

পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্সের খোঁজ মিলতেই তৎপর রাজ্য প্রশাসন । কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফে বিশেষজ্ঞদের একটি দল রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যেই নিপা সংক্রমণ রুখতে বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার ।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পাঁচ সদস্যের চিকিৎসক দলের তৈরি এই নির্দেশিকায় নিপায় আক্রান্ত, উপসর্গযুক্ত রোগী এবং তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য স্পষ্ট নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোয়ারেন্টিন ও সংস্পর্শ সংক্রান্ত নির্দেশ
গাইডলাইনে বলা হয়েছে – নিপায় আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত রোগীর রক্ত, লালা, দেহরস, হাঁচি–কাশির ড্রপলেটের সংস্পর্শে এলে ২১ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক। রোগীর সঙ্গে বন্ধ বা সীমাবদ্ধ জায়গায় সময় কাটালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘হাই রিস্ক কন্ট্যাক্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিকে দিনে দু’বার শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে। উপসর্গ দেখা দিলেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখতে হবে।

রোগীর সংস্পর্শে আসাদের জন্য নিয়ম
নিপায় আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত রোগীর জামা-কাপড় বা সরাসরি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তাঁদের প্রতিদিন ফোন করে খোঁজ নেবে স্বাস্থ্য ভবন। কারও শরীরে উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোগীর দেখাশোনায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করতে হবে বলে গাইডলাইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্দেশ
যাঁদের কোনও উপসর্গ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলকভাবে একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

অন্যদিকে, উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি বাধ্যতামূলক। যেহেতু নিপার জন্য নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই পরীক্ষামূলকভাবে দুটি বিকল্প অ্যান্টিভাইরাল প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা সংক্রান্ত সরকারি প্রোটোকল
নিপা সন্দেহ হলে দ্রুত RTPCR পরীক্ষার (RTPCR Test) জন্য নমুনা পাঠাতে হবে। একদিনের মধ্যে অন্তত দু’বার রিপোর্ট নেগেটিভ না এলে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
স্বাস্থ্যকর্মীরা উপসর্গহীন অবস্থায় নিপা রোগীর সংস্পর্শে এলে PPE কিট ও মাস্ক ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন, তাঁদের কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজন নেই।
স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমণ ঠেকাতে দু’সপ্তাহ বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিপা আক্রান্ত রোগীর দায়িত্বে থাকবেন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা।
যাঁদের নিপার পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে, তাঁদের পাঁচ দিন অন্তর লালারস, রক্ত ও ইউরিনের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। একদিনের মধ্যে দু’বার নেগেটিভ রিপোর্ট না এলে রোগীকে ছাড়া হবে না। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও ৯০ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ রয়েছে।
আক্রান্তদের বর্তমান অবস্থা
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, নিপায় আক্রান্ত দুই নার্সের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে এবং তাঁর ট্র্যাকিওস্টমি করা হয়েছে। অন্য নার্সের জ্ঞান ফিরেছে এবং তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকেও সরানো হয়েছে। নতুন করে কারও অবস্থার অবনতি হয়নি।

সবচেয়ে স্বস্তির খবর – রাজ্যে নতুন করে নিপা আক্রান্তের খোঁজ মেলেনি। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য দাদরা থেকে বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও আনা হয়েছে।
নিপা মোকাবিলায় রাজ্যের এই কড়া ও বিস্তারিত গাইডলাইন পরিস্থিতি সামাল দিতে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর প্রশাসনের।




