

নিপা আক্রান্ত ফিমেল নার্সের মৃত্যু। বৃহস্পতিবার বিকেলে বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় বলে খবর হাসপাতাল সূত্রে। ভেন্টিলেশন থেকে বেরিয়েছিলেন জানুয়ারির শেষে। তবে নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেম কাজ করছিল না ভালো করে। দীর্ঘ সময় কোমায় থাকায় ইমিউনিটিও তলানিতে চলে গিয়েছিল। তার উপরে ফুসফুসে সংক্রমণ হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত্যু হয় তাঁর।

বারাসতের হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, মহিলা নার্সের ডায়রিয়া হয়েছিল, তাঁর জ্বরেও ভুগছিলেন। সেই অবস্থাতেই প্রথমে কাটোয়া, তারপর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং শেষে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। রক্তের নমুনা পরীক্ষায় জানা যায় তিনি নিপা আক্রান্ত ।

১৪ জানুয়ারি থেকে বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই নার্স। প্রসঙ্গত, এখানেই কর্মরত ছিলেন তিনি। গত ৩৯ দিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, নিপায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে নার্সের শরীরে যে ক্ষতি হয়েছিল, তা সামলে উঠতে পারেননি, যার কারণেই এই মৃত্যু বলে অনুমান।

এই মহিলা নার্সের সঙ্গেই আরও একজন পুরুষ নার্স নিপা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে তাঁকে কয়েকদিন আগেই হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতেই নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বাংলায়। এই দুই নার্সের সংক্রমিত হওয়ার খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর । নিপা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই মহিলা নার্সের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তিনি কোমায় চলে যান। যাঁরা এই দু’জনের সংস্পর্শে এসেছিলেন, এমন ৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছিল। যদিও তাঁদের কারও শরীরের ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি।

রাজ্যের বন বিভাগ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি মিলিয়ে কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৯টি বাদুড় ধরা হয়েছিল। প্রতিটি বাদুড়ের শরীর থেকে তিন ধরনের সোয়াব নিয়ে আরটিপিসিআর পরীক্ষা (Bats RT-PCR Test Negative) করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, সব বাদুড়ই নিপা ভাইরাসের জন্য নেগেটিভ। তবে একটিতে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট হয়, ওই বাদুড় অতীতে নিপার সংক্রমণ বহন করেছিল। অর্থাৎ, বর্তমানে কোনও বাদুড়ের শরীরে ভাইরাস নেই। তবে মহিলা নার্সের মৃত্যুর ঘটনায় নিপা ভাইরাস নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ল।





