পুরীতে শুরু রথযাত্রা, উপচে পড়া ভিড় সকাল থেকে, বিকেল ৪টেয় রশিতে পড়বে টান
deshersamay


হীয়া রায়
আজ বৃহস্পতিবার রথযাত্রা। ওড়িশার পুরীতে ভোর থেকেই শ্রীমন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড়। দেশ-বিদেশ থেকে কয়েক লক্ষ মানুষ পৌঁছে গিয়েছেন রথযাত্রা উপলক্ষে। বিকেল ৪টেয় রথের দড়িতে টান দেবেন লক্ষ লক্ষ ভক্ত। জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা তিনটি পৃথক রথে চেপে গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। উৎসবকে ঘিরে শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ও বিশেষ যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। সকাল থেকেই পুজোর নানা নিয়ম-অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে পুরীতে।

এদিন ভোর ৬টায় মঙ্গল আরতির মাধ্যমে রথের সূচনা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে মৈলম, তড়প লাগি, রোষ হোম, অবকাশ, সূর্যপুজো, দ্বারপাল পুজো এবং সকালের ভোগের অনুষ্ঠান হবে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হবে পাহান্ডি। এই পর্বে গর্ভগৃহ থেকে দেবমূর্তিগুলিকে রথে আনা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে সেই আচার শেষ হওয়ার কথা। পরে ছেরা পাহানরা-সহ অন্যান্য রীতি সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেল ৪টেয় শুরু হবে রথ টানা।

বিশ্বাস অনুযায়ী, বছরে একবার জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা শ্রীমন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরে যান। গুণ্ডিচা মন্দিরকে তাদের মাসির বাড়ি হিসেবে মানা হয়। এই যাত্রাই রথযাত্রা নামে পরিচিত। অন্যান্য উৎসবের মতো ভক্তরা মন্দিরে না গিয়ে এদিন দেবতারাই মন্দির থেকে বেরিয়ে মানুষের মধ্যে আসেন। সকলকে দেখা দেন। সেই কারণেই রথযাত্রার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

১৬ জুলাই রথযাত্রার পর ২০ জুলাই হবে বহুড়া যাত্রা বা প্রত্যাবর্তন। ২৪ জুলাই সোনা বেশ, ২৬ জুলাই আধর পান এবং ২৭ জুলাই নীলাদ্রি বিজের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের উৎসব।

প্রতি বছর নতুন কাঠ দিয়ে তিনটি রথ তৈরি করা হয়। আগের বছরের রথ ব্যবহার করা হয় না পুরীতে। রথের দড়ি টানায় অংশ নিতে পারেন সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষজন। সমতা এবং সর্বজনীনতার বার্তাও বহন করে এই উৎসব।

লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে পুরীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। নজরদারিতে রয়েছে সিসিটিভি এবং ড্রোন। রথযাত্রাকে ঘিরে প্রশাসনের তরফে ট্র্যাফিক ও জননিয়ন্ত্রণের বিশেষ পরিকল্পনাও কার্যকর করা হয়েছে।
