
ভালোবাসার কোনো মানচিত্র হয় না
কলমে : মিলি দাস
আজ আমি কোনো দেশের প্রতিনিধি নই—
আজ আমি কোনো পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে কথা বলছি না।
আজ আমি দাঁড়িয়ে আছি
একজন মানুষ হয়ে।
একটি বিবেক হয়ে।
আমি প্রশ্ন তুলছি—
রাষ্ট্রের দিকে নয়,
আইনের দিকে নয়—
মানবতার দিকে।
শোনো।
একটি ছেলে—
তার শৈশব ছিল বাংলাদেশের মাটিতে।
স্বপ্ন ছিল ছোট,
কিন্তু সত্য।
আর একটি মেয়ে—
তার নিঃশ্বাসে ছিল আশ্রয়,
তার বুকের ভেতর ছিল
একটি অপেক্ষার যুদ্ধ।
তাদের ভালোবাসা ছিল না কোনো চুক্তি,
ছিল না কোনো স্লোগান।
তাদের ভালোবাসা ছিল
একটি মানবিক সত্য—
যা রাষ্ট্রের অনুমতি চায় না।
হঠাৎ
একটি দুর্ঘটনা।
একটি ভয়।
একটি বাধ্যতামূলক প্রস্থান।
ছেলেটি এসে পড়ল ভারতবর্ষে।
আর ভালোবাসা?
সে আটকে পড়ল
সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলো—
কিন্তু প্রশ্ন ছিন্ন হলো না।
বলুন—
মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক
কি ভিসার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে?
এই সম্পর্ক কি ভৌগলিক অনুমতি অপেক্ষায় থাকে?
এই কাঁটাতার
দুটি দেশ ভাগ করতে পারে,
দুটি মানচিত্রকে আলাদা করতে পারে,
কিন্তু দুটি হৃদয়?
দুটি নিঃশ্বাস?
দুটি মন? মানবিক অনুভূতি
সেগুলো কি আলাদা হয়?
মন কোনো কাস্টমস চেকপোস্ট মানে না।
মন কোনো ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ করে না।
বাংলাদেশ থেকে ভারতবর্ষে এলেও
আলো বদলায় না।
ছায়া বদলায় না।
একই জ্যোৎস্না
রাতের বুকে নামে।
একই বৃষ্টিধারা
দুই ভূখণ্ডকে ভিজিয়ে দেয়।
একই হাওয়া
বুকের ভেতর বয়ে চলে।
একই ভাষায়
ভালোবাসা কেঁপে ওঠে।
একই মায়ের কোলে
মানুষ বড় হয়।
একই ইতিহাসের দুটি ক্ষত।
তাহলে বলুন—
ভালোবাসার কি কোন পাসপোর্ট লাগে?
ভালোবাসার কি কোন ভিসা লাগে?
ভালোবাসার কি নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হয়?
ভালোবাসার কি কোন রাজনীতি হয়?
ভারতবর্ষ—
যে দেশ বলে—
“বসুধৈব কুটুম্বকম।”
মানুষ আগে।
দেশ পরে।
ভারতবর্ষ এমন একটি দেশ
জাত ধর্ম ভাষা পেরিয়ে পৃথিবীর সবাইকে আপন করে নিতে পারে,
তবে তোমরা কেন পারো না?
আমরা তো আইনের ঊর্ধ্বে গিয়েও মানুষকে মেনে নিতে শিখেছি, ভালোবাসতে শিখেছি,
তবে তোমরা কেন পারো না?
তোমরা বল— নিয়ম।
আমি বলি— মানবতা।
তোমরা বল – আইন
আমি বলি – হৃদয়
এই কাঁটাতার কি সীমান্ত—
নাকি তোমাদের ভয়?
শোনো—
ভালোবাসা কোনো অপরাধ নয়।
ভালোবাসা কোনো ষড়যন্ত্র নয়।
ভালোবাসা কোনো দেশদ্রোহ নয়।
যেদিন এই পৃথিবী বুঝবে—
মানুষ আগে, দেশ পরে—
সেদিন আর কোনো ভালোবাসা
দেশছাড়া হবে না।
মানবাধিকার মানে
শুধু খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা নয়—
মানবাধিকার মানে
ভালোবাসার অধিকার।
যে পৃথিবী ভালোবাসাকে অপরাধ বানায়—
সে পৃথিবী একদিন
নিজের মানবিকতা হারাবে।
আমি সেই দিনের অপেক্ষায় নই—
আমি সেই দিনের জন্য দাবি জানাই।
ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে আমি বলছি—
মানুষ আগে।
মানবতা আগে।
রাজনীতি পরে।
ভালোবাসার কোনো মানচিত্র নেই।
ভালোবাসাই পৃথিবীর
সবচেয়ে বড় মানবাধিকার।



