Jio IPO থেকে গ্রিন এনার্জির উপর ভর করে আগামী দশকের বৃদ্ধির রূপরেখা তৈরি করছে আম্বানি গোষ্ঠী
deshersamay


রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ় (Reliance Industries)-এর ৪৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)-এ একের পর এক বড় ঘোষণা করলেন চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি এবং তাঁর ছেলে আকাশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানি। বহু প্রতীক্ষিত জিয়ো (Jio) IPO থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, রিটেল ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং নিউ এনার্জি প্রকল্প— একাধিক ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ তুলে ধরেছে রিলায়েন্স।

AGM-এ মুকেশ আম্বানি জানান, পরিচালন পর্ষদ IPO-র জন্য ড্রাফ্ট রেড হেরিং প্রসপেক্টাস (DRHP) অনুমোদন করেছে। ১৯ জুনই তা সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI)-র কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত IPO-তে ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর ২৭ কোটি নতুন শেয়ার ইস্যু করা হবে।

এ প্রসঙ্গে মুকেশ আম্বানি বলেছেন, ‘এটি আমার, সমগ্র রিলায়েন্স পরিবারের এবং কোটি কোটি শেয়ারহোল্ডারের কাছে অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত। জিয়োর সম্ভাব্য তালিকাভুক্তি বিশ্বের সামনে প্রমাণ করবে যে ভারতও আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি সংস্থা গড়ে তুলতে পারে। আমি আপনাদের এবং ভবিষ্যতের সমস্ত নতুন লগ্নিকারীদের আশ্বস্ত করছি, জিয়োর সামনে আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’

রিলায়েন্স জিয়ো ইনফোকম (RJIL)-এর চেয়ারম্যান আকাশ আম্বানি জানান, ভারতীয়দের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে একটি নিজস্ব লো আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট কনস্টেলেশনের তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে জিয়ো। তিনি জানান, প্রত্যন্ত গ্রাম, দ্বীপাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

আকাশ আম্বানি বলেছেন, ‘ভারতেই নিজস্ব গ্রাউন্ড স্টেশন পরিকাঠামো তৈরি করছে জিয়ো। এগুলি আমাদের অংশীদার সংস্থাগুলির স্যাটেলাইট এবং ভবিষ্যতের নিজস্ব স্যাটেলাইট— দুই ক্ষেত্রেই কাজ করতে সক্ষম হবে। এর ফলে মহাকাশ থেকে ভূমি পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইকোসিস্টেম তৈরি হবে।’
AGM-এ আকাশ আম্বানি জানান, রিলায়েন্স ইন্টেলিজেন্স (Reliance Intelligence) জামনগরে ভারতের নিজস্ব AI পরিকাঠামো তৈরি করছে। এটি সম্পূর্ণ ভাবে কচ্ছের রিনিউয়েবল শক্তি প্রকল্প থেকে উৎপাদিত সৌরশক্তির উপর নির্ভর করবে। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই NVIDIA GB300 GPU ব্যবহার শুরু করেছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এই ক্ষমতা রিলায়েন্সকে বিশ্বের বৃহত্তম AI পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। কম্পিউটিং সাশ্রয়ী হলে উদ্ভাবন অনিবার্য হয়ে ওঠে।’ এ ছাড়াও ২২টি ভারতীয় ভাষায় AI পরিষেবা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রিলায়েন্স রিটেল (Reliance Retail) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ২০ হাজার স্টোরের গণ্ডি পেরিয়েছে। সংস্থার দাবি, এত কম সময়ে এশিয়ার কোনও খুচরো বিক্রেতা এই মাইলফলকে পৌঁছতে পারেনি। একই সঙ্গে জিওমার্ট (JioMart) বর্তমানে ৩,১০০-রও বেশি স্টোরের মাধ্যমে ১,২০০-র বেশি শহর এবং ৫,১০০-রও বেশি পিন কোড এলাকায় পরিষেবা দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মুকেশ আম্বানি বলেছেন, ‘আগামী দশকে আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র বিশ্বের বৃহত্তম রিটেলার হওয়া নয়, বরং বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান, মানবিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কনজ়িউমার ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।’
অয়েল-টু-কেমিক্যালস (O2C) ব্যবসাকে ভারতের ২০৭০ সালের লক্ষ্যের অন্তত ২০ বছর আগেই কার্বন-নিউট্রাল করার পরিকল্পনার কথাও জানান মুকেশ আম্বানি।
অন্যদিকে অনন্ত আম্বানি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকেই নিউ এনার্জি ব্যবসা রিলায়েন্সের আর্থিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে শুরু করবে। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই বছর থেকেই সৌর মডিউল ব্যবসা থেকে বাণিজ্যিক আয় শুরু হবে। ব্যাটারি কারখানাও এ বছর চালু হচ্ছে এবং Samsung C&T-এর সঙ্গে চুক্তিও ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।’

রিলায়েন্সের AGM-এর ঘোষণাগুলি থেকে স্পষ্ট, জিয়ো IPO-র পাশাপাশি AI, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, রিটেল এবং গ্রিন এনার্জির উপর ভর করেই আগামী দশকের বৃদ্ধির রূপরেখা তৈরি করছে আম্বানি গোষ্ঠী।

Leave a Reply