে, ঘটনাটা যতটা সরল মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা নয়।

ময়নাতদন্তের পরই শববাহী গাড়িতে করে রওনা দেয় অভিনেতার নিথর দেহ, গন্তব্য তাঁর প্রিয় বিজয়গড়ের বাড়ি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেই ঠিকানার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তাঁর আবেগ, সেই বাড়িতেই ফিরবেন তিনি। তবে আর জীবিত নয়, নিঃশব্দে, শেষবারের মতো।

Previous article‘ইয়ার এন্ডিং’-এর চাপের মধ্যেই বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত, ব্যাপক ভোগান্তিতে যাত্রীরা
Next articleTMC Candidate: বনগাঁ দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী ঋতুপর্ণার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির: দেখুন ভিডিও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here