অম্বানীর বাড়ির গণেশপুজোয় মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দুর মুম্বই সফর ঘিরে শিল্পমহলে শুরু জল্পনা
deshersamay

অনন্ত অম্বানীর বাড়ির গণেশচতুর্থীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোমবার মুম্বই গেলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার দুপুরে নিউ টাউনে নির্ধারিত অনুষ্ঠান সেরে মুম্বইয়ের বিমান ধরেন তিনি। মুম্বই যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীকে এই সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনও স্পষ্ট জবাব দেননি তিনি। তবে তাঁর এই সংক্ষিপ্ত সফরকে নিছক ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ হিসেবে দেখছে না প্রশাসনিক মহল।

পশ্চিমবঙ্গে বিপুল শিল্প বিনিয়োগ সুনিশ্চিত করতে মুম্বই রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে নতুন মূলধন ও শিল্পোদ্যোগ আনতেই তাঁর এই সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বনির্ধারিত এই সাক্ষাতে বাংলায় রিলায়েন্স গোষ্ঠীর বিদ্যমান ব্যবসায়িক পরিধি আরও বাড়ানো এবং নতুন ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগের আর্জি জানানোই মূল উদ্দেশ্য।

এই বৈঠকের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে গুজরাতে রিলায়েন্সের অধীনস্থ বিশ্বমানের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও চিকিৎসা প্রকল্প ‘বনতারা’। শিল্প ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পূর্ব ভারতে ‘বনতারা’-র একটি নতুন শাখা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আম্বানিদের। রাজ্য সরকার চাইছে উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স কিংবা রাঢ় অঞ্চলের পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ অরণ্য অঞ্চলকে এই প্রকল্পের উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরতে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পুরুলিয়া সফরে গিয়ে দক্ষিণবঙ্গের প্রথম বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণার পরিপ্রক্ষিতেই আম্বানিদের ‘বনতারা’ প্রকল্পকে রাজ্যে নিয়ে আসার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।

গত মে মাসে রাজ্য সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঝিমিয়ে থাকা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে একাধিক সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাম জমানায় সিঙ্গুর থেকে টাটাদের বিদায়ের পর রাজ্যে যে শিল্পখরা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠাকেই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে নবান্ন।

এই লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ধারাবাহিকভাবে বিশিষ্ট শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, এমনকি আধুনিকীকরণ করা হয়েছে রাজ্য শিল্পনীতিও। মাত্র গত শনিবারই শিল্পপতি কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে ইতিবাচক বৈঠক করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। সেই ধারাবাহিকতায় মুম্বইয়ে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক বাংলায় নতুন বিনিয়োগের দরজা খুললেও খুলে যেতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

