‘আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী…’, প্রাক্তন সহযোদ্ধার স্মৃতিতে মমতার টুইট , মুকুলের প্রয়াণে  বাংলায় শোকপ্রকাশ মোদীর

0
121

বাংলা রাজনীতির আকাশে গভীর শোকের ছায়া। প্রবীণ রাজনীতিক মুকুল রায় প্রয়াত হয়েছেন । রবিবার গভীর রাতে খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে নেমে আসে শোকের ছায়া। হাসপাতালের বাইরে জড়ো হতে থাকেন অনুরাগীরা। ছেলে শুভ্রাংশু রায় গভীর রাতে বাবার প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কাঁচরাপাড়া থেকে কলকাতায় এসে পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।

মুকুল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বার্তায় ব্যক্তিগত স্মৃতি ও রাজনৈতিক সহযাত্রার দীর্ঘ ইতিহাস উঠে এসেছে।

তিনি লিখেছেন, হঠাৎ এই মৃত্যুসংবাদ তাঁকে বিচলিত ও মর্মাহত করেছে। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গী—এই পরিচয়েই তিনি মুকুল রায়কে স্মরণ করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মুকুলের অবদান ছিল অসামান্য, এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলানো থেকে শুরু করে সংগঠনের ভিত মজবুত করা, সব ক্ষেত্রেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল সর্বজনস্বীকৃত।

রাজনৈতিক পথচলায় মতভেদ এসেছে, ভিন্ন দলেও গিয়েছেন, আবার ফিরেও এসেছেন, তবু বাংলার রাজনীতিতে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও অবদান অম্লান থাকবে বলেই মত মুখ্যমন্ত্রীর। ব্যক্তিগতভাবে শুভ্রাংশুকে উদ্দেশ করে তিনি সাহস রাখার বার্তাও দিয়েছেন এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস জানিয়েছেন।

https://x.com/i/status/2025805783913619800

অন্যদিকে ,মুকুল রায়ের প্রয়াণে বাংলায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । তিনি লিখেছেন, “প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায় জি’র প্রয়াণে শোকাহত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওঁ শান্তি।”

https://x.com/i/status/2025792726835527736

মুকুল রায়ের প্রয়াণে (Mukul Roy demise) স্মৃতিচারণায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘রাজনীতিতে তাঁর পথ চলার শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) এক অন্যতম ভিত্তি-স্তম্ভ। দলের গঠনের সময় থেকে সংগঠনকে প্রসারিত করতে এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শক্তিশালী ভিত তৈরি করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূলের রাজনৈতিক উত্থানে যে পর্বটি আজ ইতিহাসের অংশ, সেই গঠনে মুকুল রায়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।’

https://x.com/i/status/2025787959333810310

অভিষেক আরও লেখেন, “জনসেবার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও বহু দশকের অভিজ্ঞতা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। মুকুল রায়ের চলে যাওয়া রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে এক শূন্যতা তৈরি করল।”

রবিবার গভীর রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ সল্টলেকের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুকুল। প্রায় দু’বছর অসুস্থ হয়ে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে, শেষ পর্যন্ত জীবনের লড়াইয়ে হার মানতে হল রাজনীতির ‘চাণক্য’কে।


মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন একসময়ে ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তৃণমূলের জন্মকাল থেকে সঙ্গে থাকা এই নেতা পরিচিত ছিলেন দলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’ হিসেবেও। সেই তাঁর বিজেপিতে যোগদান শোরগোল ফেলে দিয়েছিল।

২০১৭ সালে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন মুকুল রায় । ওই বছরই দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে (BJP) যোগদান করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে  কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু নির্বাচনের পরই ১১ জুন তিনি পুনরায় পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে যান। বিধানসভার ‘পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি’র চেয়ারম্যান করা হয়েছিল তাঁকে, কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করেন।

তৃণমূলে যোগ দিলেও খাতায় কলমে ছিলেন বিজেপির বিধায়ক। দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বিধানসভার স্পিকার মুকুল রায়ের পদ খারিজ করতে অস্বীকার করায় মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে । হাইকোর্ট মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্ট মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেওয়া বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। সুতরাং বলা যায়, মৃত্যু পর্যন্ত বিধায়ক পদেই ছিলেন মুকুল রায়। 

Previous articleMukul Roy: প্রয়াত প্রবীণ রাজনীতিক মুকুল রায়, শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে
Next article‘আমার স্বপ্নের সোনার বাংলা , একবার সেবা করার সুযোগ দিন’,  রাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here