পেট্রাপোল থানার নতুন ভবন হস্তান্তর, দু’বছর আগে উদ্বোধন করেছিলেন অমিত শাহ,রাজনীতির প্যাঁচ কাটিয়ে চালু হল সেই থানা!: দেখুন ভিডিও
deshersamay



দেশের সময় : পেট্রাপোলে থানার নতুন ভবন,দু’বছর আগেই উদ্বোধন করেছিলেন অমিত শাহ । সরকার বদল হতেই রাজনীতির প্যাঁচ কাটিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ৷ দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর পেট্রাপোলের নিরাপত্তা বাড়াতে শনিবার চালু হল পেট্রাপোল থানার নতুন ভবনের।

ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে পেট্রাপোল থানা ৷ থানায় গিয়ে বাসিন্দাদের অভাব অভিযোগ জানাতে বিএসএফের কড়া তল্লাশির মুখে পড়তে হয়৷ নিরাপত্তার কারণে কেন্দ্রীয় আঁটোসাটো নিরাপত্তা থাকে ওই এলাকায়। ফলে গভীর রাতে কোন অভিযোগ জানাতে থানায় যেতে চান না স্থানীয়রা। গভীর রাতে থানায় গেলে কোনও পরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হয়৷ ব্যস্ততার সময় আধার কার্ড কিংবা ভোটার কার্ড নিয়ে যেতে ভুলে গেলে থানার সামনে পর্যন্ত পৌঁছানো যায় না। নো-ম্যানস ল্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় থানা থাকায় বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও। দেখুন ভিডিও

সে কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকার ব্যবসায়ীরা পেট্রাপোল থানাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন৷ কেন্দ্র সরকার পদক্ষেপ করে। ল্যান্ডপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ২০২৪ সালে একটি আধুনিক থানার ভবন তৈরি করা হয় সিডব্লুসি ট্রাক টার্মিনালের কাছে যশোর রোডের পাশে৷ তার উদ্বোধনও করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
ভবনের উদ্বোধন হলেও সেখানে থানা স্থানান্তরিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার থানার ভবনটি তৈরি করেছিল এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই ভবনের উদ্বোধন করায় তৃণমূল পরিচালিত সরকার সেই ভবন ব্যবহার করেনি। বিজেপির মন্ত্রীর উদ্বোধন করা ভবন ব্যবহার করেনি তৃণমূল পরিচালিত সরকার৷ রাজনৈতিক টানা পড়েনে সমস্যায় ছিলেন পেট্রোলের ব্যবসায়ী-সহ সাধারণ মানুষ৷
সরকার বদল হতেই বাসিন্দারা নতুন থানা ব্যবহারের আবেদন জানানোর পরই দ্রুত পদক্ষেপ নিল বিজেপি সরকার ৷ শনিবার সকালে ওই থানার নতুন ভবন হস্তান্তর হল পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার উপস্থিতিতে। সেই উপলক্ষে বন্দরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। খাদ্যমন্ত্রীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ জেলা পুলিশ সুপার ,এসডিপিও (বনগাঁ) সহ অন্যান্য অধিকারিকের়া ।
খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, “আমি এবং জেলার পুলিশ সুপার ভবনটি আগেই গিয়ে দেখে এসেছিলাম ৷ আজ ওই ভাবনেই থানার কাজ চালু হয়ে গেল।” ‘‘খাদ্যন্ত্রী আরও বলেন , এই এলাকায় থানার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।’’
এশিয়ার বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোল৷ দৈনিক আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য চলে এই বন্দর দিয়ে৷ পাশাপাশি দুই দেশের যাত্রী পারাপার হয়৷ জনবহুল পেট্রাপোল বন্দর ও বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ছয়ঘড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিয়ে বেশ কয়েক বছর আগে তৈরি হয়েছিল এই পেট্রাপোল থানা।

বনগাঁ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় ছয়ঘরিয়া পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে পেট্রোপাল থানাটি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ওসি হিসাবে কার্যভার নিয়েছেন ….।
পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়শনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। দিন দুপুরে বা সাত সকালে বাংলাদেশ থেকে দুষ্কৃতীরা এসে খুন, ছিনতাইয়ে মতো ঘটনা ঘটিয়ে ফের বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। বন্দর এলাকায় ট্রাক থেকে মাল চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে প্রায়ই। নতুন থানা হওয়ায় এ বার আমরা আশ্বস্ত। আশা করছি বন্দর এলাকার নিরাপত্তা বাড়বে।’’
নতুন থানার ভবনটি হয়েছে সিডব্লুসি (cwc) ট্রাক পার্কিং এলাকার কাছে। সন্ধ্যার পরে সেখানে যেতে গেলে বিএসএফের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই সমস্যা যাতে না থাকে, মানুষ যাতে যে কোনও সময়ে নির্ভয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন, পুলিশ যেন সেই ব্যবস্থা করে।
সীমান্ত এলাকায় ওই থানার সঙ্গে বিএসএফের যোগাযোগ যত নিবিড় হবে, ততই অপরাধমূলক কাজ বন্ধ হবে বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,এখানে মোবাইল ফোনের সমস্যা রয়েছে। ফলে থানার ল্যান্ড লাইন বিভিন্ন এলাকায় হোর্ডিং ও পোস্টার করে ছড়িয়ে দেওয়া হবে পুলিশের পক্ষ থেকে, যাতে যে কোনও প্রয়োজনে মানুষ দ্রুত থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

বনগাঁ থানা থেকে বন্দরের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। আইন-শৃঙ্খলাজনিত কোনও সমস্যা হলে থানা থেকে পুলিশ আসতে আসতেই দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। কোনও ঘটনা ঘটার পরে দ্রুত এলাকায় পৌঁছতে না পারলে দুষ্কৃতীরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছে, এমন উদাহরণও রয়েছে।
বনগাঁ থানার মোট আয়তন ১৫৭.০৬ বর্গ কিলোমিটার। ওই এলাকায় টহল দেওয়ার জন্য বনগাঁ থানার পর্যাপ্ত গাড়ি নেই । তার উপরে অফিসারের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। আর সব মিলিয়ে পুলিশ কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৩০ জন। ফলে ওই পরিকাঠামো নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পুলিশকে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়।

বন্দর এলাকাতেই থানা হওয়ায় দুষ্কৃতীদের উপরে পুলিশি নজরদারিও বেশি থাকবে বলে পুলিশ মহলেরও আশা। বনগাঁ থানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলারও উন্নতি ঘটবে বলেও স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস।
এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, বন্দর এলাকার নিরাপত্তা বাড়াতে এখানে একটি থানা চালু হোক। সেই দাবি পূরণ হওয়ায় খুশি তাঁরাও।

Leave a Reply