পুজোর পরই পুরভোট! আপনার এলাকা কি তালিকায় আছে? আগামিকাল জেলাশাসকদের নিয়ে বৈঠকে রাজ্য নির্বাচন কমিশন, প্রস্তুতি তুঙ্গে
deshersamay

ডিসেম্বরের মধ্যেই কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে বলে আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । এবার তৎপরতা পৌঁছল একেবারে চরম পর্যায়ে। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট শেষ করতে দফায় দফায় বসছে বৈঠক। সবরকমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

রাজ্যে বকেয়া পুরসভাগুলির ভোট করাতে প্রশাসনিক তোড়জোড় শুরু করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন । বুধবার বেলা ১১টায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। অথচ তার আগের দিনই, অর্থাৎ মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে কমিশন জানিয়েছে, ঝুলন্ত একাধিক আইনি মামলার কারণে বহু ইভিএম এবং সিসিটিভি ফুটেজ আটকে থাকায় অবিলম্বে ভোট ঘোষণার ক্ষেত্রে বড়সড় বাধা তৈরি হয়েছে।

এই আইনি জটিলতার মাঝেই ভোটের প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। যে যে জেলায় পুর নির্বাচন বাকি রয়েছে, সেই সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের বুধবার বেলা ১১টায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রধান দফতরে জরুরি বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোথায় কোথায় হবে ভোট
কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফায় উল্লেখযোগ্য হল পাঁচটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, যার মধ্যে রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর, দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি। উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ের কার্সিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর এবং ধূপগুড়ি। তাছাড়া বালি, ডোমকল, পূজালি, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্প এবং নলহাটি- বেশ কয়েকটি।

কমিশন সূত্রের খবর, আইনি জট দ্রুত কাটিয়ে ইভিএম মুক্ত করা সম্ভব হলে তবেই জেলাশাসকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভোটের চূড়ান্ত দিনক্ষণ চড়ান্ত করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানায়, বর্তমানে রাজ্যে মোট ২৬টি নির্বাচনী মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রচুর সংখ্যক ইভিএম এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সিসিটিভি ফুটেজ আইনি সংরক্ষণে রাখতে হচ্ছে।
কমিশনের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে মামলাগুলি অমীমাংসিত পড়ে থাকায় পরবর্তী নির্বাচনের পরিকাঠামো সাজাতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। সামনেই বকেয়া পুরভোট, কিন্তু পর্যাপ্ত ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ না মিললে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে।
প্রসঙ্গত কিছু দিন আগেই বিধানসভায় বিল পাশের মাধ্যমে কলকাতা ও হাওড়ার ওয়ার্ড বাড়ানোর বিল পাশ করানো হয়েছে। আবার সোমবার পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের একটি বিজ্ঞপ্তি অনুজায়ি, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনেও আসন সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে পালা বদলের পর একাধিক পুরবোর্ডে পৌর প্রতিনিধি পদত্যাগের কারণে পুরপ্রশাসক বসানো হয়েছে। আবার, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার জানিয়েছেন, কোনও প্রশাসকই ৬ মাসের বেশি রাখা হবে না। তার আগেই ভোট করার পক্ষপাতি রাজ্য সরকার। এই আবহে, বুধবারের বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
ফের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা
বিধানসভা নির্বাচনের পর পুরভোটেও ফের একাধিক নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা। কারণ, এসআইআর হওয়ার পর যখন বিধানসভা নির্বাচন হয়, তখন কয়েকলক্ষ নাম বিচারাধীন ছিল। ট্রাইবুনাল তৈরি করে সেই সব বাদ পড়া নামের নিষ্পত্তি করার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। বহু নাম এখনও বিচারাধীন। কমিশন ঠিক করেছে, গত ১ জুলাই যে ফাইনাল রোল প্রকাশ হয়েছে, তার উপর নির্ভর করেই হবে পুরভোটের ভোটার তালিকা। সাধারণত জুলাই মাসের পর অক্টোবরে ফের একবার রোল প্রকাশিত হয়। কিন্তু অক্টোবর আসতে অনেক দেরি, তাই জুলাই মাসের রোল অনুযায়ীই ভোট হবে।

পুরভোটে কোনও অশান্তির আশঙ্কা থাকছে না বলে আত্মবিশ্বাসী পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “এটা মোদীর সরকার, এটা শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। কোনও রক্তক্ষয় হবে না। মানুষ এমনিই ভোট দেবে।”
