হিয়া রায় হুগলি

দেশের সময় ফের হুগলিতে ভোটের প্রচরে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে সভা করতে এসে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই ফের একবার নিশানা করলেন বিজেপিকে। পাশাপাশি ভোটের পর ইন্ডিয়া জোট সরকার গঠন করবে বলে আবারও এদিন দাবি করেন মমতা। আর সেই জোটে বাইরে থেকে সবরকম সাহায্য করার ঘোষণাও করলেন তিনি।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেবে বলে বিভিন্ন সভা থেকে প্রচার করছে, আগেই  অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এ বিষয়ে গেরুযা শিবিরকে কড়া হুঁশিয়ারিও দিলেন মমতা।

মঙ্গলবার হুগলির চুঁচুড়ায় দলীয় প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বলেন, “কোনও বিজেপি নেতার ঠাকুর্দার ক্ষমতা নেই বাংলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কেউ হাত লাগালে খুন্তি, হাঁড়ি, কড়ার খেলা হবে। জানে না বাংলা অন্য রকম। মা-বোনেরা জোট বাঁধলে ওদের বদলে দিতে বেশি সময় লাগবে না।”

অর্থাৎ বাংলার নারী শক্তি তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন বলেও বার্তা দিতে চেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

এই প্রসঙ্গে টেনে এনেছেন সন্দেশখালির প্রসঙ্গও। মমতার কথায়, “সন্দেশখালিতে চক্রান্ত করে মা, বোনেদের অসম্মান করল। টাকার বিনিময়ে দেশের কাছে বাংলাকে অসম্মান করল।”

একুশের বিধানসভা ভোটের প্রচারে তৃণমূল জানিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে বাংলার মা, বোনেদের জন্য মাসে ৫০০ টাকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করা হবে। বর্তমানে টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে যথাক্রমে ১০০০ এবং ১২০০ টাকা করেছে রাজ্য। পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলায় তৃণমূলের অন্যতম ভোট ব্যাঙ্ক মহিলা শক্তি। মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেও তা বারে বারে ফুটে উঠেছে।

মোদীকে নাম্বার ওয়ান ফোর টোয়েন্টি বলে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “১৫ লাখ দেবে বলেছিল। পেয়েছেন? বছরে ২ কোটি চাকরি দেবে বলেছিল , ৫ বছরে ১০ কোটি হয়েছে? হয়নি। কারণ, মোদীর গ্যারান্টি মানে ভাঁওতা।” 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এখানকার সিপিএম-কংগ্রেসকে আমাদের সঙ্গে ধরবেন না। ওরা আমাদের সঙ্গে নেই। ওরা বিজেপির সঙ্গে আছে। আমি দিল্লির কথা বলছি। ইন্ডিয়া জোটকে নেতৃত্ব দিয়ে, বাইরে থেকে সবরকম সাহায্য করে আমরা সরকার গঠন করে দেব, যাতে বাংলায় আমার মা বোনেদের কোনওদিন অসুবিধা না হয়, ১০০ দিনের কাজে কোনওদিন অসুবিধা না হয়।’

উল্লেখ্য, রাজ্যে তৃণমূল যে সিপিএম বা কংগ্রেসের সঙ্গে নেই সেই কথা এর আগেও বারবারে বলতে শোনা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একইসঙ্গে ভোটের পর দিল্লিতে তৃণমূল যা করার করবে বলেও আগেই জানিয়েছেন মমতা। সেক্ষেত্রে এদিন কি নিজেদের অবস্থান আরও কিছুটা স্পষ্ট করলেন তৃণমূল নেত্রী? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পরে খুব স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিকমহলের একাংশে।

এদিনের সভা থেকে বিজেপির বিজ্ঞাপন নিয়ে ফের একবার সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর কটাক্ষ, ‘১০০ দিনের কাজে ৩ বছর টাকা দেয়নি, বলে টাকা নেই। আর এত বিজ্ঞাপন দেওয়ার টাকা কোথা থেকে এল? আমরা তো পালটা বিজ্ঞাপন দিতে পারছি না! আমরা কোর্টে রিট পিটিশন ফাইল করছি। প্রচারকের নাম ছাড়া, প্রকাশের নাম ছাড়া যা ইচ্ছা তাই বিজ্ঞাপন দিতে পারো না!’

আয়ুষ্মান ভারত নিয়েও এদিন কেন্দ্র তথা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘মোদীবাবু বলছেন ৭০ বছরের পর চিকিৎসা দেব। আপনার নিজের বয়স কত হয়েছে, একবার দেখেছেন? আর ভোটের সময় এই কথা কেন বলছেন? আগে বলেননি কেন? আমরা যা করেছি, আগে করেছি। নির্বাচনের সময় বললে সেটা আদর্শ আচরণ বিধি লঙ্ঘন হয়। মোদীবাবু আপনি আদর্শ আচরণ বিধি ভাঙছেন। আর নির্বাচন কমিশন একটা কলের পুতুল, বসে আছে। মোদী ঘোরাচ্ছেন, ওরা ঘুরছে।’

গত শনিবার ভাটপাড়ার জগদ্দলে রবীন্দ্রনাথের উল্টো ছবি ধরেছিলেন মোদী। সেই প্রসঙ্গও এদিন ফের টেনে মমতার শ্লেষ, “রবীন্দ্রনাথের ছবিও চেনেন না। উল্টো করে ছবি নিয়ে বলছে, আমি বাংলার নেতা! এরকম নেতাকে বাংলা গ্রহণ করবে না। বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here