Mukul Roy: প্রয়াত প্রবীণ রাজনীতিক মুকুল রায়, শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে

0
169

তাঁর তুখোড় রাজনৈতিক মগজাস্ত্রের ধারভারের কারণে তুলনা টানা হতো চাণক্যের সঙ্গে। তাঁকে সমীহ করতেন বিরোধীরাও। কিন্তু জীবনের শেষ কয়েক বছরে রাজনীতির প্যাঁচ-পয়জ়ার তো দূর, নিজের রাজনৈতিক পরিচয় মনে করতে বেগ পেতে হতো তাঁকে। ৬০০ দিনের অসম যুদ্ধ শেষে পরাজিত একদা তৃণমূলের ‘চাণক্য’ বলে পরিচিত মুকুল রায়। রবিবার গভীর রাতে শহরের বেসরকারি এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। পরিবারের তরফে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ছেলে শুভ্রাংশু রায়।

মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন অনুরাগীরা।

বেশ কয়েক মাস ধরেই গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক মহলে।

মুকুল রায় তৃণমূলে এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের রেল মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।

পরে দলের সঙ্গে মনোমালিন্য হয় ও ঘাসফুল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। শেষ কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন।

কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক এবং দুঁদে রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে রাজনৈতিক মহলে। প্রয়াত নেতার দীর্ঘদিনের সতীর্থ কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সতীর্থের প্রয়াণের খবরে শোকার্ত নেতার স্মৃতিচারণে উঠে এল পুরোনো কথা। তিনি বলেন, ‘মুকুল রায় আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন একজন পার্টি লিডার ছিলেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বহু আন্দোলনে পা মিলিয়েছিসে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম থেকে উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গের বহু লড়াইতে এক সঙ্গে কাজ করেছি। গত কয়েকবছরে খুব অসুস্থ ছিলেন। তাঁর ছেলে তাঁকে সুস্থ করার অনেক চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হলো না। একটা দিন হয়তো এমন আসে। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।’

বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন CPM-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও। তিনি বলেন,‘গত দেড়-দু’বছর ধরে সাংঘাতিক অসুস্থ ছিলেন। এতটা কষ্টে ছিলেন যে, শেষ কয়েকটা বছর ওঁকে দেখে খারাপ লাগত। রাজনীতিতে দলবদলের ধারার মূল লোক হিসেবে সকলের স্মৃতিতে থাকবে মুকুল রায়ের নাম। যে কোনও মৃত্যুই দুঃখের। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।’

শিবির বদলে ২০১৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন মুকুল রায়। অল্প সময়ের জন্য হলেও তাঁকে রাজনৈতিক ময়দানে কাছ থেকে দেখেছেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এত বড় মাপের মানুষের চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন। মুকুলদার সঙ্গে কাজ করেছি। অনেক কিছু শিখেছি। শেষ জীবনে তাঁকে দেখে কষ্ট হতো। মন খারাপ লাগতো। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি তাঁর চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছি না। প্রবীণ এক রাজনীতিবিদকে আমরা হারালাম।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে যান। এর পরেই দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বিধানসভার স্পিকার মুকুল রায়ের পদ খারিজ করতে অস্বীকার করায় মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্ট মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেওয়া বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে।

ছেলে শুভ্রাংশু রায় এদিন এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ বাবা মারা গিয়েছেন। আপাতত তিনি কাঁচরাপাড়ায় রয়েছেন। সেখান থেকে কলকাতায় যাবেন। হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর দেহ। সোমবারই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে হবে পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

বর্ষীয়ান এই নেতার প্রয়াণে শাসক–বিরোধী ভেদাভেদ ভুলে শোকবার্তা দিতে শুরু করেছেন বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা আজ স্মরণ করা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তাঁর বিদায় নিঃসন্দেহে রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় শূন্যতা তৈরি করল।

Previous article‘আপনারা তো এমনিই নগ্ন, পোশাক খোলার কী ছিল?’ এআই সামিটে বিক্ষোভ নিয়ে কংগ্রেসকে বিঁধলেন মোদী
Next article‘আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী…’, প্রাক্তন সহযোদ্ধার স্মৃতিতে মমতার টুইট , মুকুলের প্রয়াণে  বাংলায় শোকপ্রকাশ মোদীর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here