ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, তমলুক, কাঁথি, ঘাটাল, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং বিষ্ণুপুর— বাংলার এই আট কেন্দ্রে ভোট শুরু হয়েছে। নজরে রয়েছেন দেব, হিরণ, জুন, সুজাতা, সৌমিত্র, অভিজিতের মতো প্রার্থীরা।

দেশের সময় শনিবার রাজ্যের যে ৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হল সেই কেন্দ্রগুলি হল বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বিষ্ণুপুর, মেদিনীপুর, তমলুক, কাঁথি, ঘাটাল, ঝাড়গ্রাম। শেষ পাঁচটি দফার মতো এই দফাও যাতে শান্তিপূর্ণ হয় তার জন্য সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বাড়ানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যাও।

এই কেন্দ্রগুলির হেভিওয়েট প্রার্থীরা হলেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী, তৃণমূলের দেব, জুন মালিয়ারা। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের ভোটে রাজ্যে মোট ৮৯২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে কুইক রেসপন্স টিমও। এই পর্বে ভোটে মোট বুথের সংখ্যা ৩ হাজার ৮০৪টি। থাকবে ২৯ হাজার ৪৬৮ রাজ্য পুলিশ।

এদিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মোতায়েন রাখা হচ্ছে ২১৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পূর্ব মেদিনীপুরের জন্য রাখা হচ্ছে ২৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাঁকুড়ার জন্য ১৭৮ কোম্পানি, ঝাড়গ্রামের জন্য ১৩৩ কোম্পানি, পুরুলিয়ার জন্য ১৩৭ কোম্পানি ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় ১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া ৯১৯ টি কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে কমিশনের তরফে।

ভোট শুরুর আগের রাতেই বাংলায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গেছে।  তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের মহিষাদলের বেতকুন্ডুতে খুন হয়েছেন এক তৃণমূল কর্মী। ঘটনায় অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে। ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে।

Abhijit Ganguly: ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী বাঁশি বাজাচ্ছিল, শ্যামের বাঁশি…’, সকাল থেকে অ্যাকশনে অভিজিৎ
অন্যদিকে ভোটগ্রহণ পর্ব শুরুর আগেই এক বুথে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তমলুকের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

হলদিয়ার এক বুথে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ায় পাশাপাশি ‘বিজেপি হটাও’ বলেও স্লোগান দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণের জন্য ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওই বুথের আশেপাশে। তারপরই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিরাপত্তারক্ষীরা সেখান থেকে বের করে নিয়ে যান।

বাংলা সহ ৪ ভাষায় ভোটদানের আর্জি মোদীর

লাস্ট ল্যাপে লোকসভা নির্বাচন। শনিবার ষষ্ঠ পর্ব। এই দফায় বিশেষভাবে নজরে রয়েছে দিল্লি। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অন্তর্বর্তী জামিনের পর দিল্লির আসনগুলিতে INDIA জোট কি বাড়তি মাইলেজ পেতে চলেছে? সেদিকে নজর রাজনৈতিক মহলের। এদিকে, ৩৭০+ আসন জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী নরেন্দ্র মোদী তথা NDA শিবির। নানামহল থেকে উঠে আসছে লোকসভা ভোটে যুযুধান দুই পক্ষের সম্ভাব্য আসন জয়ের সমীক্ষা। যদিও ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা দিন।

ঝরঝরে বাংলা সহ চার ভাষায় সাধারণ মানুষকে ভোটদানের জন্য উৎসাহিত করলেন নরেন্দ্র মোদী। বিশেষ করে মহিলা এবং পুরুষ ভোটারদের রেকর্ড হারে ভোটদানের আর্জি নমোর।

দিল্লিতে সস্ত্রীক ভোট বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের।

ভোটদানের আগে দিল্লির ঝান্দেওয়ালা মন্দিরে পুজো দিলেন BJP-র নিউ দিল্লি লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বাঁশুরি স্বরাজ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘এটি গণতন্ত্রের মেগা ফেস্টিভ্যাল। আমিও অংশ নিয়েছি এতে।’

PDP প্রধান মেহবুমা মুফতির বিস্ফোরক দাবি। তিনি বলেন, ‘বিনা কারণে দলের পোলিং এজেন্টদের থানার লক আপে আটকে রাখা হচ্ছে। কাশ্মীরের DG, LG এবং সরকারি আধিকারিকদের শীর্ষ থেকে নীচুস্তরের সমস্ত আধিকারিক এই ঘটনায় জড়িত।’

দিল্লিতে স্ত্রী লক্ষ্মীকে নিয়ে ভোট দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।
ভোটদান হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনির।
শুরু লোকসভা ভোটের ষষ্ঠ পর্ব। এই দফায় ভোটের হার বাড়বে বলে আশাবাদী কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলি।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের কথায়, ‘পাঁচ ধাপের নির্বাচনের একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে “দক্ষিণ ভারতে বিজেপি সাফ। অর উত্তর ভারতে অর্ধেক আসন পাবে। , ইন্ডিয়া জোট ৪ জুন নিশ্চিত ভাবে জয় পাবে। ৪ জুনের পর দেশবাসী তাঁদের প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বিদায় জানাবে… আমার পূর্ণ আস্থা আমাদের জোট দিল্লির সাতটি আসনই জিতবে।’

রোহতক লোকসভা আসন থেকে কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন দীপেন্দ্র সিং হুডা। বলেন, ‘আমার পূর্ণ বিশ্বাস রোহতক আসনই নয় কংগ্রেস ও তার জোট হরিয়ানার ১০টি আসনের সবক’টিতে জিতবে।’

ঝাণ্ডেওয়ালান মন্দিরে পুজো দিলেন নয়া দিল্লির বিজেপি প্রার্থী বাঁশুরি স্বরাজ।

ষষ্ঠ দফায় উত্তর প্রদেশের ১৪, হরিয়ানার ১০, বিহারের আটটি, ওডিশায় ছ’টি এবং ঝাড়খণ্ডের ১৪টিতে ভোট হবে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দিল্লির সাতটি জম্মু ও কাশ্মীরের একটিতে ভোট হবে এই পর্বে। অনন্তনাগ-রাজৌরিতে ৭ মে তৃতীয় দফায় ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ষষ্ঠ দফায় করে নির্বাচন কমিশন।

ষষ্ঠ দফায় তারকা প্রার্থী কংগ্রেসের কানহাইয়া কুমার
(উত্তর-পূর্ব দিল্লি)। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী BJP-র মনোজ তিওয়ারি। নতুন দিল্লি কেন্দ্রে প্রয়াত সুষমা স্বরাজের কন্যা বাঁশুরি, হরিয়ানার কারনালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর, শিল্পপতি নবীন জিন্দল কুরুক্ষেত্রে এবং কংগ্রেসের রাজ বব্বর গুরুগ্রামে ভোটের লড়াইয়ে।

বিশেষ নজরে উত্তর প্রদেশের সুলতানপুরের প্রার্থী মানেকা গান্ধী, আজমগড়ে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশের তুতো ভাই ধর্মেন্দ্র, নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার সদস্য রাধামোহন সিং বিহারের পূর্ব চম্পারণে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান ওডিশার সম্বলপুরে প্রার্থী। নিজের মন্তব্যের জেরে চর্চায় উঠে আসা পুরীর BJP প্রার্থী সম্বিত পাত্রও রয়েছেন এই দফাতেই। অনন্তনাগ-রাজৌরিতে পিডিপি সভানেত্রী তথা জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি রয়েছেন ষষ্ঠ পর্বে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here