Jyotipriya Mallick: মমতার হাত ছাড়লেন বালু-ও, দলের সব পদ থেকে ইস্তফা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের
deshersamay


আরও ‘একা’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার নেত্রীর হাত ছাড়লেন তাঁর প্রিয় ‘বালু’। দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। ইস্তফাপত্রে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি, তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটিতে স্থান পেয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। কিন্তু, শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগ। চিঠিতে এমনটাই জানিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

সূত্রের খবর, চিঠিতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক লিখেছেন, রক্তে তাঁর শর্করার মাত্রা ৩৫০-তে পৌঁছেছে। কিডনির জটিল সমস্যায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। তাঁর পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
কয়েকদিন আগেই উত্তর ২৪ পরগনার দায়ভার তাঁর হাতে সঁপেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু তারপরই তৃণমূলেরই সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে দিদির অত্যন্ত আস্থাভাজন বালু (Jyotipriya Mallick Resigns From All TMC Posts )
জানা গিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ করেছেন জ্যোতিপ্রিয়। এই মর্মে তৃণমূল সুপ্রিমোকে চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। তারপর এই সিদ্ধান্ত। সদ্য সমাপ্ত ছাব্বিশের নির্বাচনী প্রচারে গিয়েও যাঁর সততা ও কাজের খতিয়ান নিয়ে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন স্বয়ং নেত্রী, সেই জ্যোতিপ্রিয়ই এবার দলের যাবতীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন।

সময় যত গড়াচ্ছে, ততই যেন রাজনৈতিকভাবে একা হয়ে পড়ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চব্বিশের লোকসভা বা ছাব্বিশের বিধানসভা, ঘাত-প্রতিঘাতের আবহেও যাঁদের তিনি দলের বিশ্বস্ত স্তম্ভ বলে মনে করেছিলেন, তাঁরাই এখন একে একে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালুর নাম। গত শনিবারই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে দলের জাতীয় কর্ম সমিতির (National Working Committee) সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ ঘোরার আগেই সেই পদ-সহ তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব একঝটকায় ঝেড়ে ফেললেন তিনি।
১৯৯৮ সালে যখন বিস্তর ঝুঁকি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন থেকেই দলের প্রথম সারির সৈনিক ছিলেন এই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। নেত্রীর প্রতিটি লড়াই-আন্দোলনের বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিলেন তিনি। মমতাও বালু-কে ভরসা করেছেন বছরের পর বছর। একাধিকবার দলের টিকিট দিয়েছেন, বিধায়ক করেছেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও তুলে দিয়েছেন তাঁর কাঁধে।

পরবর্তীতে রেশন দুর্নীতি মামলায় যখন ইডি-সিবিআইয়ের জালে জড়িয়ে জ্যোতিপ্রিয়ের জেলযাত্রা হয়, তখনও কিন্তু তাঁর ওপর থেকে ভরসা হারাননি তৃণমূল নেত্রী। বরং প্রকাশ্য জনসভা ও মঞ্চে দাঁড়িয়ে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছেন এই বলে যে, ‘বালুকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে।’
এমনকি, এবারের ছাব্বিশের মহারণে হাবড়ার নির্বাচনী প্রচারে গিয়েও মমতার মুখে শোনা গিয়েছিল বালুর স্তুতি। দুর্নীতির অভিযোগে জেল খাটার পরেও দলনেত্রীর সেই অটুট আস্থার জোরেই এবারও হাবড়া থেকে ভোটের টিকিট পেয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। যদিও শেষরক্ষা হয়নি, নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারেননি তিনি। হারের পর থেকে সে অর্থে আর জনসমক্ষে বা দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায়নি জ্যোতিপ্রিয়কে।

কিন্তু মাত্র কয়েকটা দিনের ব্যবধানেই রাজনীতির চেনা স্ক্রিপ্ট সম্পূর্ণ বদলে গেল। দলে গুরুত্ব পাওয়ার পরমুহূর্তেই সদ্য পাওয়া অলঙ্করণ-সহ দলের যাবতীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বসলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। রাজনৈতিক মহল যখন এই নিয়ে তোলপাড়, তখন প্রাক্তন মন্ত্রী অবশ্য অসুস্থতার কথাই জানিয়েছেন।
ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট মত, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আসলে অনেক আগেই দেওয়ালের লিখন পড়ে ফেলেছেন। বাংলায় তৃণমূলের জাহাজ যেভাবে ডুবছে এবং দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা যে কার্যত আর নেই, তা বকলমে বুঝে গিয়েছেন এই প্রবীণ নেতা। আর সেই কারণেই গা বাঁচাতে এবং নতুন করে কোনও বিড়ম্বনায় না জড়াতে তড়িঘড়ি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।


Leave a Reply