প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
কথা রাখলে মুখ্যমন্ত্রী , আগের সরকারের ‘ওয়েটিং লিস্ট’ বাতিল করে ৮২ লক্ষের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা পাঠাল শুভেন্দু সরকার , হিসাব বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যসচিব ‘বাংলাদেশি ইলিশ’ বলে ভিন রাজ্যের মাছ বিক্রির অভিযোগ, বনগাঁ বাজারে হানা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের পাঁচতলা বাড়ি ভেঙে পড়ল দিল্লিতে! ধ্বংসস্তূপ থেকে ভেসে আসছে শুধুই চিৎকার,অনেক ‘পেইং গেস্ট’ পড়ুয়ার আটকে থাকার আশঙ্কা এবার পড়ুয়াদের জন্য ‘এক দেশ, এক পড়ুয়া পরিচয়পত্র’! ১০ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যে শুরু প্রক্রিয়া বকেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে   বনগাঁয় তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে টোটো চালকদের হামলা, ভাঙচুর আগুন : দেখুন ভিডিও

কথা রাখলে মুখ্যমন্ত্রী , আগের সরকারের ‘ওয়েটিং লিস্ট’ বাতিল করে ৮২ লক্ষের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা পাঠাল শুভেন্দু সরকার , হিসাব বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যসচিব

deshersamay

Share article:

সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এতদিন মাসে ১,০০০ টাকা করে বার্ধক্য, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা পাওয়া উপভোক্তাদের এবার থেকে দেওয়া হবে ১,৫০০ টাকা। প্রশাসনের তরফ থেকে মুখ‍্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের ৬৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। তবে ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের অর্থ যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছে ব্যাপক উপভোক্তা যাচাই প্রক্রিয়া।

“বিগত সরকারের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা না মানা এবং বিপুল রাজস্ব চুরির ফলে আমরা কার্যত দেউলিয়া রাজ্যে পরিণত হয়েছিলাম”— নবান্ন সভাঘরে রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করে পূর্বতন সরকারের আমলের ‘ওয়েটিং লিস্ট’ এক লহমায় বাতিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । রাজ্যের ভঙ্গুর অর্থনীতি কাটিয়ে উঠতে আরও অন্তত এক বছর সময় লাগবে জানিয়েও, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অগস্ট মাস থেকে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার কথা জানান তিনি। সোমবার রাজ্যের মোট ৮২ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে এই বর্ধিত অর্থ সরাসরি হস্তান্তরিত করা হয়েছে, যার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে বছরে ১৪,৭৭১ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

রাজ্যের হাল ফেরাতে প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও কেন্দ্রীয় সহায়তার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারত সরকারের সমস্ত প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার ফলে কেন্দ্রীয় অনুদান আসতে শুরু করেছে। পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ হওয়ায় আয় প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অর্থ সাশ্রয় ও যোগ্য মানুষের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে ভুয়ো উপভোক্তা ছেঁটে ফেলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় এক পুরুষের বিধবা ভাতা নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনে তিনি জানান, বয়স বাড়িয়ে বা ভুয়ো নথিপত্র পেশ করে ভাতা হাতিয়ে নেওয়ার কারবার আর চলবে না। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর থেকে ৫০ হাজার এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর থেকে প্রায় ৫ লক্ষ ভুয়া নাম বাতিল করা হয়েছে। ফলে শহরের সেই শূন্য স্থানে নতুন ৫০ হাজার প্রকৃত বয়স্ককে ভাতা দেওয়া সম্ভব হবে।

এই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই আগের সরকারের তৈরি সমস্ত অনিষ্পন্ন তালিকা বাতিল করে নতুন ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, এ বার থেকে ‘জনকল্যাণ শিবির’ এবং ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচিতে জমা পড়া আবেদনগুলি সরেজমিনে যাচাই করেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শেষে গ্রাম পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড স্তরে দু’দিনের বিশেষ শিবির করে নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে।

এ দিন বিশেষভাবে সক্ষম (দিব্যাঙ্গ) মহিলাদের জন্য বড়সড় আর্থিক স্বস্তির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার দিব্যাঙ্গ নারী মাসে ১,৫০০ টাকার প্রতিবন্ধী ভাতার পাশাপাশি ৩,০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা ভাতা’—অর্থাৎ মোট ৪,৫০০ টাকা করে পাবেন। অন্যদিকে, সমবয়সী স্বামীহীনা মহিলাদের ১৫০০ টাকার ভাতা ছেড়ে দিয়ে বিডিও বা পুরসভায় যোগাযোগ করে ৩০০০ টাকার অন্নপূর্ণা প্রকল্পে স্থানান্তরিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী ‘সংকল্পপত্রে’ ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও অর্থনৈতিক অনটনের জন্য এ বার ৫০০ টাকা বাড়াতে পারায় খানিক আক্ষেপ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটলে ভাতা দ্বিগুণ করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। সঙ্গে জানান, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে রাজ্যজুড়ে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালন এবং ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ভাতা হস্তান্তর-সহ এক মাস ধরে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হবে।

পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশুবিকাশ দপ্তরের অধীনে পরিচালিত একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পকে এই বৃদ্ধির আওতায় আনা হয়েছে। ন্যাশনাল ওল্ড এজ পেনশন, বিধবা পেনশন এবং প্রতিবন্ধী পেনশন- এই তিনটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ লক্ষ ৫০ হাজার উপভোক্তা রয়েছেন। এতদিন তাঁরা মাসে ১,০০০ টাকা করে পেতেন। নতুন সিদ্ধান্তে সেই ভাতা বেড়ে হচ্ছে ১,৫০০ টাকা।

এই তিনটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থায়ন রয়েছে। এতদিন ১,০০০ টাকার মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ছিল ৬০০ টাকা এবং রাজ্যের অংশ ৪০০ টাকা। মুখ্যসচিবের কথায়, ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর পর অতিরিক্ত অর্থের পুরো দায় রাজ্য সরকার বহন করবে। ফলে মোট ১,৫০০ টাকার মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ৬০০ টাকা এবং রাজ্যের অংশ বেড়ে ৯০০ টাকা হবে।

অন্যদিকে, নারী ও শিশুবিকাশ দপ্রেতর অধীনে থাকা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের প্রায় ৪৭ লক্ষের বেশি উপভোক্তার ভাতাও ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক দায় রাজ্য সরকারের।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাতা বৃদ্ধির ফলে রাজ্য সরকারের উপর বছরে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক দায় তৈরি হবে। সব মিলিয়ে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে রাজ্যের মোট বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তবে একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে উপভোক্তা তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের হিসাবে, রাজ্যের প্রায় ৭১ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে জনকল্যাণ শিবিরগুলিতে পাঁচ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদন এবং বিদ্যমান তালিকা ধরে চলছে মাঠপর্যায়ের যাচাই।

এই যাচাই প্রক্রিয়ায় মৃত ব্যক্তি, অন্যত্র চলে যাওয়া উপভোক্তা, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা ব্যক্তি অথবা ভুয়ো পরিচয়ে সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কোনও নাম বাদ দেওয়া যাবে না- এই বিষয়ে প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও উপভোক্তা প্রকৃতপক্ষে অযোগ্য, মৃত বা অস্তিত্বহীন- এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার পরেই তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

ভুলবশত কোনও প্রকৃত উপভোক্তার নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে একদিকে অযোগ্য উপভোক্তাদের বাদ দেওয়া, অন্যদিকে প্রকৃত উপভোক্তার অধিকার সুরক্ষিত রাখা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাকেই এখন প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য করা হয়েছে।

শহরাঞ্চলেও চলছে একই ধরনের যাচাই। রাজ্যের ১২১টি পুরসভা এবং ৭টি পুরনিগম এলাকায় প্রায় ৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫২১ জন উপভোক্তার তালিকা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশের, অর্থাৎ প্রায় ২ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯৪৯ জনের সমীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার অযোগ্য উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে। সম্পূর্ণ সমীক্ষা শেষ হলে এই সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছতে পারে বলে প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান।

কয়েকটি পুরসভায় অযোগ্য উপভোক্তার হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। শিউড়ি পুরসভায় প্রায় ৪৬ শতাংশ উপভোক্তাকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধুলিয়ান পুরসভায় এই হার প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং মিরিক পুরসভায় প্রায় ২৬ শতাংশ। এই পুরসভাগুলিতে পুনরায় যাচাই এবং তথ্যের ক্রস-ভেরিফিকেশনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের যুক্তি, অযোগ্য নাম বাদ পড়লে শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই বন্ধ হবে না, সেই অর্থের মাধ্যমে আরও যোগ্য মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে। অর্থাৎ উপভোক্তা তালিকা শুদ্ধিকরণকে শুধুমাত্র ‘নাম বাদ দেওয়ার’ প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে নতুন যোগ্য উপভোক্তাদের অন্তর্ভুক্তির পথ হিসেবেও দেখছে প্রশাসন।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। DBT-এর মাধ্যমে প্রকৃত উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট সময়ে ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য।

প্রশাসনের শীর্ষস্তরের বার্তা, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা কোনওভাবেই ভুয়ো বা অযোগ্য ব্যক্তির হাতে পৌঁছতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে যাচাইয়ের নামে কোনও প্রকৃত উপভোক্তাও যেন বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, উপভোক্তা তালিকার নির্ভুলতা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর করার পথে এগোচ্ছে রাজ্য।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন