প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

যন্তর মন্তরের আঁচ কলকাতায় , লাঠি-কাঁদানে গ্যাসে রণক্ষেত্র ধর্মতলা, ককরোচ প্রতিবাদে পুলিশের দিকে বোতল-জুতো

deshersamay

Share article:

বৃহস্পতিবার মাঝ রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো বার্তা দিতে হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর নতুন আইনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ২৬ দিন পর বৃহস্পতিবার অনশন ভেঙেছেন সোনাম ওয়াংচুক। কিন্তু তারপরও ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই আন্দোলন’ থামার লক্ষণ নেই।

নিট কাণ্ডের জেরে উত্তপ্ত কলকাতাও। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে ধুন্ধুমার কাণ্ড। ফলে কলকাতার রাজপথও আর এই উত্তাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারল না। আন্দোলনকারীদের রোখার চেষ্টা করে পুলিশ। সিজেপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মিছিল ঘিরে একেবারে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা পরিস্থিতি। ধর্মতলার মোড় কার্যত রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। প্রতিবাদকারীরা পুলিশকে টার্গেট করে বোতল এবং জুতো ছুঁড়তে থাকে।

আন্দোলনকারীদের রুখতে কাঁদানে গ্যাস চালায় পুলিশ। ফলে অফিস ছুটির সময় ধর্মতলা কার্যত তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনার জেরে দীর্ঘক্ষণ ধরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। তবে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কাজের দিনে ধর্মতলা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এদিন মিছিল হবে এটা আগে থেকেই খবর ছিল। তবে ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে এসে পরিস্থিতি একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

কলকাতাও সাক্ষী থাকলো সেই ছাত্র আন্দোলনের। ভারতের ছাত্র ফেডারেশন ও বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকে শুক্রবার, ২৪ জুলাই শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলে হেঁটেছেন বহু পড়ুয়া। সঙ্গে ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরাও। শিয়ালদহ থেকে দুপুর ৩টে ১০ মিনিটে মিছিল শুরু হয়।

পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন হাতে সেই আন্দোলনে অংশ নেন শহরের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও তরুণ-তরুণীরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। সেই দাবিতে শুক্রবার রাত জাগো কর্মসূচিরও ডাক দিয়েছে ছাত্রদের সংগঠন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি-র প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকে সিজেপি-র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস।

বৈঠক শেষে সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে কোনও আপস হবে না।” তাদের দাবি, নিট-সহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।

ফলে পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে কেন্দ্র আইন সংশোধনের পথে এগোলেও, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারী পক্ষের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। তাই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ওপরেই।

সরকারি চাকরি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লাগাম টানতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট ২০২৪ -এ সংশোধনের প্রস্তাবে শুক্রবার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সংসদ ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রের খবর, নতুন সংশোধনীতে প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে বর্তমান আইনের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি আগামী সোমবার সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভের আবহে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন