প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

নতুন ঘূর্ণাবর্ত নেই বঙ্গোপসাগরে! স্বস্তি রাজ্যে , রোদ-বৃষ্টির খেলা দক্ষিণবঙ্গে, উপগ্রহে ধরা পড়ল ছবি

deshersamay

Share article:
হীয়া রায়

এই রোদ, এই বৃষ্টি। সকাল থেকেই চলছে এমন খেলা। উড়ো মেঘে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণবঙ্গে। পড়শি রাজ্য ওডিশায় নিম্নচাপ সরে গেলেও তার টানে উপকূল থেকে বাংলাদেশ হয়ে মেঘ ঢুকছে বাংলায়। সেই উড়ো মেঘই বিক্ষিপ্ত কয়েক পশলা বৃষ্টি নামাচ্ছে বুধবার সকাল থেকে। দোসর হচ্ছে ভ্যাপসা গরম। বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন যখন খটখটে রোদ, কিছু দূর যেতেই দেখা মিলছে বৃষ্টির। আজ দিনভর এমনই থাকবে আবহাওয়ার গতিবিধি।

তবে আপাতত কিছুটা স্বস্তি দক্ষিণবঙ্গে। নিম্নচাপের প্রভাব কমে আসায় ভারী বৃষ্টির দাপট থেমেছে। তবে বুধবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলার আকাশ মেঘলা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও হতে পারে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
কলকাতাতেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আপাতত শহরে ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই। ফলে দৈনন্দিন জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম।

এদিকে উত্তরবঙ্গে এখনও পুরোপুরি কাটেনি দুর্যোগের আশঙ্কা। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের উপরের দিকের পাঁচ জেলার কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করেছে হাওয়া অফিস। বাকি জেলাগুলিতেও দফায় দফায় বৃষ্টি চলার কথা।

আবহাওয়াবিদদের মতে, যে গভীর নিম্নচাপটি কয়েকদিন আগে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal) থেকে তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন স্থলভাগের অনেকটা ভিতরে ঢুকে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে ঘণ্টায় প্রায় ১২ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছে। ধীরে ধীরে শক্তি হারাচ্ছে এই সিস্টেম। বর্ষার নিম্নচাপ সাধারণত ধীর গতিতেই অগ্রসর হয়, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়। আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রেও সেটাই হচ্ছে।

ইসরোর (ISRO) ইনসাট-৩ডিআর উপগ্রহের সাম্প্রতিক ইনফ্রারেড চিত্রে ছবি ধরা পড়েছে এর ছবি। গভীর নিম্নচাপটি এখন ছত্তীসগড়, ওড়িশা ও মধ্যপ্রদেশের উপর বিস্তৃত। অন্যদিকে মহারাষ্ট্র উপকূল সংলগ্ন এলাকায় যে ঘন মেঘ দেখা যাচ্ছে, তা নতুন কোনও নিম্নচাপের কারণে নয়। আরব সাগর থেকে আসা জলীয় বাস্প পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় বাধা পেয়ে বৃষ্টিপাত ঘটাচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে  নতুন করে কোনও ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ তৈরি হয়নি। মৌসম ভবনের পর্যবেক্ষণ, উত্তর বঙ্গোপসাগরে ছড়ানো মেঘ ছাড়া সংগঠিত কোনও নিম্নচাপ নেই বর্তমানে। একইভাবে আরব সাগরের উপর যে দুর্বল ঊর্ধ্বস্তরের ঘূর্ণাবর্তের কথা আগে জানানো হয়েছিল, সেটিও আরও দুর্বল হয়েছে।

ফলে আপাতত নতুন কোনও শক্তিশালী আবহাওয়া সিস্টেম তৈরির সম্ভাবনা নেই। তবে বর্তমান নিম্নচাপের টেনে আনা জলীয় বাষ্পের জেরে আগামী কয়েকদিন দেশের পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য অংশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও মেঘলা আকাশ ও দফায় দফায় বৃষ্টি বজায় থাকবে।

সমুদ্রে নিম্নচাপের প্রভাব কেটে যাওয়ায় এ দিন ভোর থেকেই মৎস্যজীবীদের জন্য আর কোনও সতর্কবার্তা নেই। ফলে তাঁরা স্বাভাবিক ভাবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারবেন। ২৯ জুলাই থেকে গামী পাঁচ দিন দক্ষিণবঙ্গে কোথাও ভারী বা অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় বিকেল পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে।

অন্যদিকে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির হলুদ থেকে কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। সপ্তাহান্তে অর্থাৎ শনিবার ও রবিবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন